বাংলার দিগন্ত মির্জাগঞ্জে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
বাংলার দিগন্ত মির্জাগঞ্জে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

উত্তম গোলদার মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চলতি রবি মওসুমে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অতীতের কয়েক বছরের তুলনায় এবারে অনেক বেশি ফলন হয়েছে উপজেলার রানীপুর গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে গ্রামটির নাম রানীপুর। এই গ্রামে মাঠ জুড়ে রয়েছে সূর্যমুখীর বাগান। এবারে রোদের প্রখরতা বেশি থাকলেও সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎকৃষ্ট ভোজ্যতেলবীজ হিসেবে সূর্যমুখীর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় নয় হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে রবিশস্যের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুগ তিন হাজার ৫০০ হেক্টর, সূর্যমুখী দুই হেক্টর, ভূট্টা ২০ হেক্টর, আলু ৭৫ হেক্টর, মিষ্টি আলু ১৫০ হেক্টর, মরিচ ৩৫০ হেক্টর, চিনাবাদাম ৯০ হেক্টর ও গম পাঁচ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। উপজেলায় এবারে ১০ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। অনাবাদী জমিতে অধিক ফলনশীল এবং এলাকার কৃষকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন প্রকারের রবিফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।

কৃষক সফল সূর্যমুখী চাষি আবদুর রাজ্জাক বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক কৃষিপণ্য। পাঁচ বছর আগে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাধ্যমে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করি। এরপর থেকে প্রতিবছরই এ ফুলের চাষ করে আসছি। আমাদের দেশে চাষকৃত বিভিন্ন জাতের তেলবীজের চেয়ে সূর্যমুখী আবাদ সহজ এবং লাভও বেশি। তাই অনেক কৃষকই এবারের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, অল্প খরচে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

এ এলাকায় সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য কিনলে কৃষকেরা লাভবান হতেন এবং সূর্যমুখী ফুলের চাষ বেড়ে যেত। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা এখন ব্যস্ত রয়েছেন তাদের শেষ মুহূর্তের পরিচর্যার কাজে। অনেক সূর্যমুখী গাছে ফুল পাকতে শুরু করেছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় চাষিরা দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। তাই অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে কম খরচ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি কম হয় বলে এই আবাদে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, দোআঁশ কিংবা বেলে দোআঁশ মাটিতে সূর্যমুখী বেশ ভালো জন্মে। পানি জমে না এমন জমিতে চার-পাঁচবার চাষ দিয়ে সারি বেঁধে বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের আগে এবং চারা গজানোর পরে জমিতে সার দিতে হয়। তবে বর্তমানে বাজারে যে সয়াবিন তেল রয়েছে তা খুবই নিম্নমানের। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকেরা সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে নিজেদের খাবার চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা করছেন। তবে বেসরকারিভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান এ ফুল কেনার আগ্রহ দেখালে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.