নীলকণ্ঠ কবি বেলাল চৌধুরী
নীলকণ্ঠ কবি বেলাল চৌধুরী

নীলকণ্ঠ কবি বেলাল চৌধুরী

হাসান হাফিজ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঝাঁ ঝাঁ রোদের বৈশাখী দুপুরে সাদা কফিনে চিরনিদ্রায় শায়িত তিনি। ২৫ এপ্রিল ২০১৮। সমাজের নানা স্তরের মানুষ অন্তিম শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তাঁকে। তিনি বেলাল চৌধুরী। আগের দিন ২৪ এপ্রিল ইন্তেকাল করেছেন। শহীদ মিনারে গিয়ে মনে হলো, তরুণদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থলটির দীপ নিভে গেছে তাঁর প্রয়াণে। বাংলা সাহিত্যের অঙ্গন অনেকটাই নিঃস্ব হয়েছে তাঁর বিয়োগে। ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যু, পরিণত বয়সেই- তার পরও মেনে নেয়া কষ্টকর।

শহীদ মিনারে সমবেত মানুষজনের সবাই কিন্তু সাহিত্যাঙ্গনের ছিলেন না। বেলাল ভাই অবলীলায় মিশে যেতে পারতেন সব ধরনের, সব বয়সের মানুষের সাথে। সে ব্যক্তি হন নোবেল লরিয়েট কিংবা একেবারে সাধারণ মানুষ। সবার সাথে এক লহমায় একাত্ম, আপনজন হয়ে উঠতে পারতেন, অনায়াসে। দুর্লভ এই গুণ ও ক্ষমতা ছিল তাঁর সহজাত। উজ্জ্বল চারিত্র্যবৈশিষ্ট্যও বটে। ভাষাসংগ্রামী এই মানুষটির জীবন ছিল বিচিত্র ধরনের অম্লমধুর অভিজ্ঞতার ঋদ্ধ। কবি, কথক, কলামিস্ট, কথাশিল্পী, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সংগঠক, পরোপকারী, ভ্রমণপিপাসু, সম্পাদক, বাউণ্ডুলে, গবেষক, তুখোড় আড্ডাবাজ, নিবিষ্ট আগ্রাসী পাঠক- কত যে তাঁর পরিচয়, কত যে মাত্রিকতা, সেসব অল্প কথায় বয়ান করা সম্ভবপর নয়।
তরুণদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ছিলেন নিরহঙ্কার আলাভোলা টাইপের মানুষটি। আসলে তিনি ছিলেন সংসারে এক সন্ন্যাসী। কোনো বিষয়ে কোনো রেফারেন্স দরকার হলে তাঁর শরণাপন্ন হলেই চলত। তিনি ছিলেন বিপদের বন্ধু। কোনো কোনো বিষয়ে রীতিমতো এনসাইক্লোপিডিয়া। তরুণদের জন্য তাঁর দুয়ার ছিল সব সময়ই খোলা। অবারিত ও স্বাগত। বয়স্ক হলেও মনেপ্রাণে সর্বদাই তারুণ্যদীপ্ত ছিলেন তিনি। মননে হৃদয়ে জীবনচর্যায় সেই সঞ্জীবনী ধারা বহমান ছিল আমৃত্যু। তাঁর মুখে কত সরল বয়ান শুনেছি সাহিত্যের নানা বিষয়ের, ব্যক্তিত্বের। বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি তথা বিশ্বসাহিত্যের নিবিড় বোদ্ধা ও মনস্ক পাঠক ছিলেন। সব সময় চলতি দুনিয়া সম্পর্কে নিজেকে হালনাগাদ রাখতেন। লব্ধ সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, মর্মমধু অন্যের সাথে শেয়ার করে আনন্দ পেতেন। ক্ষুদ্র স্বার্থবুদ্ধির পঙ্কিলতা তাঁকে কোনো দিন ছুঁতে পারেনি। সহায়তার হাত তিনি বাড়িয়ে দিতেন সব সময়। অনেক সময় নিজে ক্ষতির মুখোমুখি হতেন যদিও। দীর্ঘ সম্পাদকতা জীবনে (সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানী, সন্দ্বীপ, ভারতীয় হাইকমিশনের মুখপাত্র ‘ভারত বিচিত্রা’ এমনকি কলকাতায় কৃত্তিবাস পত্রিকায়) কত তরুণের লেখা যে তিনি আগ্রহভরে ছেপেছেন, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
কবি সাংবাদিক বেলাল চৌধুরীর জন্ম ফেনীর শরিশাদি গ্রামে, ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর। নয় ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর অনুজ প্রয়াত গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক। বেলাল চৌধুরী ছাত্রজীবনে যুক্ত হন বাম ধারার রাজনীতির সাথে। ১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন ও কারারুদ্ধ হন। ষাট ও সত্তরের দশকে বেশ কয়েক বছর কলকাতার বসবাস করেন তিনি। সে সময় অনেক কীর্তিমান কবি লেখকের সাথে নিবিড় সখ্য গড়ে ওঠে তাঁর। আমৃত্যু অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লালিত ব্যক্তিত্ব, মুক্তমনের মানুষ কবি বেলাল চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকদের পারস্পরিক সংযোগের প্রীতিময় হার্দ্য এক সেতুবন্ধন। কলকাতায়ও তিনি অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। কলকাতায় তিনি বিখ্যাত পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’ সম্পাদনার গুরুদায়িত্বও পালন করেন। কবিতা, প্রবন্ধ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, অনুবাদ, কলাম, সম্পাদনা- সব মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। দীর্ঘকাল ধরে নানামাত্রিক, ব্যাপক লেখালেখির তুলনায় প্রকাশিত গ্রন্থ অবশ্য কম। বিভিন্ন ছদ্মনামেও তিনি লেখালেখি করে গেছেন। তাঁর ছদ্মনাম ছিল ময়ূরবাহন, বল্লাল সেন, সবুক্তগীন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : নিষাদ প্রদেশে, আত্মপ্রতিকৃতি স্থিরজীবন ও নিসর্গ, সেলাই করা ছায়া, জলবিষুবের পূর্ণিমা, কবিতার কমলবনে, বত্রিশ নম্বর, যে ধ্বনি চৈত্রে শিমুলে, বিদায়ী চুম্বন, স্বপ্নবন্দী, যাবজ্জীবন সশ্রম উল্লাসে, রোজনামা ঢাকা, বেলাল চৌধুরীর কবিতা, ভালোবাসার কবিতা, প্রতিনায়কের স্বগতোক্তি, নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায়, সপ্তরতেœর কাণ্ডকারখানা, স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল, ডুমুরপাতার আবরণ, চেতনার রঙ চন্দ্রশিলা, নবরাগে নব আনন্দে, সুন্দরবন সোঁদরবন ও রবীন্দ্রনাথ, সাড়ে বত্রিশ ভাজা, লাকসাম দাদা ও অন্যান্য গল্প, মুহূর্তভাষ্য, সবুজ ভাষার ছড়া ইত্যাদি।
তর্জমা করেছেন বিশ্বনন্দিত অনেক বিখ্যাত লেখকের রচনা। এর মধ্যে রয়েছে হোর্হে লুই বোর্হেস, পাবলো নেরুদা, ডিলান টমাস, অক্তাভিও পাস। বেলাল চৌধুরী সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : জলের মধ্যে চাঁদ ও অন্যান্য জাপানি গল্প, বিশ্বনাগরিক গ্যেটে, পাবলো নেরুদা জন্মশর্তবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি, শামসুর রাহমান সংবর্ধনা গ্রন্থ, কবিতায় বঙ্গবন্ধু, পদাবলী কবিতা সঙ্কলন ইত্যাদি। কলকাতা থেকে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন ১৯৭৪ সালে। তার পর থেকে স্বৈরাচারবিরোধী প্রগতিশীল সব আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ‘পদাবলী’ নামের কবিতা সংগঠনের প্রাণপুরুষ ছিলেন। আশির দশকে এই সংগঠন দর্শনীর বিনিময়ে কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করত। পদাবলীতে আরো যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ, রফিক আজাদ, আসাদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, রবিউল হুসাইন প্রমুখ। আশির দশকের শেষ দিকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রগতিশীল কবিরা একটি প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় কবিতা পরিষদ নামের এই সংগঠনের শুরু থেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। পালন করেছেন সভাপতির দায়িত্বও।
কবি বেলাল চৌধুরী তাঁর সাহিত্য সাধনা ও অবদানের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় বৃত হন। তার মধ্যে রয়েছে- একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, নীহাররঞ্জন স্বর্ণপদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার, জাতীয় প্রেস ক্লাব লেখক সম্মাননা, কবিতালাপ পুরস্কার ইত্যাদি। তাঁর এক কন্যা, দুই পুত্র। তাদের নাম সাফিয়া আক্তার চৌধুরী মৌরী, আবদুল্লাহ প্রতীক ইউসুফ চৌধুরী এবং আবদুল্লাহ নাসিফ চৌধুরী পাবলো। স্ত্রী বিয়োগ ঘটেছিল বেশ অনেক বছর আগে। বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে দৈনিক ইত্তেহাদে প্রথম ছাপা হয় কবি বেলাল চৌধুরীর লেখা। কবিতাটির নাম ‘কত চেনা’।
কবি বেলাল চৌধুরীর দীর্ঘ একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম ২০১২ সালে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১২ সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সাহিত্য পাতায়। সাক্ষাৎকারটি ‘পাখির চোখে দেখা’ নামে আমার একটি গ্রন্থে (প্রকাশক : আবিষ্কার, প্রথম প্রকাশ ২০১৫) মুদ্রিত হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন উত্তর থেকে কয়েকটি এখানে উল্লিখিত হলো।
প্রশ্ন : বলা হয়, বাংলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ রাজধানী হবে ঢাকা। অনেকের মতে, এই লক্ষণ ক্রমেই পরিস্ফুট হয়ে উঠছে। আপনার কী অভিমত?
উত্তর : বিলক্ষণ। আপনাদের সাথে আমিও সহমত পোষণ করি। তার পরও বলব, এই অনেকরা আবার কে? বাস্তবেই তো দেখা যাচ্ছে, একেবারে দিনের আলোর মতো স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ কতটা লম্বা লম্বা পা ফেলে সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে নিজের স্থান করে নিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন ঘটছে, তা বিস্ময়কর।
প্রশ্ন : সাহিত্যে নোবেলজয়ী একাধিক ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য আপনার হয়েছে। সে সম্বন্ধে কিছু বলুন।
উত্তর : নোবেলজয়ী যে ক’জনের সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য হয়েছে আমার, প্রথমে বলতে হয় তারাও কিন্তু আমাদের মতোই মানুষ; অতিমানব কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, লেখালেখির ব্যাপারে তাঁদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা, ধ্যান-জ্ঞান এতই পরিশীলিত যে, তা এক কথায় বলা আমার পক্ষে অসম্ভব। সর্বোপরি তাঁদের মধ্যে কোনো বাগাড়ম্বর দেখিনি। তবে এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলতে চাই, আমাদের দেশে নোবেল বা বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার-টুরস্কার নিয়ে বেশ মাথা ঘামানো হয়। পাশ্চাত্যে কিংবা আমাদের দেশেই সত্যিকারের এমন সব বিদ্বজ্জনেরা রয়েছেন, নোবেল-টোবেল ছাড়াই তাঁরা কৃতকর্মে অনেক বড় মাপের লেখক এবং সর্বোপরি তাঁরা হচ্ছেন মানবতাবাদী।
আমার দেখার মধ্যে যাঁরা নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তাঁরা তখনো পাননি বলে আমাদের ক্ষোভ থাকলেও ওরা যে এ ব্যাপারে খুব একটা হাপিত্যেশ করেছেন, তা একবারও মনে হয়নি। ওই যেমন ওক্তাভিও পাস, গ্যুন্টার গ্রাস কিংবা আমাদের অমর্ত্য সেন। গ্রাস তো এ প্রসঙ্গে বলেছিলেনই ওসব পুরস্কার-টুরস্কার তাঁর কাছে এক বস্তা আলুর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের কবিতা ও পশ্চিমবঙ্গের কবিতার বর্তমান যে ধারা, তার মধ্যে মৌল পার্থক্য বা সাযুজ্য আপনার মতে কী কী?
উত্তর : বাংলাদেশের কবিতার পশ্চাৎপট যে রকম স্বৈরাচার ও একনায়কত্বের অপশাসন-শোষণের হাতে নিপীড়িত ও নির্যাতিতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধে সোচ্চার, সেদিক থেকে দেখতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের কবিতা অনেকটা শিল্পের জন্য শিল্প, কবিতার বিশুদ্ধতা, অতীত ঐতিহ্যÑ এসব নিয়ে লেখালেখিতে রত থাকলেও সেখানেও শ্রেণীবৈষম্য উপরন্তু দলিত সাহিত্যের আঁচ লাগাতে শুরু করেছে।

প্রশ্ন : কেমন বাংলাদেশ আপনি দেখতে চান?
উত্তর : লাখ টাকা দামের একটি প্রশ্ন। অবশ্যই সুজলা-সুফলা, শস্যশ্যামলা- যেখানে ক্ষুধা, অপুষ্টি, দারিদ্র্য, নারী-শিশুর প্রতি কোনো নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার, ভেদাভেদ, বৈষম্য থাকবে না। তবে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সর্বস্তরে শিক্ষা। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আর অর্থনৈতিক মুক্তি।
প্রশ্ন : আপনার স্বপ্নের যে বাংলাদেশ, তার সাথে বাস্তবের ব্যবধান কতটা?
উত্তর : তেমন দেশটি খুঁজে পাবে নাকো তুমি! ফারাকটা ব্যাপক ও বিস্তর। সঙ্কট থেকে উত্তরণের ব্যাপারটা আমার চায়ের কাপ নয়। তার জন্য চাই প্রচণ্ড স্থৈর্য, যা এই মুহূর্তে আমার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ফিরে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম বেলাল ভাইয়ের সম্পর্কে। সাথে একটা ছবি। সেই ছবিতে আছেন কবি শামসুর রাহমান, কবি বেলাল চৌধুরী এবং আমি। স্ট্যাটাসে লিখেছি ‘কবি বেলাল চৌধুরীর মৃত্যুতে হারালাম আত্মার এক আত্মীয়কে। এই মর্মবেদনা অঙ্গহানির মতো। আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রিয়জন, অভিভাবকের বিয়োগে মন বিষাদে ভারাক্রান্ত। কবি শামসুর রাহমানকে বেলাল ভাই বলতেন ‘স্যার’। দুই প্রিয়জনের সাথে আমি, জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে। দু’জনই ছিলেন অসামান্য লোকপ্রিয়, অতিশয় সজ্জন। এমন মানুষের আকাল সমাজে দেশে এখন অত্যন্ত প্রকট।’
অনেক বন্ধু স্বজন শুভানুধ্যায়ী এই স্ট্যাটাসের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন তাদেরও মনোকষ্ট, বেদনার কথা। আমার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ, অসামান্য মেধাবী ও কীর্তিমান চারুশিল্পী, কবি, কথাশিল্পী, গবেষক শিল্পী মুর্তজা বশীরের মন্তব্যটি এখানে উল্লেখ করি। তিনি লিখেছেন :
‘দুইজনই আমার অকৃত্রিম বন্ধু ছিল। সময় অসময় নাই, দু’জনের বাড়িতে কোনোরকম অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে চলে যেতাম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতাম। তারপর শামসুর রাহমান বিদায় নিলো। আমি অসুস্থ হলাম ২০১৩-এর শেষাশেষি, তাই বেলাল চৌধুরীর বাসায় সিঁড়ি ভেঙে ওঠার সাহস আর পাই নাই। মোবাইলে যাও কথা হতো মাঝে মধ্যে, তাও একসময় আর হয়ে ওঠেনি। হে আমার সুহৃদ তুমি এখন শামসুর রাহমানের মতো বেদনাক্লিষ্ট স্মৃতি।’
কবি বেলাল চৌধুরী রচিত একটি কবিতা দিয়ে ইতি টানব এ লেখার। কবিতাটি বেরিয়েছে আমার সম্পাদিত ‘একুশের কবিতা’ গ্রন্থে। বের করেছে অনন্যা। প্রকাশিত হয় গত একুশের বইমেলায় (২০১৮)।

বর্ণমালায় নিরস্ত্র সাহস
বেলাল চৌধুরী

আমরা এখন তোমাতেই উদ্ভাসিত
চন্দ্র যেমন সূর্যে, সভ্যতা যেমন মানবিক বোধে,
বাংলা ভাষা যেমন তোমারই প্রভাতফেরিতে
স্বাধীনতা যেমন তোমারই হাত ধরে;
আমাদের সংগ্রাম তো তোমারই নিরস্ত্র বর্ণমালায়
গণতন্ত্র যেমন নৌকার পালে, জয় বাংলায়,
চিন্তা চেতনা যেমন স্বদেশের শিকড়ে;
সালাম জব্বার বরকত রফিক
শত শহীদের বুকের লহুতে
ফাগুন মানেই দুঃসহ আগুন
রামরহিমের কোলাকুলি
নিড়ানি কাঁধে বাপ-চাচাদের ঠা ঠা হাসির দমক,
সাহস, সৌন্দর্য আর সংগ্রাম :
ছোট ছোট ঢেউ মিলে মহাতরঙ্গ
ছোট ছোট মুঠি যেমন দৃপ্ত শপথ
আবহমান বাংলা, বাঙালি ও বাংলা ভাষার।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.