৯ কোম্পানির ব্যাংকঋণ ২২ হাজার কোটি টাকা

এ প্রবণতা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতিকূলে

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে নীতিনৈতিকতার কোনো অবশেষ নেই। যে যেভাবে পারছে চলছে। ব্যাংক খাতে যারা ঋণ পাওয়ার অধিকার রাখে তারা ঋণ পায় না। ঋণ পায় সেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি, যাদের ঋণ পরিশোধের ভালো ইতিহাস নেই। সাধারণ মানুষের প্রশ্নÑ যারা হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করছে না। তারা আবার কী করে আইনের নানা কানাগলিপথে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পায়? কী করে গুটিকয়েক ব্যক্তি বা কোম্পানির কাছে চলে যায় ঋণের টাকার বেশির ভাগ অংশ?
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ঋণগ্রস্ত এসব কোম্পানির কারণেই সার্বিকভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারী হতাশায় ভুগছেন। তারা বাজারের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন।
পত্রিকাটি আরো জানায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৯টি কোম্পানির ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন তিন হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর অর্থ হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও মূলধন অনুপাত ৮২:১৮। অ্যাকাউন্টিংয়ের মানদণ্ডে একে বলা হয় ‘ফিন্যান্সিয়াল লেভারেজ’ বা অতিমাত্রিক ঋণঝুঁকি। এর মধ্যে আবার বেশ কিছু কোম্পানি আছে ঋণখেলাপি। আবার কোনো কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে টাকা নিয়ে ঋণ পরিশোধ করছে। এ কারণে অনেক কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞজনদের অভিমত, কোনো কারণে এসব কোম্পানি সমস্যায় পড়লে ব্যাংকঋণ পরিশোধের পর বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারবে না। একইভাবে অর্থনীতিবিদদের অভিমত, এসব কোম্পানি এক দিকে মুদ্রাবাজারে সঙ্কট সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত পাঁচ বছরে কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, সে হারে তাদের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়েনি। এসব টাকা কোম্পানির সম্প্রসারণে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
আমরা মনে করি, গুটিকয়েক কোম্পানিকে এত বিপুল পরিমাণ ব্যাংকঋণ দেয়া মোটেও উচিত হয়নি। এ ধরনের ঋণ বিতরণের ফলে সাধারণ ঋণগ্রহীতারা যে পরিমাণ ঋণ পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই একটি কোম্পানির অর্থের কী পরিমাণ দেয়া যেতে পারে তার একটি ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেয়া দরকার। একই সাথে দেয়া ঋণ যথাসময়ে যাতে পরিশোধ হয়, সে ব্যাপারে কড়া নজর রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটিকে; একই সাথে দেশের ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংককে। তা ছাড়া ঋণ দেয়ার সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন কত ও ব্যাংকঋণের পরিমাণ কত তা বিবেচনায় রাখতে হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই শুধু বিভিন্ন কোম্পানিকে ঋণ মঞ্জুর করতে হবে। নইলে শেয়ারবাজারের ওপর জনগণের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.