বিএনপির মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের ঢল
বিএনপির মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের ঢল
বিএনপির মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের ঢল

সংসদ ভেঙে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে হবে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবিলম্বে সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে আগামী নির্বাচন দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেইসাথে নির্বাচনের আগে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সকল রাজবন্দীর মুক্তি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বানোয়াট মামলায় সাজা প্রদানের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি। সে মোতাবেক আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন করেছেন দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী। মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছিল। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে কয়েক লাইনে নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে মানববন্ধনে দাঁড়ান। তবে কর্মসূচির নির্ধারিত সময়ের আগেই সকাল ১০টা থেকে মানববন্ধনে দলটির নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে হাজারো নেতাকর্মী জড়ো হন। নেতাকর্মীরা ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দি রাখা যাবে না’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, দেশনেত্রীর মুক্তি চাই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। নেতকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে নয়া পল্টন এলাকা।

পূর্বঘোষিত মানববন্ধনে বিএনপি ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ শাহাজাহান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নাল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুল হাই, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, কামরুজ্জামান রতন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিনুল হক, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, রিয়াজ উদ্দিন নসু, রফিক সিকদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের হাবিবুর রশিদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসিন আলী, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু, নূরুল ইসলাম নয়ন, মাহবুবুল হাসান ভুইয়া পিঙ্কু, ছাত্রদলের মামুনুর রশিদ মামুন, আকরামুল হাসান, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, আসাদুজ্জামান আসাদ, মফিজুর রহমান আশিক, আবুল হাসান, রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, আরিফা সুলতানা রুমা, সেলিনা সুলতানা নিশিতা প্রমুখ। ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল ও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট ও থানার নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। তারা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

এদিকে মানববন্ধনকে ঘিরে নয়া পল্টনের সামনের সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির এই কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেননি।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রায় আড়াই মাস হতে চলেছে এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ও গণতন্ত্রের মা, যিনি গণতন্ত্রের জন্য তার দীর্ঘ জীবন ব্যয় করেছেন সেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে এ ফ্যাসিবাদি সরকার অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রেখেছে। যে কারাগার পরিত্যক্ত, যেখানে এখন কেউ বসবাস করে না। সেই কারাগারে স্যাঁতস্যাঁতে একটা ঘরের মধ্যে রাখা হয়েছে। কারাগারের মধ্যে প্রতিদিন অসুস্থ হচ্ছেন। প্রতিদিন ক্রমান্বয়ে তার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে। গতকাল তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন । তখন আমরা জানতে পেরেছি যে খালেদা জিয়া এতোই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচ তলায় নামতে পারেননি।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলছি, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হোক। বিশেষ করে ইউনাইটেড হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা বারবার বলেছি তার যে ধরনের পরীক্ষা বা এমআরআই করা দরকার তা অন্য হাসপাতালে করা সম্ভব নয়। এটা একমাত্র ইউনাইটেড হাসপাতালে ব্যবস্থা আছে। কারণ তার দুই হাঁটুতে আর্টিফিশিয়ালভাবে প্রতিস্থান করা আছে। সেখানে মেটালিক। সেই কারণ অন্য কোথাও তার এমআরআই করানো সম্ভব না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এতোবার বলার পরও খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তার পছন্দমত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপরও তারা কোনো ব্যবস্থা প্রহণ করা হয়নি। আমরা জানি কেনো এ সরকার খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছেন। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে তারা আতঙ্কিত। যদি তিনি বাইরে থাকেন, তাহলে গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য যে আন্দোলন তা কোনোভাবেই তারা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে না। একইসঙ্গে তাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমাদের দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধ থাকা। সরকার বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছেন। আজকে মানববন্ধন করার অনুমতি দেওয়ার পর পুলিশের আচরণ কোনোমতেই গণতন্ত্রের পক্ষে নয়। তাই সবাইকে বলবো এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। তার মুক্তি আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি বলেন, অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকার এ বির্তক সৃষ্টি করে নিজেরাই নিজেদের গহ্বরে পড়েছেন। ব্রিটিশ আইনের কোথাও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মধ্যে নাগরিকত্ব বর্জনের কথা নেই। সবসময় পাসপোর্ট রেখেই আশ্রয় প্রার্থনা করেন। অথচ সরকার এ নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তিনি কোনোভাবে নাগরিকত্ব বর্জন করেনি। তিনি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নাগরিক আছেন।

আমাদের একমাত্র আহ্বান আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত, গণতন্ত্রকে মুক্ত, ভোটের অধিকার মুক্ত করি। নির্বাচন করতে হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। খালেদা জিয়া ও রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। তাহলে নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তাই সরকারকে জানাতে চাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো। এ জন্য সব রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ, ব্যক্তি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানাই।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকার অবৈধ সরকার খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পর প্রথমে ডিভিশন না দিয়ে তাকের নির্যাতন করেছে। একটি জামিন যোগ্য মিথ্যা মামলায় তাকে কলা-কৌশলে জামিন দিচ্ছে না। সরকার খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি পাতানো খেলা খেলতে চায়। কিন্তু সেই খেলা তারা আর খেলতে পারবে না। জনগণ এই সরকারকে প্রত্যাখান করেছে। তারা শুধু সুযোগ পেলে ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিবে।

তিনি বলেন, সেই নির্বাচনকে সরকার বলেছিল নিয়ম রক্ষার ও সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

সরকারের নিপীড়নের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদেরকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। কথা বলার জায়গা নেই। অবৈধ সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির মতো একটি জনপ্রিয় বিশাল রাজনৈতিক দলকে স্বল্প পরিসরে কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল না। আসলে দেশে স্বৈরশাসন চলছে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই। সংবিধান মানা হচ্ছে না। তিনি অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.