মানবকল্যাণে ইসলামি অর্থনীতি

মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম

ইসলামি অর্থনীতি ইসলামি জীবন দর্শনের অপরিহার্য অঙ্গ। একটি গতিশীল বিষয় হিসেবে ইসলামি অর্থনীতি ইসলামি জীবন দর্শন, আদর্শ, কৃষ্টি ও সভ্যতার সাথে একই সূত্রে গাঁথা। এ অর্থনীতি বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। বর্তমানের যাবতীয় মানবরচিত অর্থব্যবস্থা মানবজাতির অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আধুনিক পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইসলামি অর্থনীতি যেকোনো সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম।
ইসলামি অর্থনীতির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ। কুরআন পাকের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, এ বিশ্বজাহানের সব কিছু বস্তুবাদী লক্ষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে বস্তুবাদী লক্ষ্যের সাথে আধ্যাত্মিক উপকরণও সমগুরুত্বসহকারে সংযুক্ত। একজন মুসলিম বিশ্বাস করে মানুষ কখনো সত্যিকার কল্যাণ লাভ করতে পারে সংযুক্ত। একজন মুসলিম বিশ্বাস করে মানুষ কখনো সত্যিকার কল্যাণ লাভ করতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার ইহকাল ও পরকালের ওপর উভয় প্রয়োজনের একটি সুষম তৃপ্তি লাভ করে। এ কল্যাণ এমন; যা অর্থের মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায় না, অথচ তা তার দৈহিক আরাম, মানসিক শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন, মদিনায় যে ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল, কালক্রমে তা একটি সুদমুক্ত জাকাতভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ সমাজের সৃজন করেছিল। সেখানে ছিল না শোষণ, বৈষম্য, জুলুম, নিপীড়ন, বঞ্চনা ও অকল্যাণ। ইসলামে কল্যাণকামিতা ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত এবং অবিভাজ্য। এ কারণে অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়নে কল্যাণ অর্জনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
প্রচলিত অর্থনীতি ও মানবকল্যাণ
প্রচলিত পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতি ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে মানবকল্যাণকে উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বস্তুবাদী অর্থনীতিতে বস্তুবাদী উপাদানই মানবকল্যাণের একমাত্র উপকরণ। এখানে সুষম বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করা যায় বলে মনে করা হয়। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন, বেকার সমস্যার সমাধান ইত্যাদিসহ কিছু বস্তুবাদী লক্ষ্য অর্জিত হলেই মানবকল্যাণ সাধিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। উল্লেখ্য, এরূপ কল্যাণ কথাটির সাথে নৈতিকতা বা রুহানি উৎকর্ষের কোনো সংযোগ নেই।
পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতিতে ক্রেতা বা ভোক্তাগণ সার্বভৌম। এ অর্থনীতিতে বস্তুবাদী কল্যাণ অর্জনের জন্য যে কৌশলটি কাজে লাগানো হয় তা হচ্ছেÑ ভারসাম্য দাম, যা চাহিদা যোগানের সমতার দ্বারা নির্ধারিত হয়। যে দ্রব্যের বেশি উপযোগ, ক্রেতা বা ভোক্তা তার জন্য তত বেশি দাম দিতে প্রস্তুত থাকে। অন্য দিকে সর্বোচ্চ মুনাফাপ্রত্যাশী উৎপাদক এ দামের প্রতি সাড়া দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ভোক্তারা যে দাম দিতে প্রস্তুত বিক্রেতারা তার চেয়ে বেশি দাম হাঁকে। শুরু হয় দরকষাকষি। এভাবে যে দামে বেচাকেনা হয়, তাই ভারসাম্য দাম। এ ব্যবস্থায় দাম একটি পক্ষপাতহীন নিরপেক্ষ মানদণ্ড হিসেবে ভূমিকা পালন করে। তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রত্যেক উৎপাদনকারী নি¤œতম ব্যয়ে উন্নতমানের সর্বাধিক পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং বিক্রয় করে। প্রত্যেক উৎপাদনকারী সর্বোচ্চ মুনাফা পায় এবং সামগ্রিকভাবে গোটা অর্থনীতির দক্ষতা ও উৎপাদন সর্বাধিক হয়। অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথের ভাষায়, যদি প্রত্যেকেই তার স্বীয় স্বার্থের জন্য কাজ করে, তাহলে বাজার শক্তির ‘অদৃশ্য হস্ত’ কোনো রকম বহিরাগত হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রতিযোগিতার বিধি-নিষেধের মাধ্যমে সামাজিককল্যাণ রক্ষণে এগিয়ে আসে। বাজার অর্থনীতির উপরিউক্ত ধারণা বাস্তবে কোনো দেশেই সত্যে পরিণত হয়নি, ফলে মানবকল্যাণও আশানুরূপভাবে অর্জিত হয়নি। বাজার অর্থনীতির উদ্যোক্তারা মনে করেছিলেন যে, ভোক্তারা সীমিত সম্পদের দাবি শুধু তাদের প্রয়োজন পূরণের মধ্যেই নিবন্ধ রাখবে; যাতে ভোক্তার পছন্দ ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। কোনো ভোক্তা যতক্ষণ কোনো জিনিসের দাম পরিশোধের ক্ষমতা রাখে, ততক্ষণ সে তার চাহিদা পূরণ থেকে নিবৃত্ত হয় না। প্রায়ই ভোক্তারা তাদের মৌলিক প্রয়োজনীয়, আরামদায়ক এবং বিলাসজাত দ্রব্য ও সেবার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারেন না বা করেন না। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাকচিক্যময় প্রচার-বিজ্ঞাপন ক্রেতার স্বাধীন ইচ্ছা ও পছন্দকে অনেকটা মূল্যহীন করে তোলে। সুদি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এ সীমাহীন ভোগের প্রতিযোগিতাকে আরো বেগবান করে তোলে। দ্রব্যমূল্য ও কর আকারে সুদ প্রদান করে ভোক্তারা ক্রমে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর এবং অবশেষে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বিপুল জনগোষ্ঠীর হাতে ক্রয়ক্ষমতা না থাকায় নিত্যব্যবহার্য পণ্য ক্রয় করে মৌলিক প্রয়োজন পূরণের ক্ষমতাও তাদের থাকে না। বাজারে চাহিদা পড়ে যায়। পণ্যসামগ্রীর বিক্রয় বন্ধ হয়, উৎপাদনে স্থবিরতা নেমে আসে, এক মহামন্দায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে অর্থনীতি।
এ ছাড়াও পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতিতে নিঃস্ব, সর্বহারা, অক্ষম, আয়হীন এবং অল্প আয়ের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেই। একদিকে সুদি শোষণের মাধ্যমে দরিদ্র সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলে, অন্য দিকে দরিদ্র অক্ষমদের চাহিদা পূরণের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দুস্থ জনগোষ্ঠী বেসরকারি স্বেচ্ছাদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, অনেকে পেটের দায়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়।
সমাজতান্ত্রিক, রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতিতে ব্যক্তিমালিকানা থেকে না। রাষ্ট্রই সব ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকে। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার সুযোগ এ অর্থনীতিতে অনুপস্থিত। যেহেতু সব কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়, সেহেতু কারো পছন্দ বা কায়েমী স্বার্থ সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে অনুপস্থিত। তা ছাড়া, সমাজতান্ত্রিক মূল্যব্যবস্থায় যে ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে, তা সর্বহারাদের কল্যাণের জন্য ব্যয় করা হয়। উপরিউক্ত অনুমিতিগুলু সবই ভুল। এ অর্থনীতি ব্যক্তিস্বার্থ বলি দিয়ে সব শ্রেণীর মানুষকে সমাজের জন্য কাজ করতে কার্যকরী উৎসাহ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সমাজতন্ত্রের নামে, মানবকল্যাণের নামে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে যা করা হয়েছে; তা হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বীহীন একদলীয় রাষ্ট্র, যা উপহার দিয়েছে জুলুম, নির্যাতন, শ্রম, শোষণ ইত্যাদি। এ ধরনের নির্মম কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে সমাজতন্ত্র নিজ পিতৃভূমিতেই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। প্রকৃত মানবকল্যাণ যে অর্জিত হয়নি তা বিশ্ববাসীর কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে।
মানবকল্যাণে ইসলামি অর্থনীতি
ইসলামি অর্থনীতি কুরআন ও সুন্নাহ হতে উৎসারিত। এখানে যাদের আচরণ আলোচনা করা হয় ইসলামি অর্থনীতির পরিভাষায় তাদের বলা হয় ইসলামি মানুষ। ইসলামি মানুষ, সে ভোক্তা হোক বা উৎপাদকই হোক, তাদের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই, আছে আল্লাহর। ইসলামি অর্থনীতিতে অগ্রাধিকার নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করে ইসলামি মূল্যবোধ, যার মূল উৎস কুরআন ও হাদিস।
ইসলামি অর্থনীতিতে মানবকল্যাণ অর্জনের কৌশলগুলো বহুবিধ। যেমন : এক. ইসলামি অর্থনীতিতে মানুষের অসীম চাহিদার মূলে আঘাত করে তা সসীম পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়। ইসলাম মানুষের ভোগের ওপর হালাল-হারামের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। মানুষের জন্য কল্যাণকর পণ্য ও সেবাই আল্লাহ হালাল করেছেন আর অকল্যাণকর ও ক্ষতিকর জিনিস হারাম করেছেন। আল্লাহ বলেনÑ খাও, পান করো কিন্তু ইসরাফ (অপচয়) করো না। আল্লাহ ইসরাফকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা আল আরাফ : ৩১)
এবং কিছুতেই তাবজির (অপচয়) করো না। নিশ্চয়ই তাবজিরকারীরা শয়তানের ভাই। (সূরা বনী ইসরাইল : ২৬-২৭)
স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ ধ্বংস ও অপচয় করা যাবে না। অর্থনীতির ক্ষেত্রে এ আচরণকে কুরআনে ফ্যাসাদ বা বিপর্যয় এবং অনাচার সৃষ্টির সাথে তুলনা করে এর বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে। (সূরা বাকারা : ২০৫)Ñ হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক শিরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য ব্যতীত অন্য কিছু তো নয়। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। (সূরা আল মায়িদা : ৯০)
ইসলামি অর্থনীতিতে মানুষ হারাম জিনিসের অভাব বোধ করে না, হারাম পণ্য ও সেবা ভোগ করবে না। এতে গোটা সম্পদ কেবল কল্যাণকর সম্পদ উৎপাদনে নিয়োজিত হবে। এতে মানুষের সর্বপ্রকার কল্যাণকর চাহিদা পূরণে পণ্য ও সেবার উৎপাদন ও যোগান বাড়বে এবং দামও কমে আসবে। ফলে মানুষের অধিকতর কল্যাণ সাধিত হবে।
দুই. ইসলামি অর্থনীতিতে জাগতিক ও পরলৌকিক উভয় জগতের কল্যাণ অর্জনের মোটিভেশন সৃষ্টি করা হয়। একমাত্র আখিরাতের জবাবদিহির অনুভূতিই মানুষকে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। লটারির টিকিট কিনে দুনিয়াতে লাভ হতে পারে কিন্তু তা আখিরাতের জন্য লাভজনক নয়। দুনিয়ার হাসানা ও আখিরাতের হাসানা দুটোই কাম্য। বৈধ পথে অর্জিত সম্পদে আমানতের শর্ত নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্থাৎ, শুধু নিজ স্বার্থ নিজ পরিবার-পরিজনই নয়; সমাজের অন্য সবার কল্যাণেও ব্যবহার করতে হবে।
(সূরা আল-কাসাস : ৭৭)
তিন. রিবা বা সুদ হারাম হওয়া ইসলামি অর্থনীতির একটি মৌলিক বিষয়। সুদ হারাম হলে গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই পরিবর্তিত হয়ে যায়। ইসলামি অর্থনীতি সুদকে মূলোৎপাটিত করে বিনিয়োগ ও উৎপাদনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে। এতে সুদের মাধ্যমে সৃষ্ট শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে, ভোক্তারা সুদজনিত ব্যয় থেকে মুক্তি পায়, তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। সুদ মূলোৎপাটনের ফলে বণ্টন ক্ষেত্র বেইনসাফি ও জুলুম হতে মুক্তি পায়। চার. মানবকল্যাণে জাকাত-ওশর এক বলিষ্ঠ ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। জাকাত-ওশর ইসলামের এমনই ম্যাকানিজম, যার মাধ্যমে মানবকল্যাণে ইসলামি অর্থনীতির মূল লক্ষ্য যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। ইসলামি অর্থনীতিই একমাত্র অর্থনীতি, যেখানে সচ্ছল মুসলমানদের জন্য জাকাত আদায় বাধ্যতামূলক-মৌলিক ইবাদতগুলোর অন্যতম। গরিব, অসহায় ও অভাবগ্রস্ত বনি আদমের আর্থিক কল্যাণের জন্য তথা তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ জাকাত আদায় ও বিলিবণ্টন ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া সদাকাতুল ফিতর, কাফফারা, ফিদিয়া, ওয়াকফ, ওয়াসিয়াত, সদাকাতো নাফেলা ইত্যাদির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবকল্যাণ সাধনের ব্যবস্থা রয়েছে।
পাঁচ. ইসলামি অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থসামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব এ রাষ্ট্রই পালন করে। বায়তুলমাল হচ্ছেÑ ইসলামি রাষ্ট্রের বীমাব্যবস্থা। বায়তুলমাল অক্ষম, দুস্থ, বৃদ্ধ, এতিম ও বিত্তহীনদের মৌলিক অধিকার পূরণের গ্যারান্টি। মহানবী সা: বায়তুলমাল প্রতিষ্ঠার পর ঘোষণা করেছিলেন, ‘যদি কেউ সম্পত্তি রেখে মারা যায়, তবে তা তাদের উত্তরাধিকারীর, আর যদি কেউ সহায়হীন, এতিম ও বিধবা রেখে যায়, তবে তা তাদের উত্তরাধিকারীর, আর যদি কেউ সহায়হীন, এতিম ও বিধবা রেখে যায়, তবে তার উত্তরাধিকারী আমি।’
ছয়. ইসলামি অর্থনীতি ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহর প্রতি জোর দেয়। আল্লাহর পথে খরচ মানে গণেশকে দুধ খাওয়ানো নয়, এ খরচ মানুষের কল্যাণের জন্যই করা হয়। এর মাধ্যমে সম্পদের মোহমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতিতে সম্পদ খরচের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে বলে মনে করা হয়।
সাত. ইসলামি অর্থনীতিতে মনোপলি, কার্টেল, অলিগপেলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মজুদদারি, মুনাফাখোরি, কালোবাজারি ইসলামে নিষিদ্ধ। আর এসবই মানুষের কল্যাণের জন্য। এসব নিষিদ্ধ থাকায় এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যাতে মানুষ কর্ম প্রেরণা পায়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়ে কোনোরূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় না।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে ইসলামি অর্থনীতিতে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা এমনভাবে বণ্টন হয়; যাতে ব্যাপকভাবে জনগণের মৌলিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ সম্ভব হয়, আয় ও সম্পদের বৈষম্য সর্বনি¤œ থাকে। বেইনসাফি থেকে জনগণ রক্ষা পায়। আর এভাবেই ইসলামি অর্থনীতি মানবকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
লেখক : ব্যাংকার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.