তুরস্ক ও মিয়ানমারের প্রতি যে  আহ্বান জানালো যুক্তরাষ্ট্র
তুরস্ক ও মিয়ানমারের প্রতি যে আহ্বান জানালো যুক্তরাষ্ট্র

তুরস্ক ও মিয়ানমারের প্রতি যে আহ্বান জানালো যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্স

মার্কিন ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে মুক্তি দিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লেখা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ৪৩ জন রিপাবলিকান ও ২৩ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর। এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

অ্যান্ড্রু ব্রুনসন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তুরস্কে বসবাস করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত গোষ্ঠীটিকে সহায়তা করার অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় তাকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ব্রুনসনের নিজের রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস ও ডেমোক্র্যাট নেতা জেনি শাহিনের নেতৃত্বে চিঠিতে বলা হয়,‘আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, তুরস্ক সরকার অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বৈধ পদক্ষেপকে অতিক্রম করে ফেলেছে। এর মাধ্যমে তুরস্কের নিজস্ব আইন ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকেই হেয় করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সদস্য জেনি শাহিন ও রিপাবলিকান সিনেটর ল্যাঙ্কফোর্ড আলাদা বিবৃতিতে বলেন, ব্রুনসনের কারাদণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তারা আগামী বাজেট অধিবেশনে তুরস্কের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন।

চিঠিতে সিনেটররা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দায়িত্ববান মার্কিন নাগরিকের অধিকারকে সম্মান করানোর জন্য তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। যাতে তুরস্কে মার্কিন নাগরিককরা কোনো ধরনের বিচারের ভয় ছাড়াই অবস্থান করতে পারে।
মিয়ানমারের কারাগারে আটক থাকা রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন কূটনীতিক স্যাম ব্রাউনবেক। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিচালিত জাতিগত নিধনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ওই দুই সাংবাদিক গ্রেফতার হয়েছিলেন। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্যাম ব্রাউনবেক বলেন, ‘মিয়ানমারের জেলে আটক থাকা সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া উচিত। মিয়ানমারে এবং অঞ্চলটিতে সাংবাদিকদের মুক্তভাবে চলাচল করতে দেওয়া উচিত, যেন তারা খবর সংগ্রহ করতে পারে।’

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম ইনদিনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের রাখা হয় গণকবরে। ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে নেমেছিলেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ও। ডিসেম্বরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এরপর অভিযোগ আনা হয় দাফতরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের আইনে। ফেব্রুয়ারিতে ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেই তদন্তের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত ৭ সেনাকে এ মাসেই ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সেনা সদস্যদের সাজা ঘোষিত হলেও রয়টার্সের সেই ২ সাংবাদিক দাফতরিক গোপনীয়তার আইন লঙ্ঘনের দায়ে এখনো আটক রয়েছেন। জানুয়ারি থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশের যুগে প্রণীত ওই আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে কি না, তা নিয়ে শুনানি চলছে। অভিযুক্ত হয়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সাজা ঘোষিত হতে পারে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.