ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

প্রথম পাতা

ইলিয়াস নিখোঁজ রহস্য আটকে আছে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলে

৬ বছরেও সন্ধান মেলেনি

আবু সালেহ আকন

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ছয় বছরেও সন্ধান মেলেনি বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর। আদৌ তিনি বেঁচে আছেন না মরে গেছেন, সেই তথ্যও নেই কারো কাছে। ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে প্রশাসনেও নেই কোনো তৎপরতা। এ দিকে ইলিয়াস আলীর পরিবার, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের অনেকে এখনো পথ চেয়ে আছেন তার ফেরার। ইলিয়াস আলীর সঙ্গে নিখোঁজ ড্রাইভার আনসার আলীর কোনো হদিস মেলেনি।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী। একই সঙ্গে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলীর গাড়িচালক আনসার আলী। গত ছয় বছরেও তাদের হদিস মেলাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। তারা আদৌ বেঁচে আছেন না মারা গেছেন সে সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কাছে। জিজ্ঞেস করা হলেই পুলিশ ও গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ইলিয়াস আলীকে যে অপহরণ করা হয়েছে সে বিষয়টি নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। আর তাকে অপহরণের সাক্ষী নিশ্চিহ্ন করতেই আনসার আলীকেও তুলে নেয়া হয় বলে অনেকেই মনে করছেন। ঘটনাস্থল থেকে ইলিয়াস আলীর গাড়িটি উদ্ধার হলেও আর কোনো আলামত খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রথম দিকে যে দুই-চারজন ইলিয়াস আলীকে ধরে নেয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন তাদেরও এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পর কয়েক দিন এ বিষয়টি ছিল মানুষের মুখে মুখে। এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্রনেতা সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী এভাবে নিখোঁজ হতে পারেন সেই ধারণা অনেকেরই ছিল না। এখনো অনেকে বিশ্বাস করতে পারেন না যে ইলিয়াস আলী এভাবে নিখোঁজ হতে পারেন। ঘটনার পর ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের দাবিতে বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠন হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী এবং ছোট সন্তানেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রীও তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু কিছুই হয়নি।
শুরু থেকেই এই ঘটনার ব্যাপারে ইলিয়াস আলীর পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে আঙুল তোলা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দিকে। তাদের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর লোকজনই ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর না হওয়ার বিষয়েও। কেন, কী উদ্দেশ্যে ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে গেলো সে সম্পর্কেও আজো জানা যায়নি।
ঘটনার পর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই জিডির তদন্তে অগ্রগতি আদালতকে নিয়মিত জানানো হয়। এখনো তারিখে তারিখে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা জানা গেছে বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে। বনানী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) গতকাল বলেন, জিডির আমরা অগ্রগতি প্রতিবেদন দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোনো আপডেট নেই। ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বলেন, আমরা আদালতে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে যাচ্ছি। এ যাবৎ কতবার প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে সে সম্পর্কে জানাতে পারেনি বনানী পুলিশ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫