ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ

ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ : কতটা পারবে যুক্তরাষ্ট্র?

ইন্ডিপেন্ডেন্ট

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যকে আরেকটি সামরিক সঙ্ঘাতের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ছয় বিশ্বশক্তির সাথে সম্পাদিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে। ট্রাম্প চাইছেন চুক্তির শর্তগুলো পুনর্বিবেচনা করতে। ২০১৫ সালে এ চুক্তি করার পরই ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ চুক্তিকেই বলা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই চুক্তি বাতিলের অঙ্গীকার করে আসছেন। ট্রাম্পের ভাষায় এটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’।

হোয়াইট হাউজ সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে এরই মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এর কোনো বিকল্প তারা এখনো তুলে ধরেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাই বলছেন, ইরান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চুক্তি শর্ত মেনে চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনৈতিক পন্থার পরিবর্তে সামরিক পন্থায় ইরানের সাথে প্রকাশ্যে বিরোধে যায় তাতে অর্জন হবে সামান্যই। ২০০৩ সাল থেকে ইরাকে ও ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে তাতে এখন স্পষ্টতই বিজয়ীদের দলে ইরান। ইরাক ও সিরিয়ার বর্তমান সরকার তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র, যা এ অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করেছে। সে ক্ষেত্রে ইরানের সাথে বোঝাপড়া করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাক হামলার স্টাইলে পদক্ষেপ নিতে হবে, যদিও ট্রাম্প শুরু থেকেই এসব হামলার বিপক্ষে।

ট্রাম্পের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কী ব্যবস্থা নেবে তা স্পষ্ট না হলেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নাম প্রত্যাহার করে নিয়ে ইরানও যে এ চুক্তিতে থাকবে তার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি এ-ও বলেছেন, ইরান শিগগিরই হয়তো ইউরেনিয়াম মজুদ বাড়াবে, তবে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

ইউরোপীয় নেতারা চেষ্টা করছেন চুক্তিটি টিকিয়ে রাখতে, তবে তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ মুখে ঘোষণা দেয়ার আগে ওয়াশিংটনের কোনো সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলা যায় না। তবে এ চুক্তির বিরোধী হিসেবে খ্যাত অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতিই বলে দেয় চুক্তিটি বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবে। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলেছেন, এ চুক্তিটির পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণেই তিনি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বরখাস্ত করেছেন। তার বদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে যাকে আনা হচ্ছে সেই মাকই পম্পেও দীর্ঘ দিন ধরেই এ চুক্তির বিরোধী হিসেবে পরিচিত। পম্পেও একবার প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ইরানের পারমাণবিক সামর্থ্য ধ্বংস করতে বড়জোর দুই হাজার বার জঙ্গিবিমান ওড়াতে হবে। যৌথ বাহিনীর জন্য এটি কোনো অসম্ভব কাজ নয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.