ঢাকা, বুধবার,২৫ এপ্রিল ২০১৮

সিটি নির্বাচন

জামায়াত-জাতীয় পার্টিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত

বিএনপি আওয়ামী লীগের হাফ ডজন প্রার্থী নিয়ে টেনশন

বগুড়া-২ আসন

খলিলুর রহমান আকন্দ শিবগঞ্জ (বগুড়া)

১৬ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ২২:৪৭


প্রিন্ট
বিএনপি আওয়ামী লীগের হাফ ডজন প্রার্থী নিয়ে টেনশন

বিএনপি আওয়ামী লীগের হাফ ডজন প্রার্থী নিয়ে টেনশন

দেশের সর্বত্র জাতীয় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনেও নির্বাচনী তোড়জোড় চোখে পড়ার মতো। ভোটারদের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা করতে তৎপর হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ আসনে জামায়াত-জাতীয় পার্টিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হাফডজন প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

তারা বিভিন্ন দিবস ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং কুশল বিনিময় ও গণসংযোগ করছেন প্রতিনিয়ত।


স্বাধীনতা-পরবর্তী নির্বাচন গুলোতে এ আসনটি সব সময় বিএনপি-জামায়াতের দখলে থাকার পর সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃতাধীন ২০ দলীয়জোট নির্বাচন বর্জন করলে আসনটি বিনা ভোটে চলে যায় জাতীয় পার্টির দখলে। তবে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এ আসনটি ছিনিয়ে নিতে মাঠে তৎপর বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।


আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তাই গুঞ্জন উঠেছে সর্বত্র। আলাপ-আলোচনা চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে। সব আলোচনার একটাই কেন্দ্রবিন্দু জামায়াতকে নিয়ে। এই আসনে জামায়াতের যেকোনো প্রার্থী থাকলে অন্য দলের প্রার্থীদের ধরাশায়ী হতে হবে। এ কারণে জামায়াতের দিকেই তাকিয়ে আছে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বগুড়ার সবক’টি আসনেই জামায়াত এবার মেইন ফ্যাক্টর হতে পারে। আর এই কারণে জামায়াতকে নিয়েই টেনশন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের।


যাদের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছেÑ
আওয়ামী লীগ : এই আসনে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যে ক’জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্য বেশির ভাগ প্রার্থীরই দাবি কেন্দ্রীয় সমর্থন পেলে নির্বাচন করব। এ ক্ষেত্রে সবাই দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাপোষণ করেছেন। আওয়ামী লীগের হয়ে এই আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের ব্যাপারে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান (মোস্তা), পৌরমেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আওয়মী লীগ নেতা আকরাম হোসেন, চার বারের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতার অন্যতম সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ মো: মোজাফফর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ফকির। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন দিবস ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে সাধারণ মানুষের খোঁজখবরসহ গণসংযোগ করছেন। দলের সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতায় বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত তার পক্ষে গেলে তিনি নির্বাচন করবেন এবং তিনিই জয়ী হবেন।


এ দিকে পৌরমেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক অনেক আগে থেকেই সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করে আসছেন। যোগ দিচ্ছেন নানা সভা সমিতিতে।


বিএনপি : থশিবগঞ্জে বিএনপির অবস্থান বরাবরই প্রশংসনীয়। তবে গ্রেফতার আতঙ্ককে ঘিরে পূর্বে দলীয় ইউনিটি কিছুটা দুর্বল হলেও আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোভাব অনেকটায় চাঙা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। থআসন্ন বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে বিএনপির নির্বাচনী মাঠে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে তৃণমূল কর্মীদের সাথে দূরত্ব থাকলেও এখন সেই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন এসব নেতারা। নিয়মিত কর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন তারা। দলের বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত হচ্ছেন। বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে দেখা মিলছে ওই সব নেতাদের। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন দুই বারের নির্বাচিত সাবেক এমপি আলহাজ অ্যাডভোকেট এ কে এম হাফিজুর রহমান, বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম, সাবেক মহিলা এমপি (সংরক্ষিত) ও জাতীয় সমবায় দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আফরোজ বেগম জ্যোতি, জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা: বিউটি বেগম, সাবেক মেয়র ও থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: মতিয়ার রহমান মতিন এবং জেলা বিএনপির নেতা মো: রশিদুল ইসলাম স্বাধীন।


মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট এ কে এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ধানের শীষের টিকিট তিনিই পাবেন। সেই অনুযায়ী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার মতে সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণ তাকেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম বলেন, ম্যাডাম এই আসন থেকে তাকেই মনোনীত করবেন। আমি সর্বদা শিবগঞ্জবাসীর পাশে থাকতে চাই।


জামায়াত : দলীয় নিবন্ধন বাতিল হলেও এই আসনে নির্বাচনী আলোচনায় ব্যাপক অংশজুড়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। কেন না জামায়াত মনোনীত ব্যক্তি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্ব পূর্ণ স্থানে বসে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকারণে এই আসনে নির্বাচনে জামায়াত বরাবরই অন্যতম ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। মাঠে তাদের প্রকাশ্য কার্যক্রম লক্ষ্য করা না গেলেও নেতাকর্র্মীদের দাবি তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি বেশ মজবুত। এ আসনে ইতোমধ্যেই প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন ১৯৯১ সালে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মো: শাহাদাতুজ্জামান। অনেক আগে থেকেই তিনি বিভিন্ন সভা, মাহফিল, কুলখানি ও জানাজায় অংশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। এ ছাড়াও বিগত সময়ে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণেও তার উপস্থিতি লক্ষ্যণীয় ছিল। জোটগত নির্বাচন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই আসনে বিএনপি প্রার্থী দিলেও জামায়াত একক ভাবে নির্বাচন করবে।


জাপা : বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরীফুল ইসলাম জিন্নাহ। তিনি এবারো দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার রাস্তাঘাটও বিদ্যুতের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।


নাগরিক ঐক্য : জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করলেও মাহমুদুর রহমান মান্না শিবগঞ্জের কৃর্তী সন্তান। আগামী নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে লড়তে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপির সাথে জোটগত ভাবে নির্বাচন করলে তিনি এই আসনটি চাইতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বগুড়া-২ শিবগঞ্জে এই আসনটিতে সকল দলের অংশগ্রহণ থাকায় উৎসব মুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। এখন দেখার বিষয় সর্বশেষ কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, আর কেই বা হচ্ছেন আগামী দিনে শিবগঞ্জের লাখো মানুষের এমপি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫