শব্দদূষণ রোধে সচেতনতা জরুরি

মোহাম্মদ অংকন

 

বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি শব্দদূষণের কবলে পতিত। যার পরিপ্রেক্ষিতে শব্দদূষণ একটি মারাত্মক পরিবেশগত জাতীয় সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এ সমস্যা আপামর জনজীবনের স্বাভাবিক পদচারণাকে চরমভাবে ব্যহৃত করছে। বিশেষ করে তীব্র শব্দদূষণের কারণে আগামী প্রজন্ম মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্রমশ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত করে মেধাচর্চা কমিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া আমরা জানি, শব্দদূষণের ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়, বধির হয়, হৃদরোগ আক্রান্ত করে, মেজাজ খিটখিটে হয় এবং ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় ও দিচ্ছে।
শহরাঞ্চলের জনপদের নিকটবর্তীতে স্থাপিত বিদ্যমান মিল-কারখানা থেকে নিসৃত শব্দ প্রতিনিয়ত শব্দদূষণ করে চলেছে। শহরে যানবাহনের কারণে শব্দদূষণ আরেকটি বড় কারণ; কিন্তু এসব শব্দদূষণ রোধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। এ ছাড়া শুধু ঘরের বাইরে, রাস্তায় বা কর্মস্থলেই নয়, ঘরে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন ভেক্যুয়াম ক্লিনার, ফুড বেলেন্ডার ও গ্রাইন্ডার, পাখা থেকেও বিরক্তিকর শব্দ বের হয়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। তাই সচেতন হয়ে এগুলোর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কাম্য।
আমাদের সবার জানা উচিত, শব্দদূষণের ভয়াবহ পরিণতিটা আসলে কী? বর্তমানে শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে শব্দদূষণ প্রধান অন্তরায়। শুধু কি তাই, দূষিত শব্দ গর্ভবতী মা এবং হৃদরোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আকস্মিক উচ্চশব্দ মানবদেহে রক্তচাপ ও হৃদকম্পন বাড়িয়ে দেয়, মাংসপেশির সঙ্কোচন করে, পরিপাকে বিঘ্ন ঘটায় এবং স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি কমিয়ে দেয়। হঠাৎ বিকট শব্দ যেমন যানবাহনের তীব্র হর্ন বা পটকা ফাটার আওয়াজ মানুষের শিরা ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ দেয়। এত মানুষে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন মোটরযানের চালককে বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে যান চালাতে উৎসাহিত করে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।
বিশ^ব্যাপী শব্দ সৃষ্টির একটি মান মাত্রা রয়েছে যার বেশি শব্দ সৃষ্টি করলে তা দূষণের পর্যায়ে পড়ে। সেটি হলো ৬০ থেকে ৭০ ডেসিবল; কিন্তু সময়ের সাথে ক্রমাগতভাবে ৮৫ থেকে ১০০ ডেসিবলের শব্দ সৃষ্টি হয়ে পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। সব দেশেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় শব্দদূষণ বিধিমালা রয়েছে; কিন্তু জনগণের সচেতনতার অভাবে সেসব বিধিমালা যেমন কার্যকর হচ্ছে না, তেমনি শব্দদূষণ রোধ করা সম্ভবপর হচ্ছে না। তাই বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতা জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া শব্দদূষণ রোধে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাও দরকার। আশা করছি, সার্বিকভাবে সবাইকে সচেতন করতে পারলে শব্দদূষণের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আমরা সহজেই মুক্তি পাবো।

লেখক : শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.