সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

সিদ্ধেশ^রী বয়েজ স্কুল সন্ত্রাসীদের টর্চার সেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিদ্ধেশ^রী বালক উচ্চমাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা। তাদের বাধা দিতে গিয়ে একের পর এক হামলা, মারধর ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এমনকি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দেয়া হয়েছে হত্যার হুমকি।
গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কবল থেকে বিদ্যালয়টি উদ্ধার ও শিক্ষক-অভিভাবকদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মচারী ও অভিভাবকেরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুন্সী কামরুজ্জামান কাজল।
লিখিত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শেখ ফরিদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা শিমুল, দেওয়ান আলীমউদ্দিন শিশির ও মাসুদ রানাসহ তার সহযোগীরা সিদ্ধেশ^রী বালক উচ্চমাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত করে রেখেছে। তারা শিক্ষকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিদ্যালয়ের মাঠ ও কাসরুমগুলো টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকেরা কোনো কথা বলতে পারছেন না। গত ২২ এপ্রিল দুপুরে সন্ত্রাসীরা বিদ্যালয়ে আসে। তারা অফিস রুমে ঢুকে কোনো কথা না বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন ও রুহুল আমিনকে রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনায় অধ্যক্ষ বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অধ্যক্ষ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘চোখের সামনে অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার শিক্ষকদের বেধড়ক পিটিয়ে গেলো, আমি কিছুই করতে পারলাম না।’ তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত আমার শিক্ষকেরা ভয় নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। না জানি আজকে কে তাদের হাতে অপমানিত হবেন। শিক্ষকেরা বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্তৃত্ব নেই। সন্ত্রাসীরা পুরো বিদ্যালয় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে রেখে আলাদা কন্ট্রোল রুমে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে। কাস শেষে তাদের মনমতো রুম খুলে রাখতে হয়। সন্ধ্যার পর নারী ও মাদকসহ বাইরের লোকদের নিয়ে কাস রুমে ঢুকে তারা। এ ছাড়া চোরাই গাড়ি, মোটরসাইকেল রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের মাঠ। মাঠেই তৈরি করা হয়েছে একটি ঘর। কাউকে অপহরণ করলে তাকে ওই ঘরে রাখা হয়।
ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর কাজল বলেন, এই ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করায় গত ২৩ তাারিখ সন্ত্রাসীরা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা তাকে বলে, ‘আপনি যদি শিক্ষকদের উসকানি দেন তাহলে দুই সপ্তাহর মধ্যে আপনাকে মেরে ফেলা হবে।’ এই ব্যাপারে কাজল রমনা থানায় একটি জিডি করেন। কাজল বলেন, সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের নিয়ে বিচারের আশায় বের হয়েছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি কাজী মইনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দেওয়ান আলীম উদ্দিন শিশির সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আর তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না সেটিও তিনি জানেন না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.