গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামায শেষে হাসান উদ্দিন সরকার ও জাহাঙ্গীর আলমের কুশল বিনিময় করেন  : নয়া দিগন্ত
গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামায শেষে হাসান উদ্দিন সরকার ও জাহাঙ্গীর আলমের কুশল বিনিময় করেন : নয়া দিগন্ত

শুক্রবার ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রার্থীরা

মোহাম্মদ আলী ঝিলন গাজীপুর
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীরা শুক্রবার জুমাবার হওয়ায় ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় প্রার্থীদের সমর্থনে দিনভর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও কর্মকর্তা-ভোটাররা প্রার্থীদের বাসায় ভিড় জমিয়েছেন এবং কথাবার্তা বলেছেন ও সমর্থন জানিয়েছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রার্থীরা নানা কৌশল ও প্রচারণা নিয়ে তাদের উপদেষ্টা ও কর্মী-সমর্থকদের সাথে দফায় দফায় ঘরোয়া বৈঠক করছেন। অনেক প্রার্থী নানা প্রতিশ্রুতিসংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আবার অনেকে নির্বাচনী প্রচারে নামার শেষ মুহূর্তে নানা বিষয় যাচাই-বাছাই করছেন। এ ছাড়া এ দিন তারা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার মসজিদে ভোটারদের সাথে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। এ সময় তারা ভোটারদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেছেন। জুমার নামাজে অংশ নিতে গিয়ে প্রার্থীরা ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে কিছু সময় কাটিয়ে নানা আশার বাণী শুনিয়েছেন। গাজীপুরের এ নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী এ দিন একই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। এ দিন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে আগামী মঙ্গলবার এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মে। প্রতীক বরাদ্দ ও ভোট গ্রহণকে সামনে রেখে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে জোরেশোরে নেমে পড়বেন। তাই ইতোমধ্যে তারা প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমকে স্বাভাবিক ও বেগবান করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৈরি করা হয়েছে নির্বাচনী প্রচার কমিটি। প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বচনী প্রচারে মাঠে নেমে পড়বেন। যাবেন ভোটারদের বাড়ি, দোকান, বাজার, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিক শুরু না হলেও প্রার্থীরা নানা কৌশলে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগে থেকেই নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য ভোটারদের কাছে গিয়ে দেখা করে তাদেরকে পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন। 
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম শুক্রবার দিনভর ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। দিনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি বাসায় কাটিয়েছেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ও বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন তার সাথে দেখা করে সমর্থন জানিয়েছেন। 
এ দিকে ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা শুক্রবার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে ছয়দানা এলাকায় তার বাসভবনে দেখা করেন এবং তাকে সমর্থন জানান। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে কাজ করার জন্য গত রাতে টেলিফোনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর জাপার নেতৃবৃন্দ। 
অপর দিকে এ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত অপর মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দুপুরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় ভোটার ও লোকজনের সাথে দেখা করে কুশলাদি বিনিময় করেন। তিনি দিনের বেশির ভাগ সময় বাসায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। এ সময় তার সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার ও বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন দেখা করে সমর্থন জানিয়েছেন। 
অপর মেয়র প্রার্থীসহ নির্বাচনের অন্য প্রার্থীরাও এ দিন ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। একইভাবে মহিলা প্রার্থীরাও শুক্রবার ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেছেন। 
একই মসজিদে দুই মেয়র প্রার্থীর জুমার নামাজ আদায়
টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, প্রধান দুই দলের মেয়রপ্রার্থী শুক্রবার একই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের খতিব মুনাজাত করেন। মুনাজাতে খতিব বলেন, হে আল্লাহ! হে রাহমানুর রাহিম, যিনি সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর তাকে আপনি মেয়র নির্বাচিত করুন। এ সময় মুসল্লিরা আমিন-আমিন ধ্বনিতে ইমাম সাহেবকে সমর্থন জানান।
মুসল্লিরা জানান, জুমার আজানের আগেই দুপুর ১২টায় বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রবেশ করেন। তিনি মিনারের কাছে প্রথম সারিতে গিয়ে বসেন। তখন কয়েকজন প্রবীণ মুসল্লি মসজিদের প্রথম সারিতে ছিলেন। হাসান সরকার নিজের চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী আজানের আগ পর্যন্ত মসজিদে বসে তাসবিহ তাহলিল পড়েন। জুমার আজান দেয়ার পর তিনি দুই রাকাত দুখুলুল মাসজিদ ও চার রাকাত কাবলাল জুমা নামাজ আদায় করেন। এর পর খতিবের বয়ান শুনেন। খতিবের বয়ান শেষ হলে হাসান সরকারকে মুসল্লিদের উদ্দেশে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়। হাসান সরকার প্রায় দু’মিনিট বক্তৃতাকালে প্রথমে মসজিদের দাতা পক্ষের জন্য (হাজী সবেদুল্লাহ সরকার গং) ও অসুস্থ মেয়র এম এ মান্নানসহ এলাকার অসুস্থ মুরব্বি ও মৃত ব্যক্তিদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। তবে তিনি নির্বাচনী বা রাজনৈতিক কোনো বক্তৃতা দেননি। হাসান সরকারের বক্তৃতা শেষ হলে খতিব সাহেব জুমার খুতবার জন্য দাঁড়ান। এ সময় ১টা ২৩ মিনিটে মুসল্লিদের ঠেলে মসজিদে ঢোকেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি খতিবের কাছ থেকে মাইক নিয়ে প্রায় দু’মিনিট বক্তৃতা করেন। বক্তৃতার শুরুতে তিনি রাস্তাঘাটের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। নামাজ শেষে মসজিদের খতিন মোহাম্মদ আব্দুল মালেক মুনাজাত করেন। এরপর বাকি নামাজ শেষে দুই মেয়রপ্রার্থীই পরস্পর কুশল বিনিময় করেন। এ সময় হাসান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্বাচনী বিধিবিধান মেনে নির্বাচনী প্রচারণা করার জন্য জাহাঙ্গীরকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই এলাকা থেকেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলাম। তখন স্লেøাগান ছিল ‘জয়দেবপুরের পথ ধর; বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’ ‘আবারো এখান থেকে শেষ যুদ্ধ শুরু করতে এসেছি। আবারো যেন সেই স্লেøাগান হয়; জয়দেবপুরের পথ ধর; গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার কর।’
মসজিদে হাসান সরকারের সাথে জুমার নামাজে আরো শরিক হন, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদ, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন চৌধুরী, বসির আহমেদ বাচ্চু, হযরত আলী, হাজী শহীদুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান, হাজী শাহজাহান, সিরাজ চৌধুরী, আলমাছ আলী, আব্দুল খালেক, মনিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন, ভিপি মুকুল, আতাউর রহমান, হাজী আব্দুস সামাদ, মোবারক হোসেন, সেলিম রানা, এমরান হোসেন, টি আই মিল্টন, বসির উদ্দিন আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম কিরণ, সোহেল মণ্ডল, জিএস জিয়াউল হাসান স্বপন, মো: সিরাজুল ইসলাম, তাপস আহমেদ, সৈকত বাবু প্রমুখ।
অপর দিকে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে ছিলেন, গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল হাসান সরকার রাসেল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.