‘ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ও পররাষ্ট্রনীতির কপটতা স্পষ্ট হয়েছে সিরিয়ায়’
‘ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ও পররাষ্ট্রনীতির কপটতা স্পষ্ট হয়েছে সিরিয়ায়’

‘যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ও পররাষ্ট্রনীতির কপটতা স্পষ্ট হয়েছে সিরিয়ায়’

আলজাজিরা

 গ্র্যাজুয়েট ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজের (জিআইআইডিএস) বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরি বলেছেন, ইরাক যখন ইরানে হামলা চালিয়েছিল তখন যুক্তরাষ্ট্র চুপ ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নীরবে ইরাককে উৎসাহিত করেছিল। ইরানে কেমিক্যাল হামলার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, সিরিয়ায় কেমিক্যাল হামলার অভিযোগ এবং যে মানবতার কথা যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তা সঠিক না।

সিরিয়ায় কেমিক্যাল হামলার অভিযোগ তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরব হলেও ইরানের কেমিক্যাল হামলার সময় গোটা যুক্তরাষ্ট্রের চুপ থাকার ফলে সিরিয়ায় ট্রাম্পের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কপটতা ফুটে উঠেছে।

ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে ইরাকি বাহিনী বহুবার ইরানে কেমিক্যাল হামলা চালিয়েছিল। ওই সময় কেমিক্যাল হামলায় ইরানের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার সেনা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক মারা যায়।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স ও ব্রিটেনের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কারখানা ও অস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের জঙ্গিবিমানগুলো সে দেশে ১০৫টি পেণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগন বলেছে, সিরিয়ার তিনটি রাসায়নিক অস্ত্রাগার ল্য করে শুক্রবার রাতে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে।

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটবার্তায় বলেছেন, হামলা সফল হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ায় হামলায় সমর্থন জানিয়েছে। অন্য দিকে সিরিয়া, রাশিয়া, চীন ও ইরান হামলার নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়া বলেছে, এই হামলার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এক বছর আগে সিরিয়ায় মার্কিন হামলার চেয়ে শুক্রবার রাতের হামলা ছিল অনেক ব্যাপক। খবর আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির।

শুক্রবার রাতে সিরিয়ার যেসব স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো দামেস্কের বারজেহ জেলায় একটি গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কেন্দ্র। অন্য দু’টি হলো হোম শহরে অবস্থিত দু’টি রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান বা অস্ত্রাগার। প্রায় এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় বেসামরিক লোকদের ওপর বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্র দুই দেশ কর্তৃক এমন হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিলেন, তিনি সিরিয়ায় হামলা চালাবেন।

ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর থেকে শতাধিক মিসাইল ছুড়ে একটি রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানা, একটি ফাঁড়ি এবং একটি অস্ত্র মজুদের স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করা হয়। সিরীয় বাহিনী দাবি করেছে, পশ্চিমা জঙ্গিবিমানগুলো থেকে ছোড়া ১০৩টির ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্য ৭১টি তারা আটকে দিয়েছে বা ধ্বংস করেছে।।

হামলার ছবি প্রকাশ : যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের চালানো ৭০ মিনিট স্থায়ী হামলায় সিরিয়ার যেসব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে সেগুলোর ছবি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা গেছে, ধোঁয়া উড়তে থাকা ধ্বংসস্তূপে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মার্কিন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, হামলায সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি অন্তত তিন বছর পিছিয়ে গেছে।

ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টোলেনবার্গ বলেছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র স্থাপনা ল্য করে তিন দেশের হামলায় ন্যাটোভুক্ত সব দেশ সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র সমতা কমানো ও দোমার মতো বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আবার কোনো রাসায়নিক হামলা বন্ধ করার লক্ষ্যে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার যদি আবারো রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। শনিবার জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি খর্ব করতে পেরেছি।

মিশন সম্পন্ন : ট্রাম্পের টুইট
সিরিয়া হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফ্রান্স ও ব্রিটেন অংশ নেয়ায় এ দেশ দু’টিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে ওই হামলাকে পুরোপুরি সফল দাবি করেছেন তিনি। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প এই ধন্যবাদ জানান।

হামলার পরিণতি হবে ভয়াবহ : মস্কো
সিরিয়ায় যৌথ বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। এই হামলার পরিণতি ভয়াবহ হবে এমন হুমকি দিয়ে মস্কো বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, সিরিয়ায় পশ্চিমা মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.