শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার অভিযোগ
শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার অভিযোগ

ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি শাসকদলের!

খুলনা ব্যুরো

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু শাসক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ করার জন্য ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তারা ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে তিনি ভোট ডাকাতির চিন্তা বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করে দেন। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, সরকার চায় ভোটাররা যেন ভোট কেন্দ্রে না যায় এবং প্রশাসন আজ্ঞাবহ থাকে। গত কয়েক দিনে লক্ষ করা যাচ্ছে শেখ পরিবারের সদস্যরা খুলনায় খুবই তৎপর। রাতে প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন। এটি আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ শহরের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে এবং ধানের শীষে ভোট দিতে তারা অভ্যস্ত। ভোটারদের রায়ের প্রতি যাদের আস্থা নেই, তারা কানাগলি খুঁজছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেহারা দেখলে বোঝা যাচ্ছে কী একটা নির্দেশনা তাদের ওপরে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের এমন ছোটখাটো নির্বাচনে না জড়িয়ে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামানোর জন্য তিনি শেখ পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা চাই কেসিসি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এটি সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। এ নির্বাচনে সরকার ভুল করেও হস্তক্ষেপ করবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয়, ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে তা হবে সরকারের গলার কাঁটা। দেশে একটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ। চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতও বলেছে তারা একটি অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। এখানে ভোট ডাকাতি হলে প্রমাণ হবে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করবে। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের কোমর শক্ত কি না তাও এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হবে।

দুই দিন ধরে নগরীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফারুকের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর করেছে এবং তার পরিবারকে হুমকি দিয়েছে একটি বাহিনী। একই বাহিনী ১০-১৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ৯০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা আবদুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে হুমকি দিয়েছে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক হুইপের ভাই দারা বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে একজন দাঙ্গাবাজ ছাত্রলীগ নেতা ও তার কর্মীরা একইভাবে হুমকি দিচ্ছে। গতকাল যারা ফারুক ও রাজ্জাকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল, তারা বলেছে আমরা ময়লাপোতা মোড় থেকে এসেছে। এটি ইঙ্গিতবহ, আমরা তাদেরকে দায়ী করতে চাই না। পুলিশকে আমরা বলেছি, সন্ত্রাসীর তালিকা বানাতে। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের তালিকা বানিয়ে অভিযান শুরু করেছে। এখানে ডন বাহিনী, কোন বাহিনী ইত্যাদি বাহিনী আছে। যারা মানুষ হত্যা করেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, সেখানের ভোটের ফলাফল ছিনতাই হয়েছে। খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে। এ শহরে ভূমিদস্যুতা করেছে, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে পিটিআই মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষ খুন করেছে। চাঁদাবাজি করেছে, টেন্ডারবাজি করেছে। কিন্তু পুলিশের খাতায় সন্ত্রাসী হিসেবে তাদের নাম নেই। এ শহরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে যারা মিথ্যা ও হয়রানিমূলকভাবে পুলিশের দেয়া সাজানো-পাতানো মামলার আসামি হয়েছেন তাদের তালিকা করা হয়েছে। যেন তারা মাঠ ছেড়ে চলে যান। এ শহরের মাদকের প্রসার ঘটার খবর শহরবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিনা ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির দুদকে তলব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া প্রতিবেদন, এ নিয়ে সরকারি দল আবার নতুন প্রচারে নেমেছে। যে প্রচার হাস্যকর।

তিনি বলেন, শীতলাবাড়ীর সামনে একজন পূজারী মহিলাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। সেই হত্যাকারীরা গ্রেফতার হয়নি। তাদের বিচার হয়নি। খুলনার হিন্দুসমাজ উদ্বিগ্ন। তাদের অনেকের এ সরকারের শাসনামলে দখল হয়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের দাবি থাকবেÑ এ ধরনের তালিকা প্রস্তুত না করে সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করুন। তফসিল ঘোষণার পরই সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ ৯ দফা স্মারকলিপি দিয়েছিলাম নির্বাচন কমিশনে; যার একটি দফাও নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়ন করেনি। এতে বোঝা যায়, বর্তমান সরকারের গড়া নির্বাচন কমিশন কতখানি আজ্ঞাবহ। সে জন্য জনগণকে নিরাপত্তা দিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের বদলি-তদবিরে এ শহরে পুলিশ কর্মকর্তারা দীর্ঘ দিন চাকরি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। অনেকেই এ শহরে বাড়িঘর শুরু করেছেন। এ শহরে তাদের আত্মীয়স্বজন আছেন। মহানগরী ও জেলায় আদিবাড়ি তারাও এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা বারবার তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছি।

সিইসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ভোটারদেরকে নিরাপদে ভোট দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করুন। সেনা মোতায়েন করুন। যে পুলিশ এখানে আছে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা নেই। হাত-পা গুটিয়ে বসে থেকে আমাদেরকে সঙ্ঘাতময় পরিবেশের দিকে ঠেলে দিলে জনগণ ক্ষমা করবে না।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সভাপতি মঞ্জু বলেন, সোনালী জুট মিলে আমরা সভা করার পর সিবিএ সভাপতিকে পুলিশ হুমকি দিয়েছে। কেউ আমাদের মিটিং করতে মিলনায়তন ও হোটেল ভাড়া যেন না দেয় সে জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। ক্রিসেন্ট জুট মিলে আমাদের মিটিংয়ের অনুমতি দেয়ার পর সভার এক ঘণ্টা আগে বাতিল করেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, আবদুল জলিল খান কালাম, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, এস এ রহমান, মো: ফকরুল আলম, শেখ আবদুর রশিদ, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এহতেশামুল হক শাওন ও শামসুজ্জামান চঞ্চল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.