ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

ঢাকা

৭ বছরের ভাতিজিকে ধর্ষণের চেষ্টা চাচার

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ১৭:১৭


প্রিন্ট
৭ বছরের ভাতিজিকে ধর্ষণের চেষ্টা চাচার

৭ বছরের ভাতিজিকে ধর্ষণের চেষ্টা চাচার

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ৭ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে আপন চাচা মজিদ সরদার (৪৭) ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৭ এপ্রিল উপজেলার শিধলকুড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই চাচা হত্যার ভয় দেখিয়ে শিশুটির মুখ বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে প্রতিবেশী অপর এক শিশুকে (সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী) টাকার লোভ দেখিয়ে অনুরূপ ঘটনা ঘটাতে চাইলে নিজ ভাতিজির সাথে করা ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এ বিষয়ে নির্যাতিতা শিশুর মা প্রতিবাদ করায় শিশুটির চাচা তার পুত্রদের নিয়ে ছোট ভাইয়ের ঘর ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য লোকজন বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করেছেন ধর্ষণ চেষ্ঠার শিকার শিশু ও তার পরিবার। ধর্ষণের চেষ্টাকারীর ছেলে ও স্ত্রী ভাংচুরের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া এলাকার আলিম সরদার তার তিন পুত্র মজিদ সরদার, কাদের সরদার ও ইব্রাহীম সরদারকে রেখে প্রায় ২০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেণ। ইতোমধ্যে মজিদ সরদার আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে ভিন্নভাবে বসবাস করছে।

গত ৭ এপ্রিল শনিবার বেলা ১১টায় মজিদ সরদারের ৪ বছর বয়সী নাতনি মীমের সাথে ছোট ভাই কাদের সরদারের মেয়ে (তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী) খেলা করতে যায়। তখন মজিদ সরদার কাদের সরদারের মেয়েকে তার বসত ঘরে নিয়ে জড়িয়ে ধরে শিশুটির পোশাক খুলে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করতে চাইলে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে প্রতিবেশী এক প্রবাসীর মেয়েকে (সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী) টাকার লোভ দেখিয়ে কাছে নিতে চায় মাজিদ সরদার। এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন সৃষ্টি হলে ভাতিজির সাথে যৌন আচরণের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এ বিষয়ে কাদের সরদারের স্ত্রী ও নির্যাতিত শিশুর মা কোহিনুর বেগম প্রতিবাদ করলে মজিদ সরদার তার ছেলে মিরাজ ও রবিনকে নিয়ে ছোট ভাই কাদের সরদারের বসত ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

এ ঘটনার পর মজিদ সরদারের মায়ের অনুরোধে স্থানীয় চেয়ারম্যান জানে আলম খোকন অভিযুক্তের মা রহিমা বেগম ও বোন মনোয়ারা বেগমকে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার নির্দেশ দেন।

রহিমা বেগম ও মনোয়ারা বেগম স্থানীয় মুরব্বি তাজুল চৌকিদার, সুমন মাদবর, লিটন মাদবর, হারুন মাল ও মেম্বার আবু তাহেরকে নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এর পর মজিদ সরদার স্থানীয়দের বিচার না মেনে নির্যাতিত পরিবারের প্রতি আরো চাপ সৃষ্টি করে বলে জানায় শিশুটির পরিবার।

স্থানীয় লোকজন আরো জানায় ইতোপূর্বেও মজিদ সরদার এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে ঝাড়– পেটার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার সমাজ ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টাকারী মজিদ সরদারকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে রবিন সরদার ও স্ত্রী শিশুটির বাবার ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুরের কথা স্বীকার করেছে। এদিকে একই এলাকার এক প্রবাসীর ৭ম শ্রেণির পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে মজিদ সরদার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যেতে চাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছে ঐ শিক্ষার্থীর মা।

নির্যাতিত শিশুটির বাবা কাদের সরদার বলেন, আমার মেয়ের নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় মজিদ সরদার এবং তার ছেলেরা আমার ঘর ও ঘরের আসবাপত্র ভাংচুর করেছে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আমার মায়ের কথায় মামলা করিনি। তারপরেও আমার উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এখন আমি মামলা করবো। আমি আমার মেয়ের নির্যাতনের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে শিধলকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম খোকন বলেন, প্রথমে আমার কাছে যৌন হয়রানির বিষয়টি খোলসা করে বলা হয়নি। ঘর ভাংচুরের বিষয়টি জেনে অভিযুক্তের মা রহিমা বেগম ও বোন মনোয়ারা বেগমকে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার জন্য বলে আসি। যৌন হয়রানির ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমিও এ নেক্কারজনক ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির পরিবারের কাছে মঙ্গলবার মৌখিকভাবে ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি এবং পরিবারকে মামলা করতে বলেছি। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫