ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

আরো খবর

পয়লা বৈশাখে উৎসব আনন্দে মেতেছিল ইডিইউ

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বাঙালির চিরচেনা হাজার বছরের ঐতিহ্য পয়লা বৈশাখে আনন্দে মেতেছিল চট্টগ্রামের তারুণ্যমুখর বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)। শুধু কি আনন্দ! খাওয়া-দাওয়া, গান, স্মৃতিচারণ, নৃত্যÑ সব মিলিয়ে ভরপুর এক আয়োজনে জমে উঠেছিল পুরো ক্যাম্পাস।
শনিবার নগরীর খুলশীর পূর্ব নাসিরাবাদের নোমান সোসাইটির ইডিইউর স্থায়ী ক্যাম্পাসে কালচারাল ক্লাব জমজমাট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। সকাল থেকেই ভোরের নতুন আলো একমুঠো স্বপ্ন হয়ে লুকোচুরি খেলছিল ক্যাম্পাসের আঙিনায়। শুভদিনের প্রত্যাশায় উচ্ছ্বাসের তাই কমতি ছিল না পয়লা বৈশাখে।
যাক পুরাতন স্মৃতি/যাক ভুলে যাওয়া গীতি/যাক অশ্রুবাষ্প/সুদূরে মিলাক/এসো হে বৈশাখ/এসো এসো... দিনটি শুরু হয়েছিল এ সমবেত সঙ্গীতে। এরপর একে একে বিভিন্ন আয়োজন সবাইকে যেন জাদু মন্ত্রণায় আটকে রেখেছিল ক্যাম্পাসে।
দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল স্মৃতিচারণ। এতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সজল বড়–য়া বলেন, পয়লা বৈশাখ কেবল নিছক কোনো উৎসব নয়, সংস্কৃতির বন্ধনে থেকে নিজের জাতিসত্তা, ভাষা, কৃষ্টিকালচার ও মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দেয় প্রতি বছর। সাংস্কৃতিক পর্বে কৃতী ছাত্রী সালসাবিল মুমু গেয়ে শোনান ‘আমি তোমাকেই বলে দেবো’ চমৎকার গানটি। কমল গন্ধার রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দূর থেকে বহুদূর।
মুন দাশ ও জিনাত শোনান ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়’। সুদীপ্ত দে ‘হয়তো তোমারি জন্য’ গানটি গেয়ে পকেটভর্তি হাততালি নিয়ে মঞ্চ ছাড়েন। আধুনিক গান পরিবেশন করে আবীর সবাইকে জানিয়ে দিলেন তিনিও সঙ্গীত ভালোবাসেন। ইফতির ব্যান্ডের গান আর ফাহিমের ‘নীলাঞ্জনা’ আকাশের নীলের খোঁজে সাদা মেঘে ভেসে বেড়িয়েছে। বড্ড অভিমানী মানিতা আর ইশরাত মুখে মুখে ফেরা ‘চলো সবাই’ গানটির তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করে কিভাবে যেন সবার মন জয় করে ফেললেন! বিজ্ঞপ্তি।

শুধু কি তারা দু’জন? ভীষণ আড্ডাবাজ সোয়াসতিকা ও পুনম দ্বৈত নাচ পরিবেশন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন জুটি বেঁধে অনেক ভালো কাজ হয়।
‘বাংলাদেশের মেয়ে রে তুই’ গানের সাথে নেচে স্টেজ কাঁপিয়েছেন সদা হাস্যোজ্জ্বল দুই ভাই রিদভী ও শহীদ। নাটিকায় শিক্ষার্থী সাওকির দুরন্ত অভিনয় দেখে মনেই হয়নি তিনি আগে কখনো অভিনয় করেননি।
ক্যান্টিনে সবসময় বিতর্কে ঝড় তোলা মুন্না ও মুমুকে দেখা যায় শেষের কবিতায় হারিয়ে যেতে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন নাঈম, নবজিৎ, তাসফি, ইফফাত, তুহিন, রাকিব প্রমুখ। জুনায়েদ ও ফারিহার প্রাণবন্ত উপস্থাপন করতালি কুড়িয়েছেন আয়োজনজুড়ে।
কালচারাল ক্লাবের উপদেষ্টা ও অনুষ্ঠানের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্ত বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা দিয়ে আমাদের উৎসব শুরু হয়। ছিল পিঠাপুলির আয়োজনও। আগামীতে আরো বিশাল পরিসরে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্লাবের কনভেনার শিক্ষার্থী সাফা ইকবাল বলেন, বর্ণিল সাজে সাজানো হয় প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি আঙিনা। মাটির কলস, পাতিল, ঢোল, কুলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ঠাঁই পেয়েছে ইডিইউর অবয়বে। দারুণ সময় কেটেছে আমাদের। বিজ্ঞপ্তি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫