এক ম্যাচ থেকে আয় ৮ কোটি
এক ম্যাচ থেকে আয় ৮ কোটি

এক ম্যাচ থেকে আয় ৮ কোটি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

খেলা নিয়ে চমকে যাওয়ার মতো খবর, কিন্তু এটা সত্যি।  আর সেটা উপমহাদেশের মাঠ থেকেই।  ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলোযে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের লিগ করে সেখান থেকে বিশাল অংকের টাকা আয় সম্ভব।  শোনা যাচ্ছে,  আইপিএলের একটি নিয়ম তুলে দিলেই নাকি এক ম্যাচ খেলে ১০ লাখ ডলারও আয় করা সম্ভব।  মানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা!

১০ লাখ ডলার এ আসলে কত বড়, সেটা একটু হিসাব করে বলা যাক।  ফুটবলের তিন মহাতারকা মেসি-রোনালদো-নেইমার বেতন বাবদ ক্লাব থেকে বছরে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের মতো আয় করেন।  বছরে ম্যাচের সংখ্যা হিসাব করলে ম্যাচপ্রতি সেটা অবশ্যই ১ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম।  আর আইপিএলেই এক ম্যাচে এত অর্থ! কিন্তু এমন অঙ্কটার কথা যে সে বলেননি, বলেছেন ললিত মোদি।  এই ব্যক্তির প্রচেষ্টাতেই ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজির যুগে এসেছে।  তাই মোদি যখন বলেন, আইপিএলের এক ম্যাচ খেলে ১০ লাখ ডলার আয় করা সম্ভব, তখন একটু গুরুত্ব দিয়েই শুনতে হয়।

এবার প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পুরো দলের বেতনের জন্য খরচ করতে পেরেছেন ৮০ কোটি রুপি বা ১২.৫ মিলিয়ন ডলার।  সব দলকেই এই সীমা বা স্যালারি ক্যাপ মেনে নিতে হয়েছে।  টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেছেন, এই স্যালারি ক্যাপ তুলে দিলেই খেলা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখা ক্রিকেটারদের নিয়ে নিলামে লড়াইয়ে নামবে দলগুলো।  ফলে বিরাট কোহলি কিংবা এবি ডি ভিলিয়ার্সের জন্য অর্থের ঝুলি নিয়ে নামবে সবাই, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরাই খেলোয়াড়দের বেতন দেয়। আইপিএল যদি স্যালারি ক্যাপ তুলে দেয়, এটাকে উন্মুক্ত করে দেয়? তাহলে তো সেটা প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের মতোই হবে।  বেতন বেড়ে যাবে।  অনেক খেলোয়াড়ই ম্যাচপ্রতি ১০ থেকে ২০ লাখ ডলার আয় করবে।’

এবারের আইপিএলে সর্বোচ্চ অর্থ পাচ্ছেন কোহলি।  রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু তাকে ১৭ কোটি রুপি দিয়ে দলে টেনেছে।  সেরা চারে না থাকলে মৌসুমে ১৬টি ম্যাচ খেলে এক একটি দল। ফলে এমনিতেই ম্যাচপ্রতি ১ কোটি রুপি পাচ্ছেন কোহলি।  তাই বলে ম্যাচ প্রতি ৬ থেকে ১২ কোটি রুপি একটু বেশিই শোনায়।  মোদি অবশ্য তার বক্তব্যে অটল, ‘ভারতে দেড় শ কোটি মানুষ আছে, যারা ক্রিকেটে মজে আছে। ভারতের মানুষের আয় বাড়ছে।  কিছুদিন পরেই দেখবেন, আইপিএল এক দিনেই ২০ কোটি ডলার আয় করবে প্রতি ম্যাচে! প্রতি মৌসুমে ৬০টি ম্যাচ, মানে টুর্নামেন্টের মূল্য বছরে হাজার কোটি ছাড়াবে।’

আইপিএলের মতো বিগ ব্যাশ কিংবা ন্যাট ওয়েস্ট টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের মতো লিগ চালু হয়েছে। কিন্তু আইপিএলের মতো সাফল্য পাচ্ছে না কেউ।  আইপিএল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কদিন আগেই আলাদা করে আলোচনা করেছে কাউন্টির দলগুলো।  এ সমস্যার সমাধান জানিয়ে দিয়েছেন মোদি, ‘বোর্ড আর কাউন্টি দল দিয়ে লিগ চালানো আবে না।  মালিকদের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করতে হবে। একটা টেবিলে ১০ জন ধনকুবেরকে যদি বসাতে পারেন, তাদের অহংবোধ জাগিয়ে তুলতে পারেন, সেটাই আপনাকে প্রয়োজনীয় অর্থ এনে দেবে।  তাহলেই কেবল আইপিএলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.