ইসলামপুরে ধান ক্ষেতে ফের ব্লাস্ট রোগ

খাদেমুল বাবুল, ইসলামপুর (জামালপুর)

জামালপুরের ইসলামপুরে গত বছরের সেই সর্বনাশা ব্লাস্ট রোগে এ বারও আক্রান্ত হয়েছে উপজেলার ব্রি (২৮) জাতের অধিকাংশ ধান ক্ষেত। উপজেলা কৃষি বিভাগ এ রোগের প্রতিরোধ/ প্রতিকার সম্ভব হয়নি। গত বছর এ রোগের কারণে উপজেলায় ধান উৎপাদন ২/৩ অংশে নেমে এসে ছিলো বলে জানা গেছে। এ বারও ব্রি (২৮) জাতের ধান ক্ষেতে ছত্রাক জনিত ব্লাস্ট রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কৃষি প্রধান ইসলামপুরের কৃষকরা হতাশার মধ্যে রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি ইরি-বোরো মওসুমে ইসলামপুরে উপশী ব্রি (২৮) ধান ৪৯২ হেক্টর, ব্রি (১৯) পাঁচ হাজার ৬৩৫ হেক্টর, ব্রি (৩৫) ৯৫ হেক্টর, ব্রি (৩৬) ১৯০ হেক্টর, ব্রি (৪৫) ২৫৫ হেক্টর, ব্রি (৪৭) ২১০ হেক্টর, ব্রি (৫০) ৯০ হেক্টর, ব্রি (৫৪) ৩১০ হেক্টর, ব্রি (৫৯) ১৫৫ হেক্টর,ব্রি (৬০) ১২০ হেক্টর, ব্রি (৬১) ১৫০ হেক্টর, ব্রি (৬২) ১৮০ হেক্টর, ব্রি (৬৪) ১৯০ হেক্টর, ব্রি (৬) ১৮০ হেক্টর, ব্রি (৮) ১১০ হেক্টর, হাইব্রিড হীরা- ২৩৫ হেক্টর,জাগরন-৩০২ হেক্টর, এসিআই- ৪০০ হেক্টর, রাইচর-২০০ হেক্টর, আলোড়ন-১৫০ হেক্টর, এসএল- ৮ এইচ ৫৫০ হেক্টর, সোনার বাংলা- ৮৪ হেক্টর, শক্তি-১২০ হেক্টর, ময়না- ১২০ হেক্টর, টিয়া-১৫০ হেক্টর, বালিয়া (১) ৫০ হেক্টর, বালিয়া (২) ৪০ হেক্টর, কৃষিবিদ (১) ১৫০ হেক্টর, সাথী ৮৪ হেক্টর, তেজ-২২৫ হেক্টর, দোয়েল-১১৮ হেক্টর, গোল্ড-১২০ হেক্টর, তিনপাতা (৪) ৮৫ হেক্টর, ব্রি হাউব্রিড (১) ৯০ হেক্টর, (২) ৭৫ হেক্টর, চমক- ৮০ হেক্টর, রাজলক্ষী-৭৫ হেক্টর, পান্না- ৫০ হেক্টর, রূপসী-৫৫ হেক্টর, বিআর (১৪) ৮০ হেক্টর, বিআর (১৬) ৩২০ হেক্টর এবং দেশীয় জাতের কালি বোরো- ১৯৫ হেক্টর, চন্দন বোরো-১৫ হেক্টর এবং ৫০ হেক্টর টেপী বোরো ধানসহ বিভিন্ন জাতের ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে।

পলবান্ধা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ গ্রামের কৃষক আনপ উদ্দিন ডিহিদার বলেন ১২০ শতাংশ জমিতে ব্রি (২৮) জাতের ধান চাষ করে ছিলাম। গত দুই দিন আগে ক্ষেত ভালই ছিল। হঠাৎ ধানের শীষ মরতে শুরু করেছে। এ রোগ থেকে প্রতিকারের জন্য কৃষি অফিসের পরার্মশ নিয়েও কোন জাজ হয়নি। আগামীতে আর ২৮ ধান চাষ করবে না বলে জানান তিনি।

পৌর এলাকার নটারকান্দা গ্রামের কৃষক রহমত আলী জানান, এ রোগ প্রথম দু-একটি ধানের শীষে দেখা দেয়। পরে পুরো ধান ক্ষেতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক বার কীটনাশক প্রয়োগ করেও ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
কৃষক তাজুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন জানান, শুধু ব্লাস্ট রোগ কেন কোন বিষয়েই কৃষি অফিসের তদারকি নেই। তারা বলেন- মওসুম প্রায় শেষের দিকে। তবু এখন পযর্ন্ত কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তাকে মাঠে দেখা যায় নি।

স্থানীয় কৃষি অফিস কৃষকদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান প্রতিটা সময় তারা ধানের নানা রোগ বালাইয়ের ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণার লিপলেট ও ব্যবস্থাপত্র বিতরণের পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ধানের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে , অধিকাংশ ব্রি (২৮) ধানের জমি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় পাথর্শী ইউনিয়নের হাড়িয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক হাজী ওমর আলীকে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত মরা ধান কেটে গো-খাদ্য হিসাবে বিক্রি করতে দেখাগেছে। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন অনেক চেষ্ঠা করেছি কিন্তু প্রতিরোধ করতে পারি নি। তাই গো-খাদ্য হিসাবে বিক্রি করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়ীত্ব) কৃষিবিদ মতিয়ার রহমান বলেন কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক সময় কৃষকদের সঠিক পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। যাতে ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগসহ কোন বালাই ছড়াতে না পারে।
নবাগত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন বলেন ব্লাস্ট রোগটি পানি ও বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। তাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্রি ধান (২৮) এর কিছু কিছু ক্ষেত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হলেও টানা কয়েক দিন রোদ হলেই এ রোগ সেড়ে যাবে।

এলাকাবাসী জানায় গত বছর ব্লাস্ট রোগে ধানের যে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে ছিলো। এ বছরও একই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ইসলামপুরের ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষকরা এ বারও ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং কৃষকরা আগামীতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে অভিমত সচেতন মহলের ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.