বাসে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি

তুরাগ বাসের চালক হেলপারসহ তিনজন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা চালকসহ তিনজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। গুলশান থানা-পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেেিত ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী গতকাল তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যাদের রিমান্ডে দেয়া হয়েছে তারা হলো, বাসচালক রোমান (২৭), কন্ট্রাক্টর মনির (২৭) ও হেলপার নয়ন (২৯)।
আদালত প্রতিবেদক জানান, রিমান্ড প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি চলন্ত বাসে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর মামলা। তদন্তের পর্যায়ে আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনমূলক নানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার শুরু থেকে শেষ অবধি আসামিরা কে কী ভূমিকা নিয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা কী তা জানার জন্য আসামিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা একান্ত প্রয়োজন। এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন।
এ দিকে ওই ঘটনায় সকালে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ছাত্রী। এরপর তিনি নিজ জিম্মায় বাসায় ফেরার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ২১ এপ্রিল বাড্ডা থেকে উত্তরা ইউনিভার্সিটি যেতে তুরাগ বাসে ওঠেন ওই ছাত্রী। বাসটি নতুন বাজার যাওয়া পর হেলপার ও কন্ট্রাক্টর তাকে অশ্লীল কথাবার্তাসহ যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে হাত চেপে ধরার পাশাপাশি শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। ওই ঘটনায় গত ২২ এপ্রিল ছাত্রীর স্বামী বাদি হয়ে গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে রোমান, মনির ও নয়নকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ দিকে ঘটনাটি উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরই শিার্থীরা রাস্তায় নামেন। তারা রোববার যাত্রাবাড়ী থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তুরাগ পরিবহনের বাসগুলো উত্তরায় পৌঁছালেই সেগুলো থামিয়ে দেন। বাসের যাত্রীদের অন্য বাসে তুলে দিয়ে চালককে তাদের ক্যাম্পাসের কাছে বাস চালিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেন এবং বাসের চাবি কেড়ে নেন। চলন্ত বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে তুরাগ পরিবহনের ৩৫টি বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ করেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা। অভিযুক্ত বাসচালক ও তার সহকারীকে গ্রেফতারে তারা গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেফতার হওয়ার পরই বাসগুলো পুলিশকে বুঝিয়ে দিয়েছেন শিার্থীরা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.