ads

ঢাকা, শুক্রবার,২০ এপ্রিল ২০১৮

ক্রীড়া দিগন্ত

সব ক্লাবের অংশগ্রহণ চেয়েছিলেন খাজার স্ত্রী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গত বছর ২২ অক্টোবর ঘরের মাঠে শেষ হলো এশিয়া কাপের আসর। খুশির রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দু’দিন পর ২৪ অক্টোবর শুনতে হলো দুঃসংবাদ। খাজা রহমতউল্লাহ আর নেই। নির্বাক ও স্থবির হয়ে গেল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন তথা সব হকি প্রেমিকেরা। হকির উন্নতির জন্য কাজ করতে করতেই জীবন গেল তার। কিছুটা অভিমানও ছিল। যে কারণে তার স্ত্রী নাদিরা রহমতউল্লাহ চাননি খাজার লাশ হকি স্টেডিয়ামে আনা হোক। তখন থেকেই বাহফের প্রস্তুতি ছিল খাজার জন্য কিছু করতে হবে। ভিভিআইপির একটি গেটের নামকরণ করা হয়েছে খাজা রহমত উল্লাহ স্ট্যান্ড নামে। এছাড়া গতকাল থেকে ছয়টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া ক্লাব কাপ প্রতিযোগিতা করা হয়েছে খাজার নামে।
এই প্রথম হকি স্টেডিয়ামে এলেন মরহুম খাজার স্ত্রী নাদিরা রহমত উল্লাহ। বিবর্ণ ফ্যাকাশে মুখমণ্ডলে বেদনার ছাপ স্পষ্ট। স্টেজে গিয়েও চেহারায় হলো না কোনো পরিবর্তন। এই বুঝি নয়ন যুগলে প্রবাহিত হবে অশ্রু। কোনোরকম অশ্রু সংবরণ করে বললেন, ‘আপনারা খাজার নামে টুর্নামেন্ট করার যে উদ্্েযাগ নিয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ। উনি আপনাদের একজন হয়ে হকির উন্নয়নে কাজ করতেন। কতটুকু পেরেছেন জানি না। ভালো লাগত যদি প্রতিটি ক্লাবের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতো। আগামীতে যেন অংশ নেয়। হকির উন্নয়নে বিভেদ পছন্দ নয়। ব্যক্তিগত ইগো ভুলে একসাথে হকির উন্নয়নে কাজ করলে খাজার আত্মা শান্তি পাবে। শুধু খাজাই নয়, নামীদামি খেলোয়াড় যারা মারা গেছেন তাদেরও মূল্যায়ন করা উচিত।’
খাজা রহমত উল্লাহর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য ভবিষ্যতে হকি ফেডারেশনে কোনো পদে আসতে চান কি নাÑ এমন প্রশ্নে নাদিরা রহমতউল্লাহ বলেন, ‘না এমন কোনো ইচ্ছাই নেই। এখানে যথেষ্ট যোগ্য লোক আছেন। চাইলে পাশে থাকব। খাজার খুব ইচ্ছে ছিল তৃণমূলে অর্থাৎ স্কুল লেভেলে কাজ করার। নারায়ণগঞ্জে অনেক কাজ করেছেন। আমি চাই এটি ছড়িয়ে পড়–ক সারা দেশে।’
মরহুম খাজা রহমত উল্লাহ এক সময়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৭ সালে উদিতি ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে হকির ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে খেলেন সাধারণ বীমায়। পরের বছর তার নৈপুণ্যে সাধারণ বীমা প্রথম বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৮৫ সালে এক বছর মোহামেডানে খেলার পর যোগ দেন আবাহনীতে। সেখানে একটানা দশ বছর খেলার পর ১৯৯৫ সালে আবাহনীর হয়েই খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করেন। ১৯৮৬ সালে সিউল অলিম্পিকের পর এশিয়ান একাদশে ডাক পেলেও ইনজুরির কারণে খেলা হয়নি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু ও জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন।

 

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫