ads

ঢাকা, শুক্রবার,২০ এপ্রিল ২০১৮

প্রথম পাতা

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এ দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। সেই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়ায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব ও পরিচালনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতি ঘটে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের এ দিনে তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। মুজিবনগরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার। তবে ২৫ মার্চ কাল রাতে পাকিস্তানিদের হাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ায় বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সেই দিন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আনুষ্ঠানিক শপথ ছাড়াও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। এ অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। পরে এ বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে আওয়ামী লীগ।
রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল এক স্মরণীয় দিন। তিনি বলেন, মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে একটি সাংবিধানিক সরকার আত্মপ্রকাশ করে। এ সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। জনমত সৃষ্টি, শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণে মুজিবনগর সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে, তা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরব গাথার স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীকে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখীসমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী মুক্তিকামী বাঙালি জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ নেয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গত ৯ বছরে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যমোচন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। দিবসটি সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব জেলা শাখার কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সোয়া ১০টায় অভিবাদন প্রদান, সকাল সাড়ে ১০টায় শেখ হাসিনা মঞ্চে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
গতকাল এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫