প্রি য় জ ন প ঙ্ ক্তি মা লা

কবিতা আসবে বলে
হাসান নাজমুল

চোখের পাপড়ি ছিঁড়ে বের হয় কবিতার কথা,
কবিতা আসবে বলেÑ
ঘুমের দেয়াল ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়,
ঘুমের নেশার পরে কবিতা একটি জাগ্রত বিহগ হয়ে
বসে থাকে রাতদিন; কবিতার কথাগুলো যেন
ঘুমহীন কোনো চোখ!
মাঝরাতে ঘুমগ্রস্ত চোখের ভেতর
কবিতা বসিয়ে দেয়Ñ লক্ষ লক্ষ সবুজ সকাল,
কবিতা আসবে বলেÑ
শীতল রাতের বুকে এনে দেয় উষ্ণ প্রেম
ভয়ের প্রাচীর ভেঙে অকস্মাৎ ঢুকে যায় মানবের বুকে।
প্রিয়জন-১৬১৬


এক জোড়া পায়ের ছাপ
শিশির মাহমুদ

কাচের তৈরি ঘর-সংসার ভেঙেচুরে
স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বিশাল আকাশ ছুঁই!
নীল ছায়াপথ ভেদ করে অবশেষে পাড়ি জমাই
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অন্য কোনো গ্রহে।
এক ঝলক হিমশীতল ঠাণ্ডা বাতাসে
অনুভব করি সজীব ঘ্রাণ।
নরম বালুতে এক জোড়া কোমল পায়ের ছাপÑ
প্রবল আকর্ষণে থেমে যায় আমার শতাব্দী।
শাশ্বত প্রেম হৃদয়ে লুকায়ে
শূন্য থেকে শুরু করি আবার।
জড়তার ইতিহাসকে পদতলে ছুড়ে ফেলে
গড়ে তুলি নতুন একটা পৃথিবী।
যে পৃথিবীতে কোনো বিধ্বস্তের শব্দ নেই,
যেখানে সূর্যকে ঢেকে দেয় না সুউচ্চ প্রাসাদ।
বিমূর্ত বিষাদের বিবর্ণ ক্যানভাসে
যেখানে দেখি না কারো অশ্রুসিক্ত চোখ!
যেখানে নেই বৃষ্টিশূন্য শ্রাবণ,
নেই অনাবৃষ্টিতে কৃষকের ফসলশূন্য ক্ষেত।
উত্তাল সমুদ্রের সীমাহীন আক্রোশেÑ
নেই হিংস্র মাংসাশী প্রাণীদের আবির্ভাব।
যেখানে সমুদ্রের বালুবেলায় রয়েছে মধুময় ঝাউবন,
বিশাল আকাশে পানকৌড়িদের ওড়াউড়ি।
রুপালি জ্যোৎস্নার ঢেউয়ে ভেসে ভেসে
যেখানে রয়েছে অমৃতলোকে পৌঁছে যাওয়ার স্বপ্ন।
যেখানে অজানাকে জানার নেশায়
বিপন্ন হয় না মানুষের অস্তিত্ব।
যেখানে একঘেয়ে-সাদামাটা জীবনকে উপেক্ষা করে
পরাগ মেলে শত সহস্র শাপলা-লতারা।
যেখানে সারা রাতজুড়ে আলো জ্বালায় জোনাকিরা;
ঝিঁঝিঁরা বাজায় ঘুমের নূপুর।
সেই নতুন পৃথিবীতেই বছরের পর বছর বেঁচে থাকি আমি;
বেঁচে থাকে এক জোড়া কোমল পায়ের ছাপ।

 

খুঁজি তোমায়
শফিকুল ইসলাম শফিক

চাওয়া-পাওয়ার ইচ্ছেটাও
আজকাল হতাশার ঘূর্ণিঝড়ে হাবুডুবু খায়।
বুকের জমিনে হাওয়া ঘুড়ি উড়ে।
না পাওয়ার বৃষ্টিজলে একাকী ভিজে যায় প্রেমিক মন।
মরুভূমির বুকে ধূলি ঝড়ের মতো
আমিও ঝড়ে পড়ি তিন প্রহর,
দিবারাত্রি বাতাসের গায়ে লিখি প্রণয়ের গান।
বিষণœতায় খুঁজে ফিরি সাত্ত্বিক সুখ,
কতকাল একমুঠো প্রেমের কাঙাল হয়ে হয়ে
ঘরে ফিরবো শূন্য হাতে?
আনমনে প্রতিক্ষণ আমার সাথেও
ঝিঁঝিঁ পোকার মিছিল চলে।
আমাকে মাতিয়ে তুলে করুণ সুরের
মূর্ছনায় আর আবেগে।
ভালো-মন্দের সমীকরণে
খুঁজে দেখি না অন্তঃপুরের ব্যথা।
সাজাতে চাই হাজার বছর ধরে
স্বপ্নের বাসর।
ক্ষণিকের জীবনে বেঁচে থাকার
এতটুকুই সাধ-আহ্লাদ।
ইচ্ছে করে একজনমে
বারবার তোমার-ই কাছে ফিরে যেতে!

 

নদীটা আশ্রয় খুঁজে
সুমন আহমেদ

ক্ষণিকের মায়াজালে জড়িয়েছিল নিজেকে;
একটা শামুকের ভালোবাসায় উজাড় করে দিয়েছিল
তিলে তিলে গড়া সমস্ত আয়োজন;
বেঁধে রাখতে পারেনি
আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন, লোভ লালসার বেপরোয়া মন।
সুযোগ হাতছাড়া করেনি শামুক,
একটা সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে
চুষে নিয়েছে বিন্দু বিন্দু করে সমস্ত জল,
বেলা-অবেলায়।
ভাঙনের সাধ কেবল শুধু সে-ই বুঝে,
যার ভাঙে ;তিলে তিলে ভেঙে যাওয়া,
জল শূন্যতা বুকে নিয়ে নদীটা আজ
বেঁচে থাকার একটু আশ্রয় খুঁজে,
পুরোনো ঠিকানায়।

সোনালী শৈশব
ওয়ালীউল্লাহ

স্মৃতির ক্যানভাসে পায়ে চলা মেঠোপথ
এঁকেবেঁকে চলছে পাড়ায় পাড়ায়।
পুকুরপাড়ে সারিসারি নারকেল বীথি
আর আমার ঘরের চালায় ছায়ানিবিড় তর,
সেই ভরদুপুরে দরোজায় কারো পদধ্বনি।
বেড়ার ফাঁক গলে মিষ্টি রোদের খেলা
বাতাসের দোলে এই আছে এই নেই
কানের লতায় তিরতির করে কেঁপে উঠে তার জুলফি।
কোনো প্রেম-প্রণয়ের গল্প নয়
নয় বিরহের আলাপন,
এ আমার শৈশবের কথা।
সোনার তারের মতো ঝলমল করা আমার শৈশব,
এইখানে আমি থমকে দাঁড়াই
চেয়ে থাকি বিমুগ্ধ চোখে।
ডায়েরির পাতায় সাজানো হাজার স্মৃতি
পাথরের মতো নিশ্চল হয়ে পথ আটকে দাঁড়ায়।
সে যেন আমায় প্রশ্ন করে, ওহে,
কে তুমি, হে যুবক,
কালের পটে খোদাই করা শৈশবকে ভুলে যেতে চাও?

নির্বাক
জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ

কাঁপিয়ে তুললে তুমি আধেক নিয়মে!
দোসর হতে গেলে হাতে ডাংগুলি নিয়ে খেলতে বসো,
নির্বাক অথবা লিখতে বসো স্বাভাবিক মৃত্যুর চিঠি,
তোমার নিঃশ্বাসে উড়াই বেলুন।
নিজেকে কতটুকু কেটেছ, কতটুকু ভেঙেছÑ
ছিঁড়ে ফুঁড়ে এই আমি ঘুড়ির বাহুতে ছিটিয়েছি হাওয়ার মুখ;
ঘোর বরিষণে দাঁড়িয়ে উলকি প্রেম ছিটাইÑ
পাখি হয়েছ ; প্রেমিকা হতে পেরেছ কতটা আমার!

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.