ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন
ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

ঢাবি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ সেল গঠনের দাবি শিক্ষকদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকেরা। গতকাল রোববার সকালে ঢাবির অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষকদের’ ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে ভিসিকে খোলা চিঠি দেন এ শিক্ষকেরা।


অধ্যাপক ড. এম এম আকাশের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাসরীন ওয়াদুদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ব্যাপারি, অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সংগীতা আহমেদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তাসনীম সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খানসহ অর্ধশত শিক্ষক এতে অংশ নেন।


মানববন্ধনে সেল গঠনসহ শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আটটি দাবি উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান। দাবিগুলো হলোÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণœ রাখা, তাদের মত প্রকাশের অধিকারসহ ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিধিসম্মতভাবে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, রাষ্ট্রীয় বাহিনী কিংবা বেসরকারি কোনো গোষ্ঠী দ্বারা কোনো ছাত্রছাত্রী যেন আক্রান্ত না হয় সে জন্য অবিলম্বে একটি বিশেষ সেল গঠন করা, অজ্ঞাত নয় বরং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ভিসির বাসভবনে নারকীয় তাণ্ডব ঘটনানোর সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ভিসির ভবনসহ সব আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।


ঢাবির সাম্প্রতিক ঘটনায় ছাত্রছাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, তোমাদের যেকোনো ন্যায্য দাবির সাথে আমরা সাথে আছি। আমরা পাশে থাকব। যদি ছাত্রদের হয়রানি করা হয়, তাহলে শিক্ষকেরা সমুচিত জবাব দেবে। ছাত্রদের আটক করার আগে আমাদের আটক করতে হবে।


সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রী নির্যাতনকে অত্যন্ত বেদনায়ক মন্তব্য করে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, লেখক এবং গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতিত হলো। সেটা হলো বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমি শুধু বলব প্রাতিষ্ঠানিক নারী নির্যাতনের ঘটনা এটাই যেন সর্বশেষ হয়। তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যিনি ভিসি তিনি শিক্ষার্থীদের যেমন শিক্ষক তেমন অভিভাবকও। ভিসি বলেছেন ছাত্রীদের তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এটা আমার কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মনে হয়েছে।


সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, আমাদের মূল দাবি হলো দু’টি। আমরা ছাত্রদের নিরাপত্তা চাই, শিক্ষকদেরও নিরাপত্তা চাই।


সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন এই সমস্যা সৃষ্টি হলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র স্বায়ত্তশাসন লঙ্ঘন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। ঢাবি স্বায়ত্তশাসন অনুযায়ী পুলিশ যখন তখন এখানে কিছু করতে পারবে না। ক্যাম্পাসে ঢুকতে তাদের পূর্বানুমতি নিতে হবে।


প্রশাসন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি হলে একটি বিশেষ দল গেস্টরুম-গণরুমকে আশ্রয় করে সেখানে ছাত্রদের থাকতে দেয়। সেই সুবাদে তাদের দিয়ে মিছিল করায়। তাদের দিয়ে বিভিন্ন রকম কাজ করায়। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিশেষ আদর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য করে। সেই হলের প্রভোস্ট এবং হাউজ টিউটরের দায়িত্ব ছিল, এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে তাদের বিরত করা। কিন্তু তারা দলের স্বার্থ দেখবেন নাকি ছাত্রের স্বার্থ দেখবেন, এই দুয়ের মধ্যে দোদুল্যমান তারা।


সুফিয়া কামাল হলের ঘটনায় ভিসি কয়েক দফায় বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীকে শাস্তি দেয়ার সময় মনে রাখা উচিত অপরাধীরও ডিফেন্ড করার অধিকার আছে। এ রকম হয় না বলেই আমরা সুফিয়া কামাল হলে দেখলাম একবার বলা হলো ইফফাত পা কেটে দিয়েছে। আবার বলা হলো সেই ছাত্রী নিজেই পা কেটেছে। এ রকম নাটক দেখতে পেলাম। আমরা একবার দেখলাম ভিসি বলছে, আমরা তাকে বহিষ্কার করলাম আবার বললেন আমরা তাকে গ্রহণ করলাম।


প্রশাসন মূল্যবোধ লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের মূল্যবোধ নয়, যে রাত ১টা-২টা বাজে মেয়েদের হল থেকে বের করে দিবো। সুতরাং বাংলাদেশের যে স্বাভাবিক মূল্যবোধ সেটা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
এ সময় তিনি ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার অধিকার অর্থাৎ ডাকসু নির্বাচন দেয়া এবং দায়িত্বশীল প্রশাসন দিয়ে হলগুলোকে দখলমুক্ত করার জন্য ভিসিসহ সবাইকে আহ্বান জানান।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.