সৌরঝড়
সৌরঝড়

পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে সৌরঝড়, প্রভাব ভয়ঙ্কর!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

পৃথিবীর বুকে আজ আছড়ে পড়বে বীভৎস সৌর ঝড়। এমনটাই জানিয়েছে নাসা। আর তার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে বলেই জানা গেছে। রিপোর্ট বলছে, এর প্রভাবে টেক ব্ল্যাকআউট হতে পারে।

নাসার রিপোর্ট অনুযায়ী, সূর্যে তিনটি ‘করোনাল হোল’ তৈরি হয়েছে। তার ফলে প্রচুর পরিমাণ কসমিক কণা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসছে। তার জেরেই হচ্ছে এই সৌরঝড়।

ন্যাশনাল ওসানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ধরনের কণা ছুটে এলে জি-১ ক্লাসের জিওম্যাগনেটক ঝড় হয়।

যারা মহাকাশে চোখ রেখে বিভিন্ন গবেষণা করেন, তাদেরও ওইদিন সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা আকাশে চোখ না রাখেন। বিশেষ করে দক্ষিণ হেমিস্ফিয়ারের জন্য এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এর প্রভাবে স্যাটেলাইটের প্রযুক্তিরও বিগড়ে যেতে পারে।

পাঁচ ধরনের হয় এই সৌরঝড়- জি-১, জি-২, জি-৩, জি-৪ ও জি-৫। জি-১ হলো হালকা একটি ঝড়। তবে জি-৫ ক্লাসের ঝড় হলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে পৃথিবীর।

 

এবার চাঁদেও মোবাইল নেটওয়ার্ক!

৫০ বছর আগে চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখেছিলেন নাসার মহাকাশচারীরা। এবার পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে চাঁদে মোবাইল ফোনের অবাধ বিচরণ হতে চলেছে আর মাত্র এক বছরের মধ্যে।

না, কোনো সায়েন্টিফিক ফিকশনের গল্প নয়; এ ঘোর বাস্তব। এর ফলে চাঁদ থেকে সরাসরি পৃথিবীতে করা যাবে হাই ডেফিনিশন স্ট্রিমিং।

এই উদ্যোগকে সফল করতে হাত মিলিয়েছে ভোডাফোন জার্মানি, নোকিয়া এবং অডি সংস্থা। মঙ্গলবার তিন সংস্থার পক্ষ থেকে এ খবর জানানো হয়েছে।

নোকিয়ার উপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এমন একটি স্পেস-গ্রেড নেটওয়ার্কের হার্ডওয়্যার তৈরি করার, যার ওজন এক ব্যাগ চিনির থেকেও কম হবে। এই কাজে ভোডাফোন, নোকিয়া ও অডির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে বার্লিনের সংস্থা PTScientists। ২০১৯ সালেই নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্য।

ভোডাফোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, SpaceX Falcon 9 রকেটের সাহায্যে কেপ কানাভেরাল থেকে লঞ্চ করা হবে স্পেস নেটওয়ার্ক।

এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফাইভ-জি পরিষেবা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক বেসই তৈরি করা হবে চাঁদের মাটিতে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

(২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ প্রকাশিত সংবাদ)

 

রসিক এবং খেয়ালী এক বিজ্ঞানী

দীর্ঘদিন যাবত মোটর নিউরন ডিজিজের সাথে লড়াই করে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত এবং সুপরিচিত বিজ্ঞানীতে পরিণত হওয়া স্টিভেন হকিং ৭৬ বছর বয়সে মারা গেছেন।

তিনি ছিলেন রসবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ, বিজ্ঞানের একজন জনপ্রিয় দূত এবং তিনি সব সময় নিশ্চিত করতেন যেন তাঁর কাজ সাধারণ মানুষেরা সহজে বুঝতে পারেন।

তাঁর লেখা বই 'এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম' অনেকটা ধারণার বাইরে বেস্ট সেলার বা সবচেয়ে বিক্রিত বইয়ে পরিণত হয়।

যদিও এটা পরিষ্কার না ঠিক কতজন পাঠক এই বইয়ের শেষ পর্যন্ত যেতে পেরেছেন।

জীবদ্দশায় তিনি বেশ কিছু টেলিভিশন প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং তার কৃত্রিম কণ্ঠস্বরে কথা বলেছেন।

স্টিভেন উইলিয়াম হকিং ১৯৪২ সালে ৮ জানুয়ারি অক্সফোর্ডে জন্ম নেন। তার বাবা ছিলেন একজন জীববিজ্ঞানের গবেষক এবং তিনি স্টিভেন হকিং-এর মাকে নিয়ে জার্মানের বোমার আঘাত থেকে বাঁচার জন্য লন্ডনে পালিয়ে আসেন।

হকিং লন্ডন এবং সেন্ট অ্যালবানস এ বেড়ে ওঠেন। তিনি অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যার ওপর প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী অর্জন করে ক্যামব্রিজে কসমোলজির উপর স্নাতকোত্তর গবেষণা করেন।

কেমব্রিজে গবেষণা করার সময় তাঁর মোটর নিউরন রোগ ধরা পরে যেটা তাকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেয়।

১৯৬৪ সালে যখন প্রথম স্ত্রী জেন-কে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন চিকিৎসকরা বলে দেন তিনি বড় জোর দুই থেকে তিন বছর বাঁচবেন।

কিন্তু রোগটি যতটা দ্রুততার সাথে ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছিল তার চেয়ে কম গতিতে ছড়ায় তার শরীরে। ১৯৮৮ সালে তিনি তার বই 'এ ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম' প্রকাশ করেন।

বইটির প্রায় এক কোটি কপি বিক্রি হয়- যদিও লেখক জানতেন যে বইটির পরিচিতি হয়েছে "পঠিত হয়নি এমন সর্বাধিক বিক্রিত বই" হিসেবে।

১৯৮৮ সালের মধ্যে হকিং-এর অবস্থা এমন হল যে শুধুমাত্র কৃত্রিম উপায়ে কথা বলতে পারতেন তিনি।

তারকাখ্যাতি :

স্টিভেন হকিং দেখান যে কৃষ্ণগহ্বর কিভাবে শক্তিক্ষয় করতে করতে শূন্যে মিলিয়ে যায়, পরবর্তীতে যা হকিং বিকিরণ নামে পরিচিতি পায়। কঠিন গাণিতিক হিসেব এবং পরীক্ষা ছাড়া বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিষয় তুলে ধরার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি পান।

তবে তার "থিওরি অফ এভরিথিং" বা "সবকিছুর তত্ত্ব" মানুষকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে- যাতে তিনি ধারণা দেন যে মহাবিশ্ব কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যেই বিবর্তিত হয়।

"এই মহাবিশ্বের শুরু কীভাবে হলো- এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এসব নিয়ম", তিনি বলেন "কবে এর শেষ হবে? কীভাবে শেষ হবে? এসবের উত্তর যদি আমরা জানতে পারি, তাহলে আমরা আসলেই ঈশ্বরের মন বুঝতে পারবো।"

বিখ্যাত মার্কিন কার্টুন সিম্পসনেও তার তারকা খ্যাতির চিহ্ন দেখা যায়- সিম্পসনের একটি পর্বে দেখানো হয় যে তিনি একটি পানশালায় কার্টুনটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হোমারের সাথে মদ্যপান করছেন এবং মহাবিশ্ব ডোনাট আকৃতির, হোমারের এমন একটি ধারণা চুরি করার চেষ্টা করছেন।

এছাড়াও তাকে বিবিসির জনপ্রিয় কমেডি সিরিজ রেড ডোয়ার্ফ, মার্কিন সিরিজ স্টার ট্রেক: নেক্সট জেনারেশন এবং বিগ ব্যাং থিওরির কয়েকটি পর্বে দেখা যায়।

তার ভঙ্গুর শারীরিক অবস্থা সত্ত্বেও তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লুকেসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে তার কাজ চালিয়ে যান এবং ২০০১ সালে তার দ্বিতীয় বই- ইউনিভার্স ইন এ নাটশেল প্রকাশিত হয়।

খেয়ালী :

তিনি বিশ্বাস করতেন যে তার অসুস্থতা তার জন্য কিছু উপকারও এনে দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি জীবন নিয়ে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

অবশ্য তার শারীরিক অবস্থা অবধারিতভাবেই তাকে অন্যদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। তিনি প্রায়সময়ই তার প্রথম স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলতেন, যিনি ২০ বছরেরও বেশি তার দেখাশোনা করেছেন। তবুও একজন নার্সের জন্য যখন প্রথম স্ত্রীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন তখন তার বন্ধু এবং আত্মীয়-স্বজনরা বেশ অবাক হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি তার সাবেক নার্সকে বিয়ে করেন।

২০০০ সাল নাগাদ আঘাতের কারণে তিনি বেশ কয়েকবার কেমব্রিজের একটি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন। ওই সময় একটি অভিযোগ আসে যে তিনি কয়েক বছর যাবত নানাভাবে মৌখিক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

২০০৭ সালে তিনি প্রথম চলৎশক্তিহীন ব্যক্তি হিসেবে একটি বিশেষ বিমানে ওজনশূন্যতার অভিজ্ঞতা নেন। মানুষকে মহাকাশ ভ্রমণে উৎসাহ দেয়ার জন্যই তিনি এটি করেছেন বলে জানান।

"আমার বিশ্বাস পারমাণবিক যুদ্ধ, জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি ভাইরাস অথবা অন্য কোন কারণে পৃথিবীতে প্রাণের অবসান হতে পারে। মানুষ যদি মহাকাশে না যায় তাহলে আমার মনে হয় মানবজাতির কোন ভবিষ্যৎ নেই। যেকারণে আমি মানুষকে মহাকাশে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে চাই"।

২০১৪ সালে স্টিফেন হকিংয়ের জীবন নিয়ে তৈরি হয় 'থিওরি অফ এভরিথিং' চলচ্চিত্র। জেন হকিংয়ের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় চলচ্চিত্রটি।

ডিসকভারি চ্যানেলের সাথে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, পৃথিবীর বাইরে কোনো বুদ্ধিমান জীবনের উপস্থিতি আছে এমন ধারণা করাটা সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসীরা প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজে পৃথিবীতে অভিযান চালাতে পারে। (১৪ মার্চ ২০১৮ প্রকাশিত সংবাদ)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.