ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

নগর মহানগর

জননিরাপত্তা বিভাগের দরপত্র ই-টেন্ডারিংয়ে হচ্ছে না

একান্ত অপরিহার্য না হলে সরবরাহ ঋণ নয়

হামিদ সরকার

১৭ এপ্রিল ২০১৮,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পসহ সব দরপত্র ও ক্রয় কার্যক্রম ই-টেন্ডারিংয়ে করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেটি এখনো শতভাগ মানা হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত থাকলেও জননিরাপত্তা বিভাগের প্রকল্পগুলোর আওতায় বেশির ভাগ দরপত্র ই-টেন্ডারিংয়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া অর্থবছরের শেষে গণপূর্ত অধিদফতরের কোনো বিভাগ থেকে অর্থ ফেরত দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে মাসিক পর্যালোচনা সভায় এসব পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় কার্যক্রমের ব্যয় যথাযথভাবে প্রাক্কলন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগতমান বজায় রেখে কাজ সম্পাদনের দিকে মনোনিবেশ এবং নন-কনসেশনাল বা সরবরাহ ঋণ একান্ত অপরিহার্য না হলে গ্রহণ না করার জন্য সভাপতির পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়।
সভায় অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূূচির (এডিপি) অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানান, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৯৭৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪০৭ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ৪২ শতাংশ। একই সময়ে জাতীয় অগ্রগতি হলো ৩৮ শতাংশ।
পর্যালোচনায় ৫০টি হাইওয়েতে পুলিশ আউট পোস্ট নির্মাণ প্রকল্পের ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক (ডিআইজি হাইওয়ে) সভাকে জানান, একনেক থেকে কিছু নির্দেশনা প্রতিপালনের শর্তে সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়। কিন্তু গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃক পুনর্গঠনকালে নির্দেশনার বাইরে ভবনের ফাউন্ডেশনের ব্যয় প্রতি বর্গমিটার খোদ গণপূর্ত নির্ধারিত রেটের সিডিউল অপেক্ষা অনেক বেশি দেখানো হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব বলেন, এসব কারণে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় বিব্রত হতে হয়। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (উন্নয়ন) উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই বিভাগের গৃহীত কোনো ডিপিপি পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই সভা, ডিপিইসি অথবা পিইসি পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনোরূপ সংযোজন বা বিয়োজন করা হলে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পর্যালোচনা সভায় প্রকাশ করা হয়, জননিরাপত্তা বিভাগের আওতাধীন সব প্রকল্পের শতভাগ ক্রয় কার্যক্রম ই- টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পগুলোর আওতায় বেশির ভাগ দরপত্র ই-টেন্ডারিংয়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি, অর্থবছরের শেষে গণপূর্ত অধিদফতরের কোনো বিভাগ থেকে অর্থ ফেরত দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার সিদ্ধান্তটিও পরবর্তী সভায় বহাল থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিভাগের ৫০টি হাইওয়ে পুলিশ আউটপোস্ট নির্মাণ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ১২ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হবে। সে ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থের অবশিষ্টাংশ পুলিশ অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্পের সাথে উপযোজনের মাধ্যমে শতভাগ ব্যয় সম্পন্ন করা হবে।
জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব নির্দেশনা দেন, এই বিভাগের আওতাধীন সব প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রম শতভাগ ই-টেন্ডারের মাধ্যমে স¤পন্ন করতে হবে। আমাদের সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে কার্যক্রম নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিহার করতে হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫