পোশাক কারখানার নিরাপত্তা শঙ্কা

সরকারের কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন

কর্মস্থলে পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তার শঙ্কা কাটছে না। সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিকদের কর্মস্থল বিশেষ করে ভবনের নিরাপত্তার দিক নিয়ে বিভিন্নপর্যায়ে আলোচনা হলেও অগ্রগতি হয়েছে সামান্য। রানা প্লাজা ধসের পর আন্তর্জাতিক ও সরকারিপর্যায়ে চাপে বেশ কিছু কারখানায় ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। তার পরও ভবনগুলোর নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ তা নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না পোশাককর্মীরা। কর্মেেত্র এখনো মৃত্যুভয় তাড়া করছে তাদের। ফাটল দেখলেই কারখানা ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন। এ দুর্ঘটনার স্মৃতি তাদের তাড়া করছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১০০-এর বেশি প্রাণহানি ও দুই হাজার ৪০০-এর বেশি আহত হন।
রানা প্লাজা ধসের পরপরই শুরু হয় পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ মূল্যায়নের কাজ। এ কর্মসূচির আওতায় পরিদর্শনের মাধ্যমে মোট তিন হাজার ৭৮০টি কারখানার প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জোট। এর মধ্যে ইউরোপভিত্তিক অ্যাকর্ডের আওতায় রয়েছে এক হাজার ৫০৫টি কারখানা। উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্সের অধীন কারখানার সংখ্যা ৮০৯। এ ছাড়া জাতীয় উদ্যোগের আওতায় আছে এক হাজার ৫৪৯টি পোশাক কারখানা।
অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের আওতাভুক্ত কারখানাগুলো পরিদর্শনে নানা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এগুলো সংস্কারে সময় বেঁধে দেয়ার পরেও যথাসময়ে তা সম্পন্ন করতে পারেনি অনেকে। আবার অনেক কারখানার ত্রুটি সংশোধনকাজ চলমান রয়েছে। তবে ত্রুটি সংস্কারে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে জাতীয় উদ্যোগের কারখানাগুলো। জাতীয় উদ্যোগের অধীন কারখানাগুলোর মধ্যে ২৩০টি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ, যেগুলোর সংস্কারকাজ শুরুই হয়নি। এসব কারখানায়ই শ্রমিকদের মৃত্যুভয় সবচেয়ে বেশি।
সরকারের কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২৭২টি কারখানা ভবন রয়েছে, যেগুলোয় সংস্কারকাজের অগ্রগতি এখনো ৩০ শতাংশের কম। এর মধ্যে নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনের কারখানার সংখ্যা ৮৬ ও ভাড়া করা ভবনে ১৮৬। এসব কারখানার মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য রয়েছে ১৮৭টি ও বিকেএমইএর সদস্য ৬৭টি। উভয় সংগঠনের সদস্য এমন কারখানা রয়েছে ১৮টি।
রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর পরও পোশাক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে প্রমাণ হয়, এমন ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পরও পোশাক কারখানার মালিকেরা শ্রমিক নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে তাদের আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে। আমরা মনে করি, পোশাক কারখানাগুলোর ভবন ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আরো কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করা দরকার।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.