ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

ক্রীড়া দিগন্ত

যমজ রাব্বি-রাফির রাশিয়া ভাগ্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

এমন সৌভাগ্য কয়জনের হয়। গত বছর রাশিয়ায় গেল রাব্বি- এবার বিশ্বকাপে রাফি। নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জের গর্বিত দম্পতি বশির উদ্দিন রতন আর মেহবুবা রতনের যমজ সন্তান গোলাম রাব্বি আর গোলাম রাফি। গত বছর রাশিয়া গিয়েছিল দুই যমজ সন্তানের বড়জন রাব্বি, এবার যাচ্ছে তার ৩ মিনিটের ছোট রাফি।
গত মার্চে উন্মুক্ত ট্রায়ালের মাধ্যমে রাফিকে বাছাই করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ২০০ খুদে ফুটবলার এ ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে থেকে রাফি নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ার এই খুদে ফুটবল ফেস্টিভালের জন্য।
জুনে রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। আর এই মাসেই মস্কোতে শুরু হচ্ছে ২১১ দেশের খুদে ফুটবলারদের নিয়ে ফেস্টিভাল। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে যাচ্ছে রাফি। রাশিয়ার এই ফুটবল ফেস্টিভালে ২১১ দেশ থাকলেও খেলবে ৬৪ দেশের ফুটবলাররা। এ ৬৪ দেশের মধ্যে আছে বাংলাদেশও। ৭ জুন রাফিকে নিয়ে রাশিয়া যাবেন বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য হারুনুর রশিদ। একই অনুষ্ঠানে রাব্বি গিয়েছিল গত বছর। এবার রাফির জন্য বাড়তি উপহার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে বসে আরো ১১০টি দেশের খুদে ফুটবলারদের সাথে রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাফি।
গত বছর রাব্বি। এবার রাফি। ছেলেদের এমন অর্জনে বাবা-মা খুশিতে ডগমগ। খবর জানার পর থেকেই ওর মা রাফিকে অনেক কিছু শেখাচ্ছেন। যেমন শিখিয়েছিলেন আগেরবার রাব্বিকে। এমনটাই জানালেন তার বাবা বশির উদ্দিন রতন, ‘এটা কেবল আমার সুনাম নয়, সবার। পুরো দেশের হয়ে রাফি যাবে রাশিয়ায়। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই, যাতে ওখানে গিয়ে সে দেশের সম্মান রক্ষা করতে পারে। আমি ওদের নিয়ে অনেক কষ্ট করছি। আল্লাহ তারই ফল দিচ্ছেন আমাকে।’
রাফির বাবা ২৮ বছর বিদেশে ছিলেন। পাঁচ বছর মালয়েশিয়ায়, পরের ২৩ বছর সৌদি আরবে। প্রবাসে অনেক বছর কাটানোর পর ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ সৌদি থেকে একেবারে চলে আসেন রাব্বির বাবা। এই যমজ সন্তানের বয়স মাত্র ১২ বছর। এ বয়সের ছেলেরা পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলাতে বেশি মগ্ন থাকে। রাফি রাশিয়ার জন্য মনোনীত হওয়ার পর ইংরেজি শিখছে তারই স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে। রাফির কথায়, ‘আমি শান্তি ম্যাডামের কাছে ইংরেজি শিখছি। রাব্বিও আমাকে শেখাচ্ছে। রাশিয়ায় আমাকে কী করতে হবে এগুলোও শেখাচ্ছে। কখনো ভাবিনি বিশ্বকাপ খেলা সরাসির দেখব। টিভিতে অনেক খেলা দেখেছি। এবার স্টেডিয়ামে বসে দেখব। অনেক মজা হবে। আগেরবার যখন রাব্বি রাশিয়া গিয়েছিল তখন বলেছিলাম বুট, জার্সি আর ট্র্যাকস্যুট আনতে। কিন্তু রাব্বি আমার জন্য ওসব আনতে পারেনি।’

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫