ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে ভীতি
ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে ভীতি
কোটা আন্দোলন

ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে ভীতি

নিজস্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে ভীতির পরিবেশ। কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক আর অস্থিরতা। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আন্দোলনকারীরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল ঘোষণার পর যেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করার কথা সেখানে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থী বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী যারা এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে এতবড় সফলতার পরও অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক ঘিরে আছে শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন কারণে পরিস্থিতি নেতিবাচক দিকে মোড় নিচ্ছে বলে মনে করেন অনেক শিক্ষার্থী। অনেক শিক্ষার্থী রাতে আবাসিক হলে ঠিকমত ঘুমাতে পারছেন না।

অনেকে দিনে অবস্থান করতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ভয়ের কারনে। কখন কোন পক্ষ থেকে ডাক পড়ে আর হুমকি ধামকি দেয়া হয় এ নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শিক্ষার্থীরা কোথাও পরষ্পর মিলিত হওয়া মাত্রই তাদের আলোচনায় স্থান পাচ্ছে কোটা আন্দোলন পরবর্তী ভীতিজনক পরিস্থিতি। কেউ কোটা আন্দোলন পরবর্তী নেতিবাচক পরিস্থিতি এড়িয়ে থাকতে পারছেন না।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও নির্বিকার ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে।

কয়েকটি কারনে ঢাবি ক্যাম্পাসে বর্তমানে ভীতি আর নিরাপত্তাহনী পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশার ওপর থেকে সব ধরনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া। এশাকে হেনস্থাকারী হিসেবে কবি সুফিয়া কামাল হলের ২৬ ছাত্রীর তালিকা তৈরি এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি। ভিসি ভবনে হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় চারটি মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করা এবং মামলা প্রত্যাহার না করা। কোটা আন্দোলনের তিন যুগ্ম আহবায়ককে গত সোমবার ডিবি কার্যালয়ে তুলে নেয়া। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন অথবা গেজেট আকারে প্রকাশ করায় বিলম্ব এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নজরদারিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড ।

এ পরিস্থিতিতে গত বুধবার কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে মামলা প্রত্যাহারের জন্য। অন্যথায় আবারো ছাত্রধর্মঘটসহ আন্দোলনে নামার হুশিয়ারি করা হয়েছে। এ আল্টিমেটাম ঘোষণার সময়ও নেতৃবৃন্দ তাদেরসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহায়ক নুরুল হক নূর বলেন, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা সবাই জীবননাশের শঙ্কায় আছি। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাদের খেয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এবং সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করছি।
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হয়রানির আশঙ্কা করছেন। কারণ অজ্ঞাতনামা মামলায় যে কাউকে হয়রানি করা যায়

গত ১৩ এপ্রিল এশার ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যহার করে নেয় ছাত্রলীগ। এরপর গত বুধববার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যহার করে নেয়ার কথা জানায়। এরপর থেকে গোটা ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয় এ বিষয়টি। বিশেষ করে কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীদের মধ্যে নেমে আসে চরম আতঙ্ক। বিরাজ করে এক ধরনের হিমশীতল নিরবতা। কারণ ১০ এপ্রিল মধ্য রাতে এশার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই হলের প্রায় সব শিক্ষার্থীই রুম থেকে বের হয়ে এসে এশার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং তার বিচার দাবি করেন। হলের শিক্ষার্থীরা তার গলায় জুতার মালা পরায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১০ এপ্রিল মধ্য রাতে ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর পাযের রগ কেটে দেয়াসহ ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। এক ছাত্রীর রক্তাক্ত কাটা পায়ের ছবি ছড়িযে পড়ে ফেসবুকে। এতে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস। এ নিয়ে রাত ১২টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করে ক্যাম্পাসে। কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ ছাত্রীরা হলের সামনে জড়ো হন।

এ ছাড়া বিজয় একাত্তর হলসহ বিভিন্ন হলের আবাসিক ছাত্ররা গভীর রাতে হলের গেট ভেঙ্গে মিছিলসহকারে কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে কবি সুফিয়া কামাল হলেল শিক্ষার্থীরা ইশাকে ধরে এনে গলায় জুতার মালা পরায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিকভাবে ইশাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। ছাত্রলীগও তাকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করে।

ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থী কর্তৃক তার গলায় জুতার মালা পরানোর খবরে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ১২ এপ্রিল ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটি গঠন করে । ১৩ এপ্রিল এশাকে নির্দোষ ঘোষণা করে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যহার করে নেয় ছাত্রলীগ। আর গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানায় ওই রাতে পায়ের রগ কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই এশার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশও প্রত্যহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে কবি সুফিয়া কামাল হল কর্তৃপক্ষ এশাকে হেনস্থাকারী হিসেবে ২৬ ছাত্রীর নাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। ঢাবি ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোঃ আখতারুজ্জামান গত বুধবার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইফফাত জাহান ইশা কেন্দ্রিক খবরে কবি সুফিয়া কামাল হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে এক ভীতির পরিবেশ।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.