ঢাবির হলে অধিকার চেয়ে ছাত্রলীগের হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীরা

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা’ সূর্য সেন হলে প্রাধ্যক্ষের সাথে মতবিনিময়কালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার চেয়ে কথা বলায় রাতে ছাত্রলীগের হয়রানির শিকার হয়েছেন বেশ কয়েক শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের হল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে ছাত্রলীগ। পরে হল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধা হয়। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সন্ধ্যায় সাম্প্রতিক ইস্যুতে মাস্টারদা’ সূর্য সেন হলে শিার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। হলের টিভিরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, হলের আবাসিক শিক, শিার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মশিউর রহমান, ফিন্যান্স বিভাগের সাদ্দাম, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শওকতসহ বেশ কয়েক শিার্থী হল সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ সময় শিার্থীরা বলেন, আমরা যারা কোটা আন্দোলনে যোগ দিয়েছি তারা বিভিন্ন রকম হুমকি পাচ্ছি। আমাদের হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। হলে আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা ও স্বাধীনভাবে কথা বলার জায়গা। অথচ আমরা আজকে কথা বলতে পারি না। আমাদের কথা বলার জায়গা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন কেন দেয়া হচ্ছে না। আপনারা ইচ্ছে করলেই এটা সম্ভব।
আবাসন সঙ্কট এবং হলের সিট বরাদ্দ নিয়ে শিার্থীরা বলেন, হল থেকে সিট বরাদ্দ দেয়া হয় কিন্তু আমরা সে সিটে উঠতে পারি না। সে সিটগুলো দখল করে রাখেন অন্যরা। হলে অনেকে একজনে দুই-তিন রুম দখল করে রাখার মতো নজিরও আছে। অথচ আমরা এককে থাকি আট নয়জন করে। আমরা যারা বিশ^বিদ্যালয়ে ওঠার আগে ১৪-১৫ ঘণ্টা করে পড়ালেখা করতাম এখানে এসে দুই ঘণ্টাও পড়ার সুযোগ পাই না। সকালে ঘুম থেকে উঠলেই আমাদের ছাত্রসংগঠনের প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে তারা প্রোগ্রামে যাবেন। কিন্তু কেন আমাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে প্রোগ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।
এ ছাড়াও শিার্থীরা ক্যান্টিনের খাবারের দাম, পানির সমস্যা, নোংরা টয়লেট, মসজিদের ইমামসহ (যার কেরাত শুদ্ধ না) বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। শিার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হল প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাধ্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হলটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১ হাজার শিার্থীর থাকার জন্য। অথচ শিার্থী অনুপাতে হল না থাকায় এখন এ হলে প্রায় আড়াই হাজার শিার্থীকে থাকতে হচ্ছে। তাই কিছু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, শিার্থীদের নিরাপত্তাসহ হলে যেকোনো বিষয়ে কোনো সমস্যা হলে তোমরা সরাসরি আমার কাছে অভিযোগ করবে। আমি অবশ্যই এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। আমাদের হলে অভিযোগ বক্স আছে। কেউ নাম প্রকাশ করতে না চাইলে অভিযোগ বাক্সে অভিযোগ দিতে পারো। আমাদের তোমরা ইনফরমেশন দিয়ে সহায়তা কর। কোন কে অবৈধ শিার্থী আছে। আমরা ব্যবস্থা নেবো। আবাসিক শিকদের শিার্থীদের সমস্যাগুলোর পাশে থাকতে আহ্বান জানান তিনি।
এ দিকে মতবিনিময় শেষে রাতে যারা কথা বলেছেন তার মধ্যে শওকত ও মশিউরকে হল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। হলের শিক্ষার্থী এবং বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের নির্দেশে তাদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম সারোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন। পরে আবাসিক শিকদের হস্তেেপ তা বন্ধ হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম সারোয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, মতবিনিময় সভা হয়েছে। তবে বের করার চেষ্টা-এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন বলেন, কিছু শিক্ষার্থী তাদের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। কিন্তু তাদের বের করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়নি। বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানকে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.