নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই মেয়েসহ মায়ের হত্যা না আ্ত্মহত্যা : নিজের দেহে এত আঘাত কেউ দিতে পারে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর দারুস সালামের সরকারি কোয়ার্টারের একটি বাসায় দুই সন্তানসহ মায়ের মৃত্যুর চার দিনেও রহস্যের জট খুলছে না। দুই সন্তানকে হত্যার পর মা নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ এমন তথ্য দিলেও সন্দেহমুক্ত হতে পারছে না খোদ পুলিশই। কারণ নিহত জেসমিন আক্তারের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। আত্মহত্যাকারী কোনো ব্যক্তি নিজের শরীরে এত আঘাত করতে পারে কি না সেটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পুলিশের মধ্যে।

এ দিকে ঘটনাস্থলের বাসার একটি ড্রয়ার থেকে নিহত জেসমিন আক্তারের লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে মৃত্যুর জন্য নিজের দুর্ভাগ্যকে দায়ী করেছেন তিনি। চিরকুটে জেসমিন আক্তার লিখেছেন, আমি বেঁচে থাকার কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সব দিকে অন্ধকার নেমে আসছে। তাই এ সিদ্ধান্ত নিতে হলো। আমার মৃত্যুর জন্য নির্মম দুর্ভাগ্যই দায়ী।

অন্য দিকে জেসমিনের স্বামী হাসিবুল ইসলাম দাবি করছেন, মাসখানেক আগে জেসমিন আক্তার আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর তিনি দুই সন্তানের নিরাপত্তায় পাহারা বসিয়েছিলেন; যাতে দুই সন্তানসহ স্ত্রীর কোনো ক্ষতি না হয়। তবুও সুখের সংসার টিকিয়ে রাখতে পারলেন না বলে তিনি জানান।
দুই মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসিবুল। তিনি বলেন, অফিস থেকে এলে একজন ঘাড়ে আরেকজন পিঠে উঠত। ওর মা তখন ফ্রি। মেয়ে দু’টি যতণ পর্যন্ত রাতে না ঘুমাত ততণ তাদের দেখভাল করতাম। ছোট মেয়েটা আমাদের কাছে আর বড় মেয়েটা ওর মামার কাছে ঘুমাত। সন্তানেরা যখনই কিছু খেতে চাইত রাত-দিন নেই তাদের খাওয়াতাম।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দারুস সালাম থানা এলাকার মিরপুর সরকারি কোয়ার্টার থেকে মা জেসমিন আক্তার (৩৫), তার মেয়ে হাসিবা তাহসিন হিমি (৯) ও আদিলা তাহসিন হানির (৪) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মিরপুরের পাইকপাড়া সি টাইপ সরকারি কোয়ার্টারের ১৩৪ নম্বর ভবনের চারতলার ফ্যাটে থাকত পরিবারটি। নিহত জেসমিন আক্তার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ক্যাশিয়ার ছিলেন। স্বামী হাসিবুল ইসলাম সংসদ সচিবালয়ের সহকারী লেজিসলেটিভ ড্রাফটসম্যান।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় নিহতের স্বামীর ভাগনে রওশন জামিল এবং তার স্ত্রী রোমানা পারভীন ও নিহত জেসমিনের খালাতো বোন রেহানা বাসায় ছিলেন। রওশন জামিল ও তার স্ত্রী বাসাটিতে সাবলেট থাকেন। তারা পাশের রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন। কিন্তু পাশের কক্ষে এমন নির্মম ঘটনা ঘটলেও কিছুই টের পাননি তারা। এ বিষয়টিও সন্দেহের চোখে দেখছে পুলিশ। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত ঘটনা কী সেটি বলার সময় এখনো আসেনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.