নিরাপত্তাহীন রাতের ফ্লাইওভার

ইফতেখার আহমেদ টিপু

রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলোয় রাতের বেলায় ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হিসেবে বদনাম কিনেছে মগবাজার ফ্লাইওভার। প্রায়ই রাতের বেলায় এই ফ্লাইওভারে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ছে প্রাইভেট গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল চালকেরা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই ফ্লাইওভারের ল্যাম্পপোস্টগুলোয় রাতের বেলায় লাইট জ্বলে না এটি চালু হওয়ার কয়েক দিন পর থেকেই। মূল ফ্লাইওভারে নেই সিসি ক্যামেরা। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ খুঁটির গোড়া থেকে চোরেরা বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যাওয়ায় রাতের বেলায় অন্ধকারে ডুবে থাকে ফ্লাইওভারটি।

রাজধানীতে সাতটি ফ্লাইওভারের মগবাজারকেন্দ্রিক ফ্রাইওভারটি গত বছর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে কুড়িল ফ্লাইওভারটিও উদ্বোধন করা হয়। মহাখালী, খিলগাঁও, বনানী ও তেজগাঁও এলাকায় আরো চারটি ফ্লাইওভার রয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে এসব ফ্লাইওভার বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু ফ্লাইওভারগুলোয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় কার্যত এগুলো অরক্ষিত। অপরাধী, ছিনতাইকারীদের ভয়ে রাতে ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল আরোহীরা যখন-তখন বিপদে পড়ছেন। মাদকসেবীদের আস্তানা হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে বেশির ভাগ ফ্লাইওভার। বেশির ভাগ ফ্লাইওভারের নিচে ভোরবেলা এবং সন্ধ্যায় চলে মাদক সেবন ও বিক্রি। আর সন্ধ্যার পর শুরু হয় ছিনতাইকারীদের উৎপাত। ফ্লাইওভারের ওপর তারা গাড়ি পার্ক করে ছিনতাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে।

রাজধানীর ফ্লাইওভারগুলো যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সর্বাঙ্গীণ সুফল অর্জিত হচ্ছে না। বিশেষত নিরাপত্তার সঙ্কট ব্যবহারকারীদের জন্য বিসংবাদ ডেকে আনছে। ফুট ওভারব্রিজগুলোর অবস্থাও অভিন্ন। এ নেতিবাচক অবস্থার অবসানে ফ্লাইওভার ও ফুট ওভারব্রিজে পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থাসহ নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে হবে। বিশেষত ফ্লাইওভারে গাড়ি ছাড়া কারো চলাচল, আড্ডা দেয়া নিষিদ্ধ করা দরকার। ফ্লাইওভারে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ভাবতে হবে।

বিভিন্ন ছিনতাইকারী চক্র তাদের কাজের সুবিধার জন্য বিরূপ আবহাওয়াকে বেছে নেয়। ঝড়, বৃষ্টি কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে সুযোগ খোঁজে এরা। মাঝে মধ্যেই এরা বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতিবাজ মেরামতকারীদের ম্যানেজ করে ফ্লাইওভারের ল্যাম্পপোস্ট দীর্ঘ দিন ধরে অচল করে রাখে। ভুক্তভোগীরা জানান, অন্য এলাকা থেকে ফ্লাইওভারে নজরদারি কম থাকায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য ইতোমধ্যেই নিরাপদ জোন হিসেবে বেছে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত বছর খিলগাঁও ফ্লাইওভারের ওপর এক তরুণীর বস্তাবন্দী লাশ ফেলে রেখে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।

এদিকে ফ্লাইওভারগুলোর নিচের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় মাদকাসক্তদের আড্ডাসহ অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়েছে। গত বছর উদ্বোধনের কয়েক দিনের মধ্যেই মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নিচে চায়ের দোকান, অবৈধ পার্কিং, ফলের দোকান দিয়ে দখল করা হয়েছে ফাঁকা জায়গা। আর রাত হলেই ফ্লাইওভারের নিচে বসছে মাদকের আড্ডা। গুলিস্তানে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে ঘোড়ার আস্তাবল, বাসস্ট্যান্ড, জুতার মার্কেট, মুদি দোকান আর হকারদের আবাসস্থল বহুদিন ধরেই। কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচের অংশও চলে গেছে অবৈধ দখলকারীদের হাতে। শুধু মহাখালী এবং বনানী ফ্লাইওভার নিচের অংশ এখনো ফাঁকা আছে। ফ্লাইওভারগুলোকে দখলদারমুক্ত করা না গেলে নিরাপত্তা জোরদার করা যাবে না বলে অভিজ্ঞজনদের অভিমত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্লাইওভারগুলো রাজধানীর পরিবহনসেবায় কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও রাতের ফ্লাইওভার এখন অনেকের কাছে ভয়াবহ আতঙ্কের নাম। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যাদের জন্য সরকার ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে, সেই জনগণের ক্ষতি হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ফ্লাইওভারগুলোয় নিরাপত্তা বিধান করা। অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা।
লেখক : চেয়ারম্যান, ইফাদ গ্রুপ
Email: chairman@ifadgroup.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.