ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২১ মার্চ ২০১৯

সম্পাদকীয়

এতিম রোহিঙ্গা শিশুর সংখ্যা ৪০ হাজার

এদের পুনর্বাসন নিয়ে দ্রুত ভাবতে হবে

২৭ এপ্রিল ২০১৮,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়নের কারণে এ পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৮৪১টি এতিম শিশু বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে ছেলেশিশু ১৯ হাজার ৫৮ এবং মেয়েশিশুর সংখ্যা ২০ হাজার ৭৮৩। এ তথ্য দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদের বয়স এক দিন থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত। এদের মধ্যে মা-বাবা নেই, এমন শিশুর সংখ্যাই বেশি।
এ ধরনের এতিম শিশুদের চিহ্নিত করার জন্য একটি উদ্যোগ বা পরিকল্পনা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় শুরুতেই নিয়েছিল। জেলা প্রশাসন তথ্যটি অবহিত রয়েছে। এমনকি মন্ত্রণালয়ও এই তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এসব এতিম শিশুকে এক জায়গায় রাখা হবে, না ক্যাম্পে রাখা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। গত বছর আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন ও অগোছাল। এখন পরিবেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই মন্ত্রণালয় এতিম শিশুদের জন্য আলাদা জায়গা চেয়েছে। নতুন করে ভাবতেও চাচ্ছে।
সবাই একমত, এসব শিশু যে পরিবেশে ও পরিবারে জন্ম নিয়েছে; সে ধরনের পরিবার ও পরিবেশের বাইরে এদের রাখা এবং লালনপালন করা কঠিন। এদের যদি আলাদা রাখা হয়, তাহলে এরা নানা ধরনের অশান্তিমূলক কাজে জড়িয়ে যাবে। প্রাথমিকভাবে এক হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের হাওলায় এসব এতিম শিশু রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
এসব শিশুকে একক এতিমখানা ও আশ্রয়কেন্দ্রে না রাখার পক্ষে অনেকেই মত দিয়েছেন।
আবার অনেকেই মত দিয়েছেন, এসব এতিম শিশু যাতে তাদের পরিমণ্ডলের বাইরে না যেতে পারে; সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ এরা হাতছাড়া হয়ে যাবে। অন্যভাবে ধর্মান্তরিত হতে পারে। এদের ঐতিহ্য ও নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া ঠিক হবে না।
তবে এখনো এতিমদের নিয়ে সমন্বয়ের অভাব আছে। তাদের ব্যাপারে কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনাও গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত এতিমখানায় কোনো শিশু ভালো থাকে না। তা ছাড়া এদের ব্যাপারে সতর্ক পাহারার ব্যবস্থা না করা হলে এরা পাচার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শিশুপাচার রোধ করা জরুরি কর্তব্য। তা ছাড়া এসব শিশু মাদক বহনের কাজে ব্যবহৃত হওয়াও অসম্ভব নয়। তাই এতিমদের ব্যাপারে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।
ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেক শিশু নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পে ছয় হাজার ৯৩২টি শিশু এরই মধ্যে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৮। এতিম শিশুদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ শিশুর বয়স ১৫ বছরের নিচে। প্রায় অর্ধেক শিশু অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে। আর যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে তারা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে; যার সংখ্যা ২৫ শতাংশ।
রোহিঙ্গা এতিম শিশুরা একটি বড় সমস্যা। সমস্যার সমাধানও জটিল। তাই সমন্বয়কারীদের এসব এতিম শিশুর ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। দ্রুত পরিকল্পনা নিয়ে এসব এতিমকে পুনর্বাসন করা জরুরি কর্তব্য বিবেচনা করতে হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫