আট বছরের কাশ্মিরি যাযাবর মেয়ে আসিফা বানুকে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গতকাল ফেস্টুন নিয়ে শ্রীনগরে বিক্ষোভ করেন কাশ্মিরিরা। এই বর্বর অপরাধের বিচার দাবিতে ভারতজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। গতকাল কাশ্মিরের একটি আদালতে অপরাধী
আট বছরের কাশ্মিরি যাযাবর মেয়ে আসিফা বানুকে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে গতকাল ফেস্টুন নিয়ে শ্রীনগরে বিক্ষোভ করেন কাশ্মিরিরা। এই বর্বর অপরাধের বিচার দাবিতে ভারতজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। গতকাল কাশ্মিরের একটি আদালতে অপরাধী
কাশ্মির থেকে মামলা স্থানান্তরের আবেদন

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আসিফার পরিবার ও আইনজীবীর

এনডিটিভি

জম্মু ও কাশ্মিরের কাঠুয়া অঞ্চলের যাযাবর মুসলিম বাকারওয়াল গোষ্ঠীর আট বছর বয়সী মেয়ে আসিফা বানুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচারিককার্যক্রম জম্মু থেকে চন্ডিগড় রাজ্যের আদালতে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছেন ওই শিশুর বাবা। পরিবারের নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কথা বলে গতকাল ওসামবার সুপ্রিম কোর্টে এ আবেদন জানান তিনি। আসিফার আইনজীবীও নিজের নিরপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আদালত জম্মু-কাশ্মির সরকারকে আসিফার পরিবার ও অইনজীবীকে নিরাপত্তা দেয়ার আদেশ দিয়েছে।
গতকাল সোমবার কাঠুয়ার দায়রা জজ আদালতে আসিফাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচার শুরু হয়। গতকাল শুনানির পর তার স্থগিত করা হয়। আগামী ২৮ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কাশ্মির সরকার দুইজন শিখ কৌঁসুলিকে নিয়োগও দিয়েছে। আসিফার পরিবারের পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা জম্মু-কাশ্মিরে এ মামলার বিচারিককার্যক্রম চলা নিয়ে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা বোধ করছেন। আইনজীবী বলেন, ‘জম্মুর পরিস্থিতি, কাঠুয়ার আইনজীবীদের বিরোধিতা এবং অভিযোগপত্র দায়ের করতে বাধা দেয়া দেখে আমরা শঙ্কিত যে, বিচারিককার্যক্রম শান্তিপূর্ণ হবে না। এ মামলা অন্য কোনো রাজ্যের আদালতে স্থানান্তরের জন্য আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
তেমনি আসিফা বানুর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমে আইনজীবী দিপিকা এস রাজাওয়াত নিজেই ‘ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার’ হুমকিতে রয়েছেন। জীবননাশের শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের কাছে সুরক্ষা চান। আইনজীবী ও পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসিফার পরিবার ও তার আইনজীবীকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য জম্মু-কাশ্মির সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এ বছরের জানুয়ারিতে কাঠুয়ার উপত্যকায় ঘোড়া চরানোর সময় অপহরণ করা হয় আসিফাকে। আদালতে দায়ের করা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসিফা নামের ওই শিশুকে অপহরণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও দেবীস্থান মন্দিরের হেফাজতকারী সানজি রাম তার ভাগ্নে ও একজন পুলিশ সদস্যকে নির্দেশ দেয়। নির্দেশ বাস্তবায়নের পর সাত দিন ধরে মন্দিরে আটকে রেখে একদল হিন্দু পুরুষ ধর্ষণ করে আসিফাকে। পরে মাথায় পাথর মেরে ও গলা টিপে হত্যা করা হয় তাকে। আসিফাকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করেছে ভারতের আদালত। মধ্য জানুয়ারির ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার দিন অভিযোগপত্র জনসমক্ষে আনা হয়। জানুয়ারিতে এ নিয়ে তেমন উত্তেজনা না হলেও এ ঘটনায় অভিযোগপত্র দেয়ার পর সোচ্চার হয়ে ওঠে বলিউডসহ সারা ভারত।
আমাকে ধর্ষণ ও খুন করা হতে পারে : আইনজীবী
তেমনি আসিফা বানুর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমে আইনজীবী দিপিকা এস রাজাওয়াত নিজেই ‘ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার’ হুমকিতে পড়েছেন। জীবননাশের শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের কাছে সুরক্ষা চান। রোববার তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তাকেও হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। দিপিকা বলেন, ‘আমি জানি না কত দিন জীবিত থাকতে পারব। আমি ধর্ষণের শিকার হতে পারি...আমার সম্মান ক্ষুণœ করা হতে পারে, আমার ক্ষতি করা হতে পারে। আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছে, ‘আমরা তোমাকে ক্ষমা করব না’। আমি আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টকে বলব যে আমি হুমকিতে আছি।’

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.