দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশীদের দোকানে লুটপাট

মাসুম বিল্লাহ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে
মেয়রের পদত্যাগ দাবিতে দণি আফ্রিকার নর্থ ওয়েস্ট প্রভিন্সের মাফিকিং শহরে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনের ডাক দেয়। শুরু করে হরতাল টই টই। গত দুই দিন ধরে চলতে থাকা হরতালের সময় হাজারো দোকানে হামলা চালিয়েছে আন্দোলনকারীরা। একই সাথে লুটপাট করেছে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। মাফিকিংয়ের মেয়র মাহুপুলে সুপ্রার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসার পর থেকে তার পদত্যাগ চেয়ে আসছিল স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গরা। মাহুপুলে সুপ্রা পদত্যাগ না করলে গত দুই দিন ধরে হরতালের ডাক দেয় এবং সকাল ৬টা থেকে শুরু করে ভাঙচুর ও লুটপাট। আন্দোলন মেয়রের বিরুদ্ধে হলেও শুরু হয় বাংলাদেশীসহ প্রবাসীদের দোকানে হামলা ও লুটপাট। আন্দোলনকারীরা প্রায় এক হাজার দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে সব কিছু নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের হামলায় একজন মারা যায়। মেয়রের পদত্যাগের জন্য আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্থানে বাস, পুলিশের ভ্যান এবং দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মাফিকিং শহর থেকে শুরু হওয়া লুটপাট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশ অন্যান্য জেলায়। ইথোসিং, ক্রাইপান, হাসওয়াটার, কিম্বার্লিতে প্রবাসীদের দোকানে হামলা, লুট করে নিয়ে যায় সব মালামাল। 
মাফিকিংয়ের ব্যবসায়ী কমিউনিটি নেতা রহিম বাদশা বলেন, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শত শত লোক এসে আমাদের দোকানে হামলা করে। একই সাথে সব মালামাল লুটে নেয় কালোরা। 
ইথোসিংয়ের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, মাফিকিং আন্দোলন শুরু হয়েছে মেয়রের পদত্যাগ চেয়ে। সেখানে লুটপাট হচ্ছে। ক্রাইপানের ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, এখানে কোনো দাবি ছাড়া কালোরা মিছিল নিয়ে এসে আমাদের দোকানে হামলা করে লুটপাট করে সব কিছু নিয়ে গেছে। আমরা কোনো মতে পালিয়ে এসেছি। হাসওয়াটারের ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বলেন, কোনো উসকানি ছাড়া আমাদের ওপর হামলা করে লাখ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে কালোরা। কোটি কোটি টাকার মালামাল হারিয়ে পথে বসে গেছেন প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশী। সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বাংলাদেশীরা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.