রহমত উল্লাহ এমপি হলেও এলাকা চালায় ভাগ্নে ফারুক

দুখু হত্যায় ২৭ জনকে আসামি করে মামলা : গ্রেফতার নেই কেউ
আবু সালেহ আকন

বাড্ডার বেরাইদে জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের ভাই দুখু হত্যার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় সূত্র বলেছে, এই ঘটনার মূল হোতা ভাগ্নে ফারুক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় রয়েছে। এর আগেও অসংখ্য অপরাধের সাথে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভাগ্নে ফারুকের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি। আশঙ্কা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীরের ভাই দুখুকে হত্যার পরেও ভাগ্নে ফারুক পার পেয়ে যেতে পারে।
গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ভাই কামরুজ্জামান দুখু। স্থানীয় সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহর ভাগ্নে ফারুক ও তার সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহর সাথে জাহাঙ্গীরের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে এর আগেও কয়েক দফায় এই দুই গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে জাহাঙ্গীরের ভাই দুখুকে গত ২২ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে বেরাইদে বালু নদীর তীরে ক্রাউন সিমেন্টের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই ঘটনায় ভাগ্নে ফারুক সরাসরি অংশ নেয়।
এলাকাবাসী বলেছেন, ভাগ্নে ফারুক ওই এলাকার ত্রাস। তার ভয়ে অনেকেই তটস্ত। রহমত উল্লাহ এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হলেও অঘোষিত সংসদ সদস্য হলো তার ভাগ্নে ফারুক। এলাকায় তার নির্দেশ ছাড়া কিছুই হয় না। স্থানীয় সূত্র জানায়, কোনো কোনো কাজে রহমত উল্লাহরও হাত নেই। ভাগ্নে ফারুক ওই সব কাজ করলে সেখানে রহমত উল্লাহও কিছু বলতে পারেন না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার শত শত মানুষের জমি দখল করে সেখানে মাছের ঘের দিয়ে ব্যবসা করে আসছে ভাগ্নে ফারুক। কিন্তু এলাকার মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই তাদের জমিজমার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেক মানুষ আছেন যারা ওই এলাকায় জমি ক্রয় করে সেই জমির দখল বুঝে পাননি আজো। সেই জমির দখল ভাগ্নে ফারুকের কাছে। এলাকায় তার ইচ্ছে ছাড়া কেউ বাড়িঘর নির্মাণতো দূরে থাক; প্লটে বালু ভরাটও করতে পারেন না। বালু ভরাটের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ভাগ্নে ফারুকের নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য। এই মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ করে ভাগ্নে ফারুকের বাহিনীর লোকজন। ভাগ্নে ফারুক গ্রুপের আরিফ, পুলক, মানিক, রমজান, প্রবন, মান্নান, অনিক ও রায়হানসহ দুই শতাধিক সক্রিয় সন্ত্রাসী রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। এরা সবাই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বলে তাদের কেউ প্রতিবাদও করতে সাহস পায় না। পুলিশের সামনে ঘটনা ঘটিয়েও এর আগে তারা পার পেয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে উল্টো পুলিশ সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ভাগ্নে ফারুক বাহিনী কোনো অপরাধ করলে পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করত। যার নির্মম শিকার হয়েছেন দুখু। দুখুকে হত্যার সময়ও ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশ ছিল। দুর্বৃত্তরা পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই পালিয়েছে।
এ দিকে দুখু হত্যার ব্যাপারে গতকাল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তা স্বীকার করছে না। রাত ৮টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অথচ দুখুর ভাই জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান বলেছেন, মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ভাগ্নে ফারুকসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। থানা পুলিশ বলেছে, এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সন্ত্রাসীরা তার ভাইকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে নির্বিঘেœ চলে গেছে। জাহাঙ্গীর বলেন, এই দুর্বৃত্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, ভাগ্নে ফারুক বর্তমানে প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় রয়েছে। ঘটনার পরপরই সে তার আশ্রয়দাতাদের কাছে চলে যায়। আশঙ্কা রয়েছে সে আদৌ গ্রেফতার হবে কি না তা নিয়ে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.