ads

ঢাকা, শুক্রবার,২০ এপ্রিল ২০১৮

সিলেবাস

২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি সংখ্যা-৪৫ বাংলা প্রবন্ধ : শখের মৃৎশিল্প

দিদারুল আলম সিনিয়র শিক্ষক, আইক্যান ইনস্টিটিউট, ঢাকা

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সুপ্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের বাংলা বিষয়ের ‘প্রবন্ধ : শখের মৃৎশিল্প’ থেকে আরো ৪টি প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
প্রশ্ন : ঘরের ভেতরে শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করো।
ক) এই যে ..... দেখছ, এসবই গ্রামের শিল্পীদের তৈরি।
খ) মাটির পুতুল জমানো আমার একটি .......।
গ) মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে.......... বলে।
ঘ) আমরা মেলা থেকে অনেক .......... কিনলাম।
উত্তর : ঘরের ভেতরে শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করা হলোÑ
ক) এই যে নকশা দেখছ, এসবই গ্রামের শিল্পীদের তৈরি।
খ) মাটির পুতুল জমানো আমার একটি শখ।
গ) মাটির তৈরি শিল্পকর্মকে মৃৎশিল্প বলে।
ঘ) আমরা মেলা থেকে অনেক টেপা পুতুল কিনলাম।
প্রশ্ন : মাটির শিল্প বলতে কী বুঝ?
উত্তর : মাটির তৈরী শিল্পকাজকে বলা হয় মাটির শিল্প। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো মাটি। তবে সব মাটি দিয়ে এ কাজ করা যায় না। দরকার পরিষ্কার এঁটেল মাটি। এ ধরনের মাটি বেশ আঁঠালো। আবার এঁটেল মাটি হলেই যে এ মাটি দিয়ে শিল্পের কাজ করা যাবে তাও নয়। এতে অনেক যতœ আর শ্রম দরকার। তা ছাড়া দরকার হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরি জ্ঞান। এ দেশের প্রাচীন শিল্পকলার পরিচয় পাওয়া যায় মাটির শিল্পে।
প্রশ্ন : শখের হাঁড়ি কী রকম?
উত্তর : মাটি দিয়ে নানা ধরনের সুন্দর হাঁড়ি তৈরি হয়। শফিউল আলম রচিত ‘শখের মৃৎশিল্প’ রচনায় এ দেশের জানা-অজানা অনেক মাটির তৈরি জিনিসের নাম বলা হয়েছে। শখের হাঁড়ি এক ধরনের অপূর্ব সুন্দর মাটির তৈরি হাঁড়ি। শখের হাঁড়ির গায়ে নানা ধরনের ফুলপাতা, মাছের ছবি আঁকা থাকে। শখ করে নানা জিনিস এ হাঁড়িতে রাখা হয় বলে এ হাঁড়িকে বলা হয় শখের হাঁড়ি।
প্রশ্ন : মাটির শিল্প কেন আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়?
উত্তর : পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই নিজস্ব ঐতিহ্য আছে। বাঙালি জাতিও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের নিজস্ব যেসব ঐতিহ্য রয়েছে, তার মধ্যে মৃৎশিল্প অন্যতম। শত শত বছর ধরেই বাংলাদেশের মৃৎশিল্পীরা মেধা, মননশীলতা ও শ্রমের বিনিময়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে পোড়ামাটির ফলক টেরাকোটা, শিলালিপি, কারুকার্যখচিত পাত্র, নকশি ইট ইত্যাদির ব্যবহার হতো, যার প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে শালবন বিহার, ময়নামতি, পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়ের মতো প্রাচীন প্রতœতাত্ত্বিক স্থান থেকে। তা ছাড়া সম্প্রতি নরসিংদী জেলার বটেশ্বরে হাজার হাজার নিদর্শন পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশির ভাগই মাটির তৈরি জিনিসপত্র, যা হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য। এসব ঐতিহাসিক স্থান থেকে প্রাপ্ত মাটির তৈরি জিনিসপত্র সুন্দর ও শৈল্পিক, যা প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানেও মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর সবার কাছে। বড় বড় সরকারি-বেসরকারি ভবনে আজকাল সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নানা রকম নকশা করা মাটির ফলক ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এসব মৃৎশিল্প দেশ-বিদেশে বেশ সমাদৃত। আর সেজন্যই বলা হয় মাটির শিল্প বা মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের বিষয়।

 

ads

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫