বৃহত্তম বিমানবন্দর তৈরি হচ্ছে তুরস্কে
বৃহত্তম বিমানবন্দর তৈরি হচ্ছে তুরস্কে

বৃহত্তম বিমানবন্দর তৈরি হচ্ছে তুরস্কে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তানবুলে তৃতীয় বিমানবন্দর চালু হতে যাচ্ছে অক্টোবরে। তুরস্ক বলছে, পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার পর এই বিমানবন্দরটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর।

এটি চালু হওয়ার পর আতাতুর্ক বিমানবন্দরগামী সব ফ্লাইট নতুন বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। নতুন এ বিমানবন্দরে ১শ' ১৪টি বিমান ধারণের ক্ষমতা রয়েছে।

এটি চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষের। বর্তমানে ইউরোপের ৫টি ব্যস্ত বিমানবন্দরের মধ্যে আতাতুর্ক বিমানবন্দর একটি। নতুন বিমানবন্দর চালু হলে বন্ধ হয়ে যাবে পুরনোটি।

তুরস্কে চালু হচ্ছে রোবট কারখানা

রোবট উৎপাদন শুরু করেছে তুরস্কের সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান একিনসফট নির্মিত একিনরোবোটিকস ফ্যাক্টরি। তুরস্কের কোনইয়া প্রদেশে প্রতিষ্ঠানটি এই রোবট কারখানা চালু করবে।

অ্যাডা জিএইচ৫ নামের এই রোবটটি বিমানবন্দর, শপিং মল, হাসপাতাল, থিয়েটার ও বাসায় ব্যবহার করা যাবে। এই রোবটগুলো শুনতে, বলতে, গন্ধ নিতে ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

এই রোবট প্রকল্পের জন্য প্রতিষ্ঠানটি অন্তত ১১.৩ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। একিনসফট ২০০৯ সালে রোবোটিকস নিয়ে গবেষণাগার চালু করে। একাধিক গবেষণা প্রকল্পের পর ২০১১ সালে তারা মডেল উৎপাদন শুরু করে।

তুরস্কে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু

তুরস্কের মারসিনে দেশটির প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আকুইয়ুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন। রুশ পৃষ্ঠপোষকতায় তুরস্কের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ উপলে তিনি তুরস্ক সফর করছেন। সফরের শুরুতেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে আকুইয়ুর এক জমকালো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন পুতিন-এরদোগান।

মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে পুতিন ২০০০ কোটি ডলারের এ নির্মাণকাজের সূচনা করেন। রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম ৪ ইউনিটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে; যার প্রতিটি ইউনিটের ধারণক্ষমতা থাকবে ১ হাজার ২ শ’ মেগাওয়াট। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে পুতিন ও এরদোগান আকুইয়ুর নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরদোগান বলেন, যখন চারটি ইউনিটই চালু হয়ে যাবে, তখন এই প্ল্যান্ট তুরস্কের মোট জ্বালানি চাহিদার ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে।

২০১০ সালে এটি নির্মাণে রাশিয়ার সাথে চুক্তি হয়েছিল। দেরি হওয়া সত্ত্বেও ২০২৩ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু করা যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আধুনিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর ও জ্বালানি খাতে নির্ভরতা কমিয়ে আঙ্কারার স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠার নিদর্শনস্বরূপ এরদোগানের ‘ভিশন-২০২৩’ এর অংশ হিসেবে ওই বছরই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করার পরিকল্পনা ছিল।

পরে পুতিনের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান জানান, চার হাজার আট শ’ মেগাওয়াট ধারণমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের মোট খরচ ২০০০ কোটি ডলারের বেশিও হতে পারে। গত মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ২০২৩ সালের মধ্যে আকুইয়ু থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও রোসাটম বলছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫১ শতাংশের মালিকানা থাকবে রোসাটমের হাতে, ৪৯ শতাংশের মালিক হবে তুর্কি কোনো প্রতিষ্ঠান। যদিও এখন পর্যন্ত স্থানীয় কোনো অংশীদার পাওয়া যায়নি।

রোসাটমের প্রধান নির্বাহীর বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৪৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রির কার্যক্রম ২০১৯ সাল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
আঙ্কারায় মস্কোর সরবরাহ করা এস-৪০০ পেণাস্ত্র প্রতিরা ব্যবস্থা স্থাপনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রকল্পেও তুরস্ক রাশিয়াকে সহযোগিতা করতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন এরদোগান।

এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি তিনি। গত বছরের ডিসেম্বরে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ পেণাস্ত্র প্রতিরা ব্যবস্থা কেনার চুক্তি করে। ন্যাটোর সামরিক কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যহীন আঙ্কারার এ পদপে পশ্চিমা দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
আনাদোলু ও রয়টার্স

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.