বগুড়ার শিবগঞ্জে ছেলে সাবরুল  ইসলামকে হারিয়ে মা জাহানারা বেগমের আহাজারি
বগুড়ার শিবগঞ্জে ছেলে সাবরুল ইসলামকে হারিয়ে মা জাহানারা বেগমের আহাজারি

শিবগঞ্জে চার খুনের ঘটনায় নারীসহ আটক ৬

আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূন্য
বগুড়া অফিস ও শিবগঞ্জ সংবাদদাতা

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ডাবুইরে চার যুবক খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী-স্ত্রী মেয়েসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত রাতে উপজেলার কাঠগাড়া ও চন্দনপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার কাঠগাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে বেলাল হোসেন, তার স্ত্রী নাজনীন বেগম ও তার মেয়ে নাতিশা খাতুন, আফছার আলীর ছেলে আবদুল হালিম প্রামাণিক, চন্দনপুর গ্রামের জসিমুদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও আটমূল ইউনিয়নের কুলুপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী প্রফুল্ল সরকারের ছেলে লিটন সরকার (২৮)। এদিকে গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভয়ে নিহতদের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছেন না।


অন্য দিকে নিহত চারজনের মধ্যে আরো একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পুনটের নান্দিল দীঘির শামছুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে খবির উদ্দিন (৩০)। এর আগে তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়। নিহতদের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন। গতকাল স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল জলিলকে প্রধান করে গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে।


শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান বলেন, এ ঘটনার সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করতে অ্যাডিশনার ডিআইজি নিশারুল আরিফ (ক্রাইম) গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক জাহিদ হাসান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। স্থানীয়রা জানান, গত রোববার রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের গাঙ্গনাই নদীর পশ্চিমে ডাবুইরের বাদলাদীঘি গ্রামের বিলের একটি ধানক্ষেতে চারজনের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর এলাকায় ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। গত সোমবার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। একসাথে চারটি গলাকাটা লাশ দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ বিলের পাড়ে ভিড় জমান।


হত্যারহস্য পুলিশ এখনো উদঘাটন করতে না পারলেও স্থানীয়রা বলছেন, মাদকসংক্রান্ত কোনো ঘটনা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। কারণ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু মাদকের আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।


আটমূল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন বলেন, মাদকসংক্রান্ত বেচাকেনার জেরে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে নিহতরা সবাই নি¤œআয়ের মানুষ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.