বিড়ম্বনা

তারেকুর রহমান

কাস শেষে বাসায় ফেরার পথে প্রতিবারই বদরুলের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ হয়ে যায়। তার পকেট থেকে বাস ভাড়ার টাকা বের করা বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। বহু ফন্দি করে অন্যজনকে ভাড়া ধরিয়ে দেয়ায় বেশ পটু বদরুল। বেশি ক্যাচাল করলে শূন্য মানিব্যাগ দেখিয়ে বলে, আমার মানিব্যাগের অবস্থা দেখ। কোনো টাকাপয়সা নাই। তাই ভাড়া দিতে পারছি না। আজ তোরা দিয়ে দে। আমি নেক্সট টাইম দেবো।
ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাড়া দিয়ে দিতে হয়। তার মানিব্যাগের চিপায়চাপায় টাকা আছে কিন্তু সে ভাড়া দিবে না। প্রতিবারই নেক্সট টাইম ভাড়া দেবে বলে কিন্তু নেক্সট টাইম আর আসে না।
বাস থেকে নেমে একট ফাস্টফুডের দোকানের সামনে দাঁড়ালাম। খিদায় পেটটা চোঁ চোঁ করছে। সবাই একটা করে সিঙ্গাড়া খেলাম। বদরুল বেশ চালাক প্রকৃতির ছেলে। সে জানে তাকে টাকা দিতে হবে না। তাই একটু বেশি করেই খেয়ে নিলো। বিল দেয়ার সময় বদরুল দূর থেকে দাঁত কেলিয়ে হাসছে।
অবসর পেলে ঘুরতে বের হওয়া আমাদের রুটিনের মতো। তবে আমাদের কোনো ভ্রমণে বদরুলকে নেয়া হয় না। বদরুল নাছোড়বান্দা। সে এবার আমাদের সাথে যাবেই। আমরা আগেই বলে দিয়েছি, শোন বদরুল ভ্রমণে যাচ্ছি ওখানে গিয়েও ঝামেলা করিস না। টাকাপয়সাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অবশ্যই নিয়ে নিবি।
বদরুল এক গাল হেসে বলে, আরে... কী যা তা বলোস! আমি ওরকম ছেলে না। সব কিছুই ঠিকমতো নিয়ে নেবো।
চরম মিথ্যে জেনেও তার কথা কিঞ্চিত বিশ্বাস করলাম। এসব ভ্রমণে অন্তত বদরুল ঠিক হয়ে যাবে।
সবাই মিলে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। বাস স্টার্ট দেয়ার সময় বদরুল বলে উঠল। দূরে ভ্রমণ করলে তার বমি আসে। বাসের হেলপার একটা পলিথিন দিয়ে গেল। বদরুল পলিথিনটা তার পকেটে গুঁজে রাখল। বাসে আমর বেশ মজা করতেছি। বদরুল চুপচাপ বসে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, কিরে বদরুল চুপ কেন?
- বমি আসেরে। তাই কথা বলি না।
এ কথা বলেই বদরুল ওয়াক ওয়াক করে বমি করতে লাগল। তার বমিতে পুরো সিট ভেসে গেল। আশেপাশের লোকজন বেশ বিরক্ত। যাত্রাপথে কয়েকবার বমি করে। বাসের হেলপার এসে কিছুণ পর পর ধমক দিয়ে যায়।
- আপনে পুরুষ মানুষ বমি করেন কেন? লজ্জা লাগে না?
বদরুল রাগ হয়ে বলে, পুরুষ মানুষ কি বমি করতে পারে না?
- বমি তো মেয়েরা করে পুরুষেরা করব কেন?
- কি কইলি? এ কথা বলেই হেলপারের গায়ের ওপর বমি করে দিলো বদরুল।
হেলপার বদরুলকে বের করে দিতে উদ্যত হলো। আমরা বলে কয়ে বসিয়ে রাখলাম।
কিছুণ পর বদরুল ঘুমিয়ে পড়ে। এদিক সেদিক হেলেদুলে পড়ে যাচ্ছে। আমার কাঁধের ওপর মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছিল। আমি ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলে সে সোজা হয়ে ঘুমায়। আবার আমার কাঁধের ওপর ঘুমিয়ে পড়ে। বদরুল উচ্চস্বরে নাক ডাকতে লাগল। তার নাক ডাকার কারণে আশেপাশে সবার ঘুম হারাম। একজন বেশ বিরক্ত হয়ে বলল, এটার নাকমুখ চেপে ধর।
পুরোটা পথ এক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে কাটল। সবাই মিলে হোটেলে উঠলাম। সারা রাত বদরুলের আর কোনো কথা ছিল না। সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাইকে জাগাতে লাগল। সে আসার সময় টুথপেস্ট নিয়ে আসেনি। চোখে ঘুম তার ওপর সারা রাত বদরুলের অত্যাচার সব মিলিয়ে এক বিরক্তিকর অবস্থা। তার ওপর এই ভোরবেলায় টুথপেস্টের জন্য চিল্লাচিল্লি শুনতে ভালো লাগছে না। বদরুলকে বললাম, ব্যাগের বাইরের পকেটে টুথপেস্ট আছে। ওখান থেকে নিয়ে যা।
বদরুল বাথরুমে চলে গেল। কিছুণ পর আবার এসে আমাদের জাগিয়ে দিয়ে বলে, গোসল করুম কেমন? আমি তো লুঙ্গি একটা আনছি। এটা ভিজাইলে আর কী পরুম?
- ওহ বদরুল তুই গেলি? একটু ঘুমাতে দে।
বদরুল লুঙ্গি নিয়ে প্যানপানানি শুরু করল। শেষে নিজের লুঙ্গিটা দিয়ে কোনোরকম বাঁচলাম।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.