ইউনাইটেড স্টেট অব উইমেন সামিটে বক্তব্য দিচ্ছেন মিশেল ওবামা
ইউনাইটেড স্টেট অব উইমেন সামিটে বক্তব্য দিচ্ছেন মিশেল ওবামা

কোনো অলৌকিক প্রার্থীই যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করতে পারবে না : মিশেল ওবামা

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্ষ্ট লেডি মিশেল ওবামা আমেরিকাকে রক্ষায় কোনো অলৌকিক প্রার্থীর প্রত্যাশা না করতে নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অনেকেই ধারণা করছেন মিশেল ওবামা হয়তো আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তার এই আহ্বান সে ধারণাকে নাকচ করে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

লস এঞ্জেলেসে শনিবার ইউনাইটেড স্টেট অব উইমেন সামিটে ৫৪ বছর বয়সী এই সাবেক ফার্ষ্ট লেডিকে একজন রক স্টারের মতোই অভিনন্দিত করা হয়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল।

মিশেল বলেন ‘এটা কোনো বিষয় নয় কে নির্বাচনে প্রার্থী হলো’।

তিনি নারীর ক্ষমতায়নে ঘরে বাইরে কাজ করতে নারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রক্ষায় আমরা কোনো একক ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করবো না। আমরা বারাক ওবামাকে ভোট দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি বর্ণবিদ্বেষ থামাতে পারেননি।’

অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী জেন ফন্ডা ও মি টু আন্দোলনের নেত্রী তারানা ব্রুক বক্তব্য রাখেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ কোটির বেশি ফোনকলে নজরদারি

ডেইলি সাবাহ

যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি ফোনকলে নজরদারি চালিয়েছে দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ২০১৭ সালে এই নজরদারি চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)। শুক্রবার প্রকাশিত এক সরকারি রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাটি তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ফোনকলের তথ্য ও ফোনবার্তার বড় ধরনের উপাত্ত পেয়েছে বলে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক উল্লেখ করেন।

অবশ্য ফোনকলের মধ্যকার বিষয়বস্তুতে নজরদারি না করে; কে ফোনকল করেছে, কখন করেছে, কতক্ষণ কথা বলেছে এমনকি ফোনবার্তায় কতটি অক্ষরের বার্তা রয়েছে সে বিষয়ে নজরদারি করত এনএসএ। এই উপাত্ত নামহীন হলেও এটি ব্যবহার করেই ব্যক্তিপর্যায়ে যে কাউকেই চিহ্নিত করা যায়। এই উপাত্তের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত উন্মুক্ত তথ্য মিলিয়ে এটি করা সম্ভব। এনএসএ ২০১৭ সালে পূর্বের বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি ফোনকলের উপাত্ত সংগ্রহ করে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট গিজমোডো।

২০১৫ সালে মার্কিন আইনপ্রণেতারা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নজরদারির সীমা বাড়ানোর আইন পাস করলে এই সংখ্যাটি ১৫ কোটি ১০ লাখ থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান সংখ্যায় এসে দাঁড়ায়। নজরদারির মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যায় ফোনকলের তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির নাগরিক গোপনীয়তার পক্ষে থাকা আইনজীবীরা। তারা এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, এভাবে তথ্য সংগ্রহ করা মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে সরকারের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ও অনধিকার প্রবেশ। পুরাতন নজরদারি পদ্ধতিতে এনএসএ প্রতিদিন বিশাল উপাত্ত সংগ্রহ করত বলে ২০১৩ সালেই জানিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন।

নাগরিক গোপনীয়তার পক্ষে থাকা আইনজীবীরা বলছেন, ২০১৩ সালে স্নোডেন এ বিষয়টি ফাঁস করার পর পরবর্তী বছরগুলোতে এ নজরদারি যে আরো বাড়বে তা তারা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক-ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের নীতি পরামর্শক রবিন গ্রিন বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা আরো বাড়াতে হবে এবং এত বিশাল উপাত্ত সংগ্রহের বিষয়টি তাদেরকে ব্যাখ্যা করতে হবে।’

উল্লেখ্য, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশটির আইনের ৭০২ নম্বর ধারাকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকলেও নাগরিক গোপনীয়তার পক্ষে থাকা আইনজীবীরা এর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। (০৬ মে ২০১৮ প্রকাশিত সংবাদ)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.