মানবাধিকার লঙ্ঘনে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় যে সাত দেশ
মানবাধিকার লঙ্ঘনে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় যে সাত দেশ

মানবাধিকার লঙ্ঘনে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় যে সাত দেশ

রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বার্ষিক এই প্রতিবেদনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শীর্ষে অবস্থান করছে চীন, রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার, ভেনিজুয়েলা এবং তুরস্ক।

প্রতি বছর বিশ্বের ২০০টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সরকারকে ‘অস্থিতিশীল’বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনা প্রশাসন নির্বিচারে আটক, নির্যাতন, বাক-স্বাধীনতা হরণের মত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘোর জনগোষ্ঠী এবং তিব্বতের নাগরিকদের চলাফেরা ও ধর্মীয় অধিকারের ওপর বাধা আরোপের অভিযোগ রয়েছে।

বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, কৌশলগত নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, রাজনৈতিক বন্দিত্ব, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার অভাব, গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ এর জন্য প্রতিবেদনে রাশিয়াকে দায়ী করা হয়েছে।

২০১৭ সালের পুরোটা সময় জুড়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনের শিকার হয়েছে। রাখাইনে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, আটক, হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আটক, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সিরিয়ার মানবাধিকার ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার, আবাসিক এলাকায় বোমা হামলা, ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট ও স্থাপনা ধ্বংস, চিকিৎসা সামগ্রী নষ্ট, মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ, যুদ্ধাস্ত্র, গণহত্যা, ক্ষুধা, বাস্তুহারা নাগরিকদের শরণার্থীতে পরিণত হওয়ার মত নৃশংস ঘটনাগুলো বলে দেয় দেশটিতে মানবাধিকার নির্মমভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া মৌলিক মানবিক অধিকারের প্রতিটি ক্ষেত্রই লঙ্ঘন করেছে। জীবনের সাধারণ কার্যক্রমেও সেখানে বিধি-নিষেধ রয়েছে। ২০১৬ সালে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে পর দেশটির সরকারের ওপর সাংবাদিক ও আইন-প্রণেতাসহ হাজারো নাগরিকদের আটক, জরুরি অবস্থার সুযোগে নির্বিচারে নির্যাতন, গুম, আটক-গ্রেপ্তারের মত ঘটনা ঘটেছে।

ভেনিজুয়েলায় মাদুরো সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করছেন বিশ্ব নেতারা
আলজাজিরা

ব্রিটেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের গোঁড়ামিনীতি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ফলে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ুণœ হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্ব নেতারা গোঁড়ামিনীতি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের অধিকার ুণœ করছেন। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সারা বিশ্বে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১৭ সালে বিশ্বের যেসব নেতা গোঁড়ামিনীতি অবলম্বন করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আরো রয়েছেন মিসর, ফিলিপাইন ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।

প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন থেকে বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির প্রধান সালিল শেটি বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতিতে এখন প্রচুর বিদ্বেষ। খুব অল্পসংখ্যক সরকারই মানবাধিকারের পে লড়াই করে।’ তিনি আরো বলেন, আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি, রডরিগো দুতার্তে, নিকোলাস মাদুরো, ভ্লাদিমির পুতিন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং লাখ লাখ মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন।

দায়িত্ব নেয়ার পর জারি করা ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞাকেও ‘স্পষ্টত একটি বিদ্বেষমূলক পদপে’ বলে আখ্যা দিয়েছে অ্যামনেস্টি। ওই নিষেধাজ্ঞায় মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছিল। শেঠি বলেন, বিদ্বেষের চরম উদাহরণ ছিল সেই পদপে।
৪০০ পৃষ্ঠার ওই রিপোর্টটি বিশ্বের ১৫৯টি দেশের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়। ট্রাম্পের বিষয়টি ছাড়াও রিপোর্টে রোহিঙ্গা ইস্যু উঠে আসে। মিয়ানমারের সঙ্কট ও রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞকে সমাজে বাড়তে থাকা বিদ্বেষের ফলাফল আখ্যা দিয়েছে তারা। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক প্রচারণা সেখানকার সমাজকে বিদ্বেষী করে তুলেছে। সমাজের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়া সেই বিদ্বেষকেই রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের কারণ।

এ ছাড়া ভুয়া সংবাদ দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টিও ঠাঁই পায় এতে। মানবাধিকার ইস্যুতে পদপে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ব নেতাদের সমালোচনাও করা হয় রিপোর্টে। শোষণের শিকার মানুষদের আন্দোলনের বিষয়টিও তুলে আনে অ্যামনেস্টি। শেঠি বলেন, ‘ট্রাম্পের নীতির কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন যুগে প্রবেশ করেছি আমরা।’ সামনের বছরগুলোতে প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.