জীবন ভাঙ্গা বৈশাখ

রায়হান রাশেদ

ক্ষেতের আইল ধরে হাঁটছে মনা মিয়া। ফুরফুরে মেজাজ। অধরে সুখবিলাসের হাসি। মনে স্বপ্ন পূরণের তৃপ্ত স্বাদ। চোখে নতুন প্রত্যুষের অভ্যর্থনা। নতুন সূর্য দেখার পালা। যে সূর্য হৃদয় আকাশে উদিত হলে রচিত হবে সুখী জীবনের এক নতুন মন ভালো করা অধ্যায়। ক্ষেতের ধান দেখে দেখে মনের ভেতর ছবি নির্মাণ করে; খাদিজার বিয়েতে বাড়ির তোড়জোড় আয়োজন, নানান পরিচিত অপরিচিত মুখের হাস্যরস কোলাহল, নিজের পরনে সাদা লুঙ্গি আর ধবধবে শুভ্র সুতির পাঞ্জাবি, গোলায় আগাম বছরের ধান, কিস্তির উপরে ধার নেয়া টাকা পরিশোধ করার প্রসন্ন মুখ। এসব স্বপ্ন তাকে আন্দোলিত আলোড়িত করে। মন পাড়ায় সুরের ঝঙ্কার তোলে। স্বপ্ন নির্মাণের কথা ভেবে ভেবে বাড়ি ফেরে। আদরের সন্তানদের পরম মমতায় ছুঁয়ে দেয়। চুমো খায়। নরম তুলতুলে দেহের গিন্নির সাথে পশমে ঘেরা চওড়া বুক মিলায়।
কাতল চরের পাঁচ বিঘা জমিই মনা মিয়ার সম্বল। জমিকে ভালোবাসে আপন স্ত্রীর মতো। আছিয়া বেগমকে ঘরে রেখে সে দিনরাত পড়ে থাকে ফসলের মাঠে। পুরো পাঁচ বিঘা জমিতে এবার ধান ফলেছে। ইরি ধান। সবুজ চাদরে ঢেকে আছে জমির পেট। সমীরণের হালকা স্পর্শে দুরন্ত কিশোরীর কেশের মতো দুলে ওঠে সবুজ ধানের দুধেল ডগাগুলো।
পরদিন মনা মিয়া আইল ধরে পুরো ক্ষেতে একটা চক্কর দেয়। সামান্য অবসরে খুব যতেœ বিড়ি ধরায়। লম্বা লম্বা টান দিয়ে ব্যজনে ধোঁয়া ছাড়ে। ক্ষেত দেখা শেষ হলে ডিঙিতে ওঠে বাড়ির দিকে হাল ধরে। ভাটিয়ালি গানে গানে নৌকা এগোয়। বয়সী গলায় গান ধরেÑ ‘বন্ধু তোর লাইগারে, অ বন্ধু তোর লাইগারে, আমার, তনু ঝরঝরো। মনে লই ছাড়িয়া যাইতাম, থুইয়া বাড়ি ঘর।’ রশি দিয়ে বাঁশের সাথে ডিঙিখানা বেঁধে ঘরে আসে।
সকালের রান্নাবান্না শেষে ছোট্ট উঠোনটি ঝাড় দিচ্ছে আছিয়া বেগম। উঠোনের পাশের আমগাছটায় তিন চারটে কালো কাক ‘কা কা’ করে ডাকছে। কাকের ডাকে আছিয়া বেগম সেদিকে তাকিয়ে বলে- ‘কিরে কাক, কী খবর নিয়া আইছছ? ভালা অইলে দিয়া যা, বুরা অইলে লয়া যা।’
গিন্নির কথা শুনে মনা মিয়া হাক ছেড়ে ডাক দেয়- ‘বউ, কি কইতাছত্? বেহুদা কথা। এসব বিশ^াস করিস না।’
‘বন্ধ করো তোমার ওয়াজ। খাইতে আও।’
কাক কি তাদের জীবনে সত্যিই কোনো দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছিল?
উঠোনে পাতা দাওয়ায় বসে বিড়ি ধরায় মনা মিয়া। বউয়ের সাথে ধান ফলনের গল্প ধরে। বউকে নিমন্ত্রণ করে ক্ষেত দেখে আসতে। আবার নিজেই বারণ করে, পাছে যদি কেউ মন্দ বলে। আছিয়া বেগম মানুষটার দিকে একটানা তাকিয়ে থাকে। অপলক। মনা মিয়া লজ্জা পাবার মতো ভান করে নড়েচড়ে বসে জিজ্ঞেস করে- ‘বউ, অমন করে কী দেহছ? লইদে পুড়া দেহটা খুব বিশ্রী লাগে নাহি? অমন করে তাকাছ না। মনটা যেন কেমন করে!’
আছিয়া বেগম ধীর পায়ে স্বামীর কাছে আসে। পা দুটো বাতাসের বুকে রেখে দাওয়ায় বসে। ডান হাতটা ভালোবাসার মানুষটার কাঁধে রেখে নরম গলায় বলেÑ ‘আল্লাহ যদি আমরারে বড় লোক বানাইতো, তাহলে সারাদিন মুরগির বাচ্চার মতো তোমার ভিত্রে গুইজা বয়া থাকতাম। তোমারে কোনোখানে যাইবার দিতাম না। তোমার শরীলের ঘ্রাণটা আমার বড় ভালোলাগে গো!’
ঘর থেকে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে খাদিজা আর রুবেল বের হয়। খাদিজা কাস নাইনে পড়ে। রুবেল সিক্সে। মনা মিয়া আদরের সন্তানদের ডেকে ১০ টাকার একটা আধময়লা নোট দেয়। তারা হেঁটে যায়। খাদিজার বয়স ১৬ ছুঁইছুঁই। গঠন গড়ন বেশ মোটা। শ্যামল বর্ণের। চোখ দুটি ডাগর ডাগর। মায়াবী। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনা মিয়া মুখ খোলে- ‘মাইয়াডা বড় অইছে। অনেকে বিয়ার কথা জিগাস করে। বিয়ে দিতে মুরুব্বিরা কইতাছে। কী যে করি! টাকা-পয়সা নাই। বিয়া দিতে লাগবো অনেক টাকা। এবার ধান বিক্রি কইরা মাইডারে বিয়া দেলাম। কী কও?’
‘হ, আমি চিন্তা করতাছি। যে যুগ আইছে। বেশিদিন ঘরে রাখা যাইব না।’
‘বউ, মাইডারে বিয়া দিয়া কেমনে থাকুম। আমার পরাণ যে এখনই কী করতাছে।’
‘আমারও গো ভালোলাগে না। মাইডা ঘরের জিনিসগুলো কত ছুন্দর কইরা গোছাইয়া রাখে। অ চইলা গেলে আমারে কে দেখব।’
বৈশাখ মাস শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। পৃথিবী রৌদ্রের দখলে। আকাশ ভাঙ্গা রোদ দুনিয়াকে উত্তপ্ত করে তুলছে। গাছের ছায়া ছাড়া কোথাও সামন্য ঠাণ্ডা নেই। বিদ্যুতের যথেষ্ট লোড শিডিং হচ্ছে। মনা মিয়া কালো ডিঙি নিয়ে জমির দিকে রওনা হয়। সবুজ ধান হলদে রঙ ধরতে শুরু করেছে। হলুদ সবুজে ছেয়ে আছে সমস্ত মাঠ। পুবালি হাওয়ায় ম ম করে শিশু ধানের গন্ধ। এ গন্ধে বিমোহিত হয় মনারা। স্বপ্নের আকাশে ডানা মেলে ওড়ে তরুণ বিহঙ্গদের মতো। মনা মিয়া ধান পরখ করে অস্ফুট উচ্চারণ করেÑ ‘ দশ পনের দিন পরে ধান কাটা লাগবো।’
রাত এগারোটা বাজে। অন্ধকারের রাত। গ্রামের মানুষ ঘুমিয়ে বিভোর। ঘুমের ঘরে নানান দেশে পরিভ্রমণ করছে। নতুন দম্পতিরা কেউ কেউ হয়তো জেগে আছে; রাত পাহারা দিচ্ছে। আমগাছে কখনো নিশাচর পাখির উড়ে যাওয়ার ফুরুত ফুরুত শব্দ শোনা যায়। রাতের নীরবতা ভেঙ্গে আছিয়া বেগম ডাক দেয়- ‘ওগো শুনছো, নাকি ঘুমায় গেলা?’
‘হা, কেন?’
হুন, আজকা কিস্তির লোক আইছিল। ‘কিস্তির টাকা দিতে কইয়া গেল। মনে অইলে আমার চিন্তায় ভালোলাগে না।’
‘চিন্তা কইরো না। ধান বিচ্চা দিয়া দিমু।’
‘আমার ডর করে, টাকা না দিতে পারলে যদি কিস্তির লোকেরা, মিনুদের মতো আমডারে ঘর বাড়ি থেকে উঠাইয়া দেয়।’
অভাবের সংসার ছিল মিনুর জামাইর। ঘর মেরামতের জন্য কিস্তিতে ১৫ হাজার টাকা এনেছিল। টাকা আনার পর অভাব মুহূর্তের জন্য তাদের পিছু ছাড়েনি। অভাব অনটনের দুর্বিপাকে টাকা দিতে না পেরে, অবশেষে ভিটে বাড়ি ছাড়া হতে হলো মিনু দম্পতির। মিনুর ঘরের প্রধান দরজায় এখন এনজিও সংস্থার বিলবোর্ড ঝোলানো।
রাতের নিñিদ্র আধার ছিঁড়ে ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। পৃথিবী ফাটিয়ে গর্জন তুলে বিজলী। শনশন হাওয়ায় উঠানের আমগাছটা পতনের বড় শব্দ হয়। অবিরাম গতিতে পড়ছে শিলাবৃষ্টি। মনা মিয়ার অহুমো মনটা মোচড় দিয়ে ওঠে। বিছানা ছেড়ে উঠে বসে। ক্ষেতের চিন্তায় অস্থির। ঘর ছেড়ে বাইরে যেতে উদ্যত হলে আছিয়া বেগম তাকে বাধা দেয়। সমস্ত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। দুশ্চিন্তায় এপাশ ওপাশ করেছে।
মসজিদ হতে আজান ভেসে আসলে বিছানা ছাড়ে মনা মিয়া। ঘরের কোণা থেকে বৈঠা নিয়ে ঘাটে নামে। দ্রুত নৌকা চালিয়ে শঙ্কাগ্রস্ত মনে ফসলের দেশে পা রাখে। ক্ষেত প্রত্যক্ষে শঙ্কা কমে। মনে সাহস এলো। ঠোঁটে পুরানা খুশির ঝিলিক। তবে জমির মাঝখানের দুই শতাংশ পরিমাণ ধান নুইয়ে পড়েছে। ধান দেখে দেখে জমির দক্ষিণ দিকে হাঁটতে থাকে। দক্ষিণের আইলের সাথে লাগোয়া খাল। খালের ওপারে কালিকাপুর চর। ওই চর নিচু ভূমিতে হওয়ায় পানিতে ভেসে গেছে। কালিকাপুরের কৃষকদের চোখে হতাশার বিবর্ণ ছাপ। কারো গাল বেয়ে পানি টপ করে পড়ছে। ‘সবি গেল বলে’ কেউ মাথায় থাপড়াচ্ছে।
আরেকদিন এমন ঝড় বৃষ্টি হলে দক্ষিণ দিকের খাল লাগোয়া জমি তলিয়ে যাবে। ধীরে ধীরে নদীর পানি ফুলে উঠছে। দিন দিন পানি বাড়ছে। দু’দিন পরের হালকা বৃষ্টিতে চরজুড়ে পা গোড়ালি পানি। ধান পরিপক্ব হতে আরো পাঁচ দিনের মতো সময় লাগবে। তবেই ধান কাটা যাবে।
মনা মিয়ার মনে শঙ্কা দলা পাকাতে থাকে। আসন্ন দুর্যোগের কথা ভেবে কেঁপে ওঠে দেহ মন। সারা শরীর হীম হয়ে আসে। কিস্তির টাকা পরিশোধ না করতে পেরে ভিটে বাড়ি ছন্নছাড়া, টাকার অভাবে মেয়ের বিবাহ আটকে থাকা, অভাব অনটনে না খেয়ে সন্তানদের শুকিয়ে যাওয়া মুখের ছবি সামনে ভেসে আসলে মনা মিয়া ধপ করে মাটিতে পড়ে যায়। দু’হাত মাথায় ধরে হাঁটু উঁচু করে মাটিতে বসে থাকে।
পরের দিন বাজারে রহিম মিয়ার চার দোকানে বসে টিভিতে চোখ রাখে। খবর সম্প্রচারিত হচ্ছে হাওর কৃষকদের নিয়ে। কৃষকদের মাইল কে মাইল ধান ক্ষেত পানিতে ভেসে গেছে। শোকে কয়েকজন কৃষক মারা গেছে। মানুষ গড়াগড়ি করে চিৎকার করছে। অভাব অনটনে হাওরবাসীর জীবন বিপন্ন। ম্রিয়মান। মনা মিয়ার ভেতরটা ছ্যাৎ করে ওঠে। টিভি দেখা চোখে ভাসতে থাকে কাতলচরের ৫ বিঘা জমি। সন্তানদের মতো লালন করা ফসল। ধূমায়িত চায়ে চুমুক দিয়ে হাওরবাসী ভাইদের জীবন দেখে করুণা হয় আবার ভয়ও হয় মনার।
আকাশে মেঘ ডাকছে। আকাশের উঠোনে কালো মেঘের দাপাদাপি। কালো মেঘের ভয়ঙ্কর ছাপ পড়ে দুনিয়ার মাজারে। মাঝে মধ্যে গগনের নীল; কালো মেঘের বুক চিরে শাশ্বত অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। বাতাস বইছে। বাতাসে কান পাতলে শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায়। মনা মিয়া চায়ের দাম দিয়ে ওঠে দাঁড়ায়। আকাশের লক্ষণ ভালো না দেখে ভয়ার্ত মনে বাড়ির দিকে পা চালায়। আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি পড়ছে। ঝড়ো হাওয়ায় পৃথিবী কাঁপছে। একটানা বৃষ্টি চলে তিন ঘণ্টার মতো। তারপর সর্বনাশা বৃষ্টিরা সামান্য জিরিয়ে হালকা গতিতে পড়তে থাকে সতত। বৃষ্টি থামে না; বৃষ্টির রূপ পাল্টায়। ধরন পরিবর্তন হয়। সাররাত বৃষ্টি হয়। এই ভারী বর্ষণের ভেতরেই প্রথম রাতে মনা মিয়া আপন ডিঙিখানা নিয়ে কাতল চরে যায়। আধপাকা ধান গলা পর্যন্ত পানিতে ভাসছে। লাগাতার বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত জমিনে ন্ইুয়ে পড়েছে। দুদিন বাদে ধান কাটতে হবে। মনা মিয়ার চোখের জলে বুক ভাসতে থাকে। ফসল নষ্ট হয়ে যাবার প্রবল আশঙ্কায় ভেতরটা ফালি ফালি হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক অবচেতনভাবে নৌকায় বসে থাকে। এশার আজান পড়লে নৌকার হাল বাড়ির দিকে ফেরায়। ঝিরঝিরি বৃষ্টি পড়তেই থাকে।
সতত তিন দিন বৃষ্টি বর্ষণ করে আকাশ ক্ষান্ত হয়। কাটফাটা রোদ দাঁড়িয়ে পড়ে মেঘের জায়গায়। বন্যার পানিতে ডুবন্ত ধান ক্ষেত। পানির এক হাত নিচে ধানের হলদে সবুজ শ্যাওলা পড়া ডগা। ধান কাটতে মজদুর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দু’তিনজন যা পাওয়া গেলÑ তাদের মজুরি দিতে হবে ৭০০ টাকা করে। অগত্যা চড়া দামে মজদুর নিয়ে ডুবন্ত ফসল কাটতে জমিতে যায়। হাতে ধান ওঠে না। কোনো কোনো ধানের গোছা নরম হয়ে পচে গেছে। কোনোটা কাটতে পারলেও সোনালি ধান ঝনঝন করে না। মরে যাওয়া মনে মনা মিয়া বিরলে নিঃশব্দে ধান কেটে যায়। চার জন মানুষ এক মনে ধান কেটে গেলেও ধান কাটা হয় না। করে শুধু খড় ওঠে আসে। পুরো দিনে পাঁচ মণ ধানের খড়ও কাটা হয়নি।
গিন্নির হাজারটা বারণ সত্যেও রাতে ধান কাটতে জমিনে পড়ে থাকে মনা মিয়া। বউকে পরম মমতায় আদরে কান্না ভেজা গলায় বলে আসে-কিস্তির টাকার কথা, খাদিজার বিবাহে টাকার প্রয়োজনীয়তা, এক বছরের ধান জোগারের কথা!
মনা মিয়া কান্ত মনে ধান কেটে যায়। সামান্য পর পর একাকী সময়ের সঙ্গী বিড়ি ধরায়। লম্বা টানে বাতাসে ধোঁয়া ছাড়ে। রাতের ভেতর রাত প্রবেশ করে। অন্ধকার গাঢ় হয়। আকাশ রেগে তর্জন গর্জনে পৃথিবী কাঁপিয়ে ডাকতে থাকে। ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। ঝড়ের প্রবল ধাক্কায় নৌকাখানা ভেসে যায় নদীতে। মনা মিয়া নৌকার পেছনে ছোটে। ছুটতে থাকে। ছুটতে ছুটতে অন্ধকারে হারিয়ে যায়। রক্তের দাগে পানিতে লেখা ওঠে- কিস্তির টাকা অপরিশোধের দায়ে ভিটাবাড়ি ছন্নছাড়া, যৌতুকের অভাবে মেয়ের বিবাহের বেড়ে যাওয়া এবং অভাব অনটনে আছিয়া বেগমদের জীবনের পাঁজর ভেঙে যাওয়ার গল্প। হ

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.