সন্ধ্যা নাইডু
সন্ধ্যা নাইডু

‘ওরা আমাকে দিনে বলে ‘আম্মা’ আর রাতে শুতে চায়’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

কিছুদিন আগেই ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত করে কাস্টিং কাউচের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন তেলুগু অভিনেত্রী শ্রী রেড্ডি। তার পথে হেঁটে তেলুগু ছবির দুনিয়ায় যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন একের পর এক অভিনেত্রী। এদের মধ্যে রয়েছেন সন্ধ্যা নাইডু, কে অপূর্বা ও সুনীতা রেড্ডির মতো নামী মুখ। দক্ষিণী ছবির আচমকা খুলে যাওয়া আলমারি থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক কঙ্কাল।

১০ বছর ধরে তেলুগু ছবিতে কাজ করছেন সন্ধ্যা নাইডু। তিনি বলেছেন, এখন তার কাছে মা বা খালার চরিত্রে অভিনয়েরই সিংহভাগ অফার আসে। সকালে শ্যুটিংয়ের সময় তাকে বলা হয় আম্মা, আর রাতে বলা হয় একসঙ্গে শুতে। একজন আবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তিনি ভেতরে কী পরে আছেন, তা স্বচ্ছ কিনা।

সুনীতা রেড্ডি নামে আর এক অভিনেত্রী অভিযোগ করেছেন, জোর করে সকলের সামনে পোশাক পাল্টাতে বাধ্য করা হয় তাদের এমনকী প্রাকৃতিক প্রয়োজনও মেটাতে হয় পাঁচজনের সামনে। ম্যানেজাররা বলে, তারকা নায়ক নায়িকাদের মেকআপ ভ্যান ব্যবহার করতে কিন্তু সেখানে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয় না, ব্যবহার করা হয় পোকামাকড়ের মত। নায়ক-নায়িকারা প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করেন, মুখের ওপর বলে দেন, যেন তাদের ভ্যানের আশপাশে ঘোরাফেরা না করা হয়।

অন্যদের অভিজ্ঞতার কথা শুনছেন শ্রী রেড্ডি ও কে অপূর্ব

সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ে মিলিত হয়েছিলেন দক্ষিণের বেশ কিছু অভিনেত্রী। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন উপস্থাপিকা থেকে অভিনেত্রী হওয়া শ্রী রেড্ডিও। তিনি জানিয়েছেন, কাস্টিং কাউচের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ চলবে।

তিনি বলছিলেন, প্রকাশ্য প্রতিবাদের পর থেকে তিনি বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন। এমনকি সহকর্মী নারী অভিনেত্রীদের কেউ কেউ তাকে ‘বেশ্যা’ বলেও সম্বোধন করেছেন। তবে তিনি আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী কে অপূর্বাকে সাথে পাওয়ার পর থেকে আরো অনেকে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাদের বিভিন্ন খারাপ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন।

মতবিনিময়কালে জুনিয়র শিল্পীরাও উচ্চকণ্ঠেই পরিষ্কার করে তাদের খারাপ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বলেন, ‘তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে চান্স পাওয়ার জন্য আমাদেরকে ডাইরেক্টরদের সব কথাই শুনতে হয়েছে। তাদের যৌন চাহিদা মিটানো, সুন্দর দেখানোর জন্য আমাদের চামরাও সার্জারির মাধ্যমে পাল্টাতে হয়েছে। আমরা শুধুই তাদের হাতের পুতুল। কিন্তু আমরা এসব আর করতে চাই না।’

উপস্থিত অভিনেত্রীদের সবার বয়স ১৮ থেকে ৪০-এর মধ্যে।

সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.