প্রশ্ন এড়িয়ে স্মিত হেসে লক্ষ্মীর গাল টিপে দেন রাজ্যপাল বনোয়ারীলাল পুরোহিত
প্রশ্ন এড়িয়ে স্মিত হেসে লক্ষ্মীর গাল টিপে দেন রাজ্যপাল বনোয়ারীলাল পুরোহিত

যৌন অভিযোগের প্রশ্ন এড়াতে নারী সাংবাদিকের গালে হাত!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যৌন কেলেঙ্কারিতে তার নাম জড়িয়েছে বলে সেই বিতর্ক থামাতে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ভারতের তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বনোয়ারীলাল পুরোহিত। সেখানে নতুন বিতর্ক বাঁধিয়ে বসলেন তিনি। যার জেরে ফের সমালোচনার শীর্ষে বনোয়ারীলাল পুরোহিত। এবার এক সাংবাদিকে সঙ্গে অনভিপ্রেত আচরণ করায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে বনোয়ারীলালের বিরুদ্ধে।

লাল মঙ্গলবার দেবাঙ্গ কলেজে যৌন কেলেঙ্কারির অডিও টেপে অভিযুক্ত শিক্ষিকা তার নাম জড়ানোয় পুরোহিত সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে এক মহিলা সাংবাদিক লক্ষ্মী সুব্রহ্মণ্যম একটি প্রশ্ন করেন রাজ্যপালকে।

সেই প্রশ্ন এড়িয়ে স্মিত হেসে লক্ষ্মীর গাল টিপে দেন রাজ্যপাল বনোয়ারীলাল পুরোহিত। ঘটনাটি একেবারেই অনভিপ্রেত ছিল। ঘটনার আকষ্মিকতায় সেই সময়ে কেউই তা নিয়ে পাল্টা কিছু বলেননি।

তবে দ্য উইক পত্রিকার সাংবাদিক লক্ষ্মী পরে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে এই ঘটনার উল্লেখ করে প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, রাজ্যপালের সংবাদ সম্মেলন যখন শেষ হওয়ার মুখে তখন আমি তাকে একটি প্রশ্ন করি। কিন্তু তিনি আমার সেই প্রশ্ন এড়ানোর জন্য আমার সম্মতি ছাড়াই আমার গালে হাত দেন।

এই ঘটনা যে তিনি ভুলতে পারছেন না, তা আর একটি টুইটে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন সাংবাদিক লক্ষ্মী। তিনি লিখেছেন, অনেকবার মুখ ধুয়েছি। তাও এই ঘটনা ভুলতে পারছি না। খুব রাগ হচ্ছে। আপনি দাদুর মতো স্নেহবশতঃ এই কাজ করে থাকতে পারেন। তবে একজন অচেনা ব্যক্তির গায়ে হাত দেয়া আপনার উচিত হয়নি। আমার কাছে আপনার আচরণ সঠিক লাগেনি।

লাল এই ঘটনার পর বনোয়ারীলাল পুরোহিত বুধবার সিনিয়র সাংবাদিক লক্ষ্মী সুব্রহ্মণ্যমের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত বলে জানিয়েছেন। লক্ষ্মীও রাজ্যপালের ক্ষমা চাওয়ায় বিষয়টি মিটমাট করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বিতর্কিত অডিও কথোপকথন : ঝড় তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে
একটি অডিও টেপ। যেখানে রাজ্যপাল বনোয়ারীলাল পুরোহিতের নাম নিয়ে যৌনতার কথা বলা হয়েছে। সেই ঘটনা নিয়েই ঝড় বইছে তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে। ২০ মিনিটের সেই অডিও টেপে এক মহিলা প্রফেসর ছাত্রীদের যৌনতায় মেতে ওঠার পরামর্শ দিচ্ছেন। রাজ্যপালকে সন্তুষ্ট করতে বলছেন। তার বদলে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার কথাও বলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি নাকি শয্যাসঙ্গিনী হতে হবে রাজ্যপাল বনোয়ারীলাল পুরোহিতের। এই টেপ সামনে আসার পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিরুধুনগরের দেবাঙ্গ আর্টস কলেজের প্রফেসর নির্মলা দেবী এই প্রস্তাব ছাত্রীদের দেন বলে অভিযোগ। এই কলেজটি মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজ্যপাল স্বয়ং।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে রাজ্যপাল বনোয়ারীলাল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নিজেকে তদন্তের আগেই নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। অভিযুক্ত প্রফেসর নির্মলাদেবীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সেই বিতর্কিত অডিও টেপ রোববার চেন্নাইয়ে এসে পৌঁছায়। ২০ মিনিটের অডিও টেপে রাজ্যপালের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সী বনোয়ারীলালের মন মজাতে তাকে ‘খুব একটা বুড়ো নয়’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন অভিযুক্ত নির্মলাদেবী।

এই ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার আর সান্তানামকে দিয়ে তদন্ত করানো হচ্ছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট জমা করতে হবে। তবে বিরোধীরা রাজ্যপালের নিন্দায় সরব হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রাজ্যপাল কীভাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন তা নিয়ে সকলে প্রশ্ন তুলেছেন।

নির্মলাদেবী ২০ মিনিটের অডিও কথোপকথনে বিএসসি গণিতের তৃতীয় বর্ষের চার ছাত্রীকে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে প্ররোচনা করেছেন। এটা করলে ভবিষ্যতে তাদের ভালো হবে ও সুযোগ মিলবে বলেও জানিয়েছেন। এছাড়া টাকা-পয়সা পাওয়ার কথাও জানান। এছাড়া রাজ্যপালের প্রসঙ্গ টেনে তার সঙ্গে সম্পর্কের কথাও বলেন নির্মলাদেবী।

তবে রাজ্যপাল এই ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমার ৭৮ বছর বয়স। প্রপৌত্রও রয়েছে। দয়া করে এসব আমার নামে বলবেন না। ওই মহিলাকে আমি চিনিই না। দেখিওনি কোনোদিন।’ তার আরো ব্যাখ্যা- তার অনুমতি ছাড়া কাছাকাছি কেউ ঘেঁষতে পারে না।

এখন দেখার অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার আর সান্তানাম এই ঘটনায় কী রিপোর্ট দেন।

সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.