সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ না থাকায়হারিকেন দিয়ে মুরগীর খামারে তাপ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সিপাইগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কামারপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ১৬ ঘন্টায় প্রয়োজনীয় তাপের অভাবে খামারের শতাধিক মুরগীর বাচ্চা মারা গেছে। আরো প্রায় শতাধিক অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এমন ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার মুরগী খামারী নুর ইসলাম।
তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় হালকা বাতাস ও বৃষ্টি শুরুর সাথে সাথে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোথাও বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা না ঘটলেও দীর্ঘ প্রায় ১৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত (১০ মে বিকাল ৩টা) বিদ্যুৎ আসেনি। এর ফলে ব্রুডারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তাপ দিতে না পারায় রাত ১২টা নাগাদ খামারে আনা ২ দিনের ব্রয়লার মুরগীর ৭০/৮০টি বাচ্চা মারা যায়। এমতাবস্থায় গোল্ডেন খড়ি দিয়ে আগুন জ¦ালিয়ে ও হারিকেনের মাধ্যমে কোন রকমে তাপ দেয়া হয়। তারপরও এখন পর্যন্ত প্রায় ১০৬ টি বাচ্চা মারা গেছে। দিনের বেলা রোদের তাপ থাকায় বাচ্চাগুলো রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু রাতে শীতে অধিকাংশ বাচ্চা অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটা মারা যাচ্ছে।
রাতে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কামারপুকুর বাজারে অবস্থিত পল্লীবিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে বার বার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সকাল থেকে লাইন ম্যান বেলালকে কল দিলে তিনি আসবে আসবে করে এখনো আসেনি। তাদের অবহেলার কারণেই মূলত: আমার এত বড় ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে কামারপুকুর অভিযোগ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বিকালে গেলে দেখা যায় অফিস তালাবদ্ধ। কিছুক্ষণ পর লাইনম্যান মাসুম বিল্লাহ এসে অফিস খোলেন। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি। আামাদের এ অফিসের অধিনে প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহক রয়েছে। পাঁচটি লাইন দিয়ে তাদের বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয়। গতকালের ঝড়ো বাতাসে ৪টি লাইনেই সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিটি লাইনেই ইনসুলেটর ফেইল হওয়ায় তা কোন জায়গায় হয়েছে সনাক্ত না করা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়। আমরা মাত্র ৪জন লাইনম্যান এখানে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকি। লোকবল কম থাকায় এখন পর্যন্ত ৩টি লাইনের কাজ হয়েছে। অন্যটি ঠিক করতে আমাদের লোক গেছে সন্ধ্যা অবধি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.