তথ্য পরিবেশনে সাবধানতা

ফিরোজ আহমাদ

তথ্য একটি মহাশক্তি। তথ্যহীন মানুষ অন্ধের শামিল। তথ্য সমাজ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। যাদের কাছে যত বেশি তথ্য রয়েছে তারা তত বেশি শক্তিশালী। তথ্য মানুষের মনের গতি পরিবর্তন করে। তথ্য আদান-প্রদানের ফলে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। নবী-রাসূলরা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি লাভ করতেন। ওহি এক ধরনের তথ্য বা সংবাদ। নবী ও রাসূলরা তাদের প্রাপ্ত ওহি বা তথ্যগুলোকে উম্মতের কাছে হেদায়াতের উদ্দেশ্যে সংবাদ আকারে প্রচার করেছেন। নবী ও রাসূলদের তথ্য দেয়া-নেয়ার উদ্দেশ্য ছিলÑ বিপথগামী মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ দেখানো। বিপথগামী মানুষকে ক্ষমা লাভের সুসংবাদ দেয়া। সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য আদান-প্রদান করা ইসলামি নীতি ও মূল্যবোধপরিপন্থী। ইসলামি বিধান মতে যারা গুজব তৈরির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মনগড়া তথ্য তৈরি ও প্রচার করে তারা হলো, ফাসিক। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করাই হলো ইসলামের নীতি ও বিধান। তথ্য পরিবেশনের আগে তথ্য সম্পাদনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারেরা, যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা যাচাই করে নাও। এ আশঙ্কায় যে, তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো কওমকে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।’ (সূরা হুজরাত : ৬)।
তথ্য সব সময় ইতিবাচক হতে হবে। ইসলাম সমাজের জন্য ইতিবাচক ও কল্যাণকর তথ্য আদান-প্রদানকে উৎসাহ প্রদান করে। মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে সমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ফাসিক তথা মোনাফিকদের কাজ। আর মোনাফিক ব্যক্তি কাফেরের চেয়ে নিকৃষ্ট। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মুনাফিক দল, যাদের অন্তরে কুফরির ব্যাধি রয়েছে ও যারা মদিনায় গুজব রটনা করে বেড়ায়, তারা যদি বিরত না হয়, তাহলে আমি নিশ্চয়ই আপনাকে তাদের ওপর প্রবল করে দেবো, অতঃপর এরা সেখানে আপনার প্রতিবেশী হিসেবে সামান্য কিছ্ ুদিনই থাকতে পারবে।’ (সূরা আহজাব : ৬০)।
ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। মোনাফিকেরা সব সময় তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে। মিথ্যা তথ্য প্রচার করে ঝগড়া-বিবাধ সংঘটিত করা মোনাফিকের কাজ। তাই যেকোনো তথ্য প্রাপ্তির পর মোমিনদের অবশ্যই তথ্যের ভিত্তি ও সত্যতা যাচাই করে নিতে হবে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না; কেননা কান, চোখ ও অন্তর, এ সব ক’টির (ব্যবহার ) সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে’। (সূরা বনি ইসরাঈল : ৩৬)।
যারা দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত সৃষ্টির লক্ষ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচার করবে, তাদের কেয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তার চেয়ে বড় অত্যাচারী আর কে হতে পারে, যে মানুষকে গোমরাহ করার জন্য অজ্ঞতাবশত আল্লাহর নামে মিথ্যা রচনা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সীমা লঙ্ঘনকারী জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।’ (সূরা আনআম : ১৪৪)। সুতরাং, রাগ-বিরাগ, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে সত্য ও কল্যাণের উদ্দেশ্যে তথ্য পরিবেশন করলে আখিরাতে নেয়ামত লাভের সুযোগ আছে।
লেখক : প্রবন্ধকার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.