হঠাৎ করেই জ্বর হতে পারে
হঠাৎ করেই জ্বর হতে পারে

জ্বর ও কাশিতে করণীয়

ডা: মো: শরিফুল ইসলাম

হঠাৎ করেই জ্বর হতে পারে। কী মাত্রার জ্বর তা পরিমাপ করতে হবে। শেষ রাত ও সকালে তাপমাত্রা কমে যায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাপমাত্রার এই উঠানামার ফলে কিছু কিছু ভাইরাস শরীরের ওপর আক্রমণের সুযোগ পায়। আবহাওয়ায় তাপমাত্রার এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে যারা খাপ খাওয়াতে পারেন না, তারাই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বরসহ সর্দি-কাশিতে। ঋতু পরিবর্তনের ফলে জ্বরের এই প্রকোপ নতুন কিছু নয়, সাধারণের কাছে এটি ‘ফ্লু’ বা ভাইরাস ফ্লু হিসেবে পরিচিত।

যেসব লক্ষণ দেখা যায়

রোগী মূলত জ্বর, মাথাব্যথা, সর্দি, অরুচি, শরীর ব্যথা, কাশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। ঠাণ্ডা-সর্দির কারণে কান বন্ধ হতে পারে। কান বন্ধের সাথে কানে ব্যথাও থাকে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া উচিত। অনেক সময় শিশুর প্রচণ্ড সর্দি লেগে যায়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বরও দেখা দিতে পারে। তবে বড়দের ক্ষেত্রে জ্বর ততটা তীব্রভাবে না-ও হতে পারে।

জ্বর হলে কী করবেন

এ অবস্থায় প্রধমেই জ্বর কমানোর ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর কমানোর ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে সারা শরীর মুছে দেয়া অর্থাৎ স্পঞ্জিং করা উচিত। জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত এই স্পঞ্জিং চালিয়ে যেতে হবে। দুই-এক ঘণ্টার মধ্যে উচ্চতাপমাত্রার জ্বর না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুদের দিকে বিশেষ নজর

ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত শিশু প্রায়ই পানিশূন্যতায় ভোগে। কেননা জ্ব্রের তাপে শরীর পানি হারায়্ তাই শিশুকে প্রচুর পানি ও তরল খাবার দিন। শুধু পানি পান করতে না চাইলে ফলের রস, তরমুজ বা আঙুর, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদি দিন। সেইসাথে শিশুর দরকার প্রচুর বিশ্রাম। বেশির ভাগ শিশুর খাওয়ার রুচি নষ্ট হয়ে যায়, কিছুই খেতে চায় না। এমন খাবার দিন যা অল্প খেলেও বেশ শক্তি পাবে। যেমন দুধ-চিনি দিয়ে তৈরি কোনো নাশতা, মুরগির মাংসের স্যুপ, পান্তা, ফলমূল ইত্যাদি।

জ্বর বাড়লে পা মুছে দিন, সাথে সাধারণ প্যারাসিটামল। ওষুধের সঠিক মাত্রাটি জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে। নাক বন্ধ থাকলে স্যালাইন পানির ড্রপ ব্যবহার করা যায়্ খুসখুসে কাশিতে মধু বা আদার রস বেশ আরাম দেবে। ভাইরাস ফ্লু পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় এমনিতেই কমে যায়। কিন্তু জ্বর দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র মাত্রার হলে, শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে বা সে খাওযাদাওয়া একদম ছেড়ে দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় কী করবেন

সর্দি-কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে এশবার ঠাণ্ডা লাগরে তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। আর কাশি তো বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সাধারণ কাশির চিকিৎসা আপনিই করতে পারেন। এ ধরনের কাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায় তবে কাশির সাথে যদি জ্বর হয়, তাহলে গুরুত্ব দিতে হবে। ঠাণ্ডা খাবার, ফ্রিজের পানি পরিহার করতে হবে। কুসুম গরম পানি পান করতে পারলে ভালো হয়। হাল্কা কুসুম কুসুম গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গলা গড়গড়া করলে গলাব্যথা সহজেই ভালো হয়ে যায়। দিনে কমপক্ষে দুইবার ৫-১০ মিনিট সময়ে গড়গড়া করা উচিত। ধুলাবালি এড়িয়ে চলুন।

ধূমপান পরিহার করুন

খুসখুসে কাশির একটি অন্যতম কারণ হলো ধূমপান। আর ঠাণ্ডা লাগলে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই ধূমপান পরিহার করতে হবে।

শিশুর কাশি মানেই নিউমোনিয়া নয়

এ সময়ে শিশুরা যে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে তার বেশির ভাগই নিউমোনিয়া নয়। ভাইরাসজনিত এই রোগের নাম ব্রংকিওয়ালইটিস। ব্রংকিওলাইটিসকে অনেকে নিউমোনিয়া ভেবে ভুল করেন। ব্রংকিওলাইটিস দুই বছরের কম বয়সের শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা যায়। তবে সুস্থ শিশুদের আক্রান্ত শিশু থেকে দূরে রাখতে হবে।

শিশুকে সিগারেট, মশার কয়েল ও রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন। ভাইরাসজনিত এই রোগে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। তবে শ্বাসকষ্ট খুব বেশি হলে, খিঁচুনি, ঠোঁট নীল বা কালো হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।

 

গোড়ালি মচকে গেলে কী করবেন

ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল

সাধারণত রাস্তাঘাটে হাঁটাচলা করার সময় হোঁচট খেলে পায়ের গোড়ালি মচকে যায়। পড়ে গেলে কিংবা মোটরগাড়ি দুর্ঘটনায় কিংবা যারা নিয়মিত খেলাধুলা করেন, তাদের পায়ের গোড়ালি মচকে যাওয়া কিংবা ভেঙে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। গর্তে পড়ে গিয়ে, রিকশা বা বাস থেকে নামতে গিয়ে, সিঁড়ি থেকে নামার সময় ধাপে ঠিকমতো পা না পড়লে, খেলাধুলার সময় জুতার সমস্যার কারণে এমনকি বিছানা থেকে উঠতে গিয়েও গোড়ালি মচকাতে পারে।

কী করবেন :

* পায়ে জুতো বা কেডস থাকলে খুলে ফেলুন।

* রোগীকে শুইয়ে দিয়ে তার আহত পায়ের নিচে বালিশ বা কম্বল দিয়ে পা এমন উঁচুতে রাখতে হবে যেন তা হৃদপিণ্ডের লেভেল থেকে ওপরে থাকে।

* গোড়ালির জয়েন্টে একখণ্ড বরফ কিংবা ঠাণ্ডা ভেজা কাপড় কিছুটা সময় চেপে রাখুন। তবে বরফ সরাসরি না দেয়াই ভালো। একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে সেটা দিয়ে সেঁক দেয়াটা সঠিক পদ্ধতি। আঘাত পাওয়ার প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অথবা ফোলা না কমা পর্যন্ত প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর ১০ থেকে ২০ মিনিট পরে আইস প্যাক লাগান। এতে ফোলা অনেকটা কমে যাবে।

* কোনো ধরনের তেল কিংবা হাত দিয়ে জায়গাটি মালিশ করবেন না।

* মোটা কাপড় দিয়ে গোড়ালির কিছুটা ওপর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পেঁচিয়ে কিংবা মোটা কাপড়ের মধ্যে পা ঢুকিয়ে তারপর ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে ফেলুন।

* মোটা কাপড় না থাকলে তুলোর প্যাড ব্যবহার করে তারপর ব্যান্ডেজ বাঁধুন।

* বাঁধনটি যেন খুব শক্ত না হয়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

* রোগীকে পায়ের ওপর দাঁড় করানো কিংবা হাঁটতে বলা যাবে না।

* যদি হাড় সরে যায়, তাহলে তা টেনে ঠিক করার চেষ্টা করবেন না।

* এরপর রোগীকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে পাঠানোর সময় খেয়াল রাখবেন যেন গোড়ালিতে চাপ না পড়ে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্র্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২, ইংলিশ রোড, ঢাকা। ফোন: ০১৬৭৩৪৪৯০৮৩ (রোমান)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.