ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

উপমহাদেশ

আসিফার আইনজীবীর শঙ্কা : তাকেও ধর্ষণ করে হত্যা করা হবে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৮:২০


প্রিন্ট
আসিফার আইনজীবীর শঙ্কা : তাকেও ধর্ষণ করে হত্যা করা হবে

আসিফার আইনজীবীর শঙ্কা : তাকেও ধর্ষণ করে হত্যা করা হবে

প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হলো ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের কাঠুয়ার গণধর্ষিতা শিশু আসিফা বানোর আইনজাবী দীপিকা এস রাজাওয়াতকে।

দীপিকার আশঙ্কা, 'জানি না কত দিন বেঁচে থাকব। আমাকে ধর্ষণ করা হতে পারে। আমার সম্ভ্রম নষ্ট করা হতে পারে। আমায় খুন করা হতে পারে।'
তার বিপদের কথা সুপ্রিম কোর্টকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রাজাওয়াল রবিবার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, 'জানি না কত দিন বেঁচে থাকব। আমাকে ধর্ষণ করা হতে পারে। আমার সম্ভ্রম নষ্ট করা হতে পারে। আমায় খুন করা হতে পারে। শেষ করে দেওয়া হতে পারে। গতকাল আমায় হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ওরা আমাকে ক্ষমা করবে না। আমি যে বিপদে রয়েছি, তা সুপ্রিম কোর্টকে জানাব।'

তিনি আরো জানান, 'আমি ভীত নই। তবে নিজেকে নিরাপদ বলে মনে করছি না। আমি যাতে বিচার চেয়ে লড়াই না-করি, সেই জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন প্রতিবাদী আইনজীবীরা। তবে আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব। পুলিশি তদন্তের উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছেন।'

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাত্‍কার দিতে গিয়ে দীপিকা অভিযোগ করেছিলেন যে, এই মামলা হাতে নেয়ায় তাকে হুমকি দিয়েছেন জম্মু বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিএস স্লাথিয়া। তিনি বলেন, 'আমি জম্মু বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য নই। তবে বুধবার যখন আদালতে যাচ্ছি, তখন স্লাথিয়া আমাকে বলে আমি যেন এই মামলা হাতে না-নিই। আমি তার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই। আমি শুরু আমার মক্কেলের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।' যদিও এই অভিযোগ মানতে চায়নি জম্মু বার কাউন্সিল।

কাঠুয়া কাণ্ডের মামলা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন জম্মুর আইনজীবী দীপিকা। তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশু ও মহিলাদের নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভয়েস ফর রাইটস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সনও।

 

কাশ্মিরে শিশুধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দিল্লির গণমাধ্যমের অন্যায় নীরবতা
বিবিসি

মন্দিরের ভেতর কাশ্মিরের শিশু আসিফা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা গুরুত্ব পায়নি ভারতের রাজধানী দিল্লির গণমাধ্যমে। ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে আট বছরের শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় পুরো রাজ্য ক্ষোভে ফেটে পড়লেও সেই বিক্ষোভের উত্তাপ পৌঁছায়নি দিল্লিতে। তারা এ ব্যাপারে মুখ খুলেছে দীর্ঘ চার মাস পর।

২০১২ সালের দিল্লির গণধর্ষণের ঘটনায় পুরো রাজ্য যেভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। আসিফা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কেউ এতটা সরব হয়নি। কাশ্মির উপত্যকার গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করলেও বেশির ভাগ জাতীয় সংবাদমাধ্যমে পায়নি কোনো কাভারেজ।

কাশ্মিরের স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ তারা জানুয়ারি মাসেই এই খবরটি প্রচারে দিল্লি অফিসে যোগাযোগ করেছিল। তাদের কাছে এই লোমহর্ষক ঘটনার চেয়ে কাশ্মির উপত্যকায় টিউলিপ বাগান উদ্বোধনের খবরটিকে বেশি জরুরি মনে হয়েছে। পরে এপ্রিলের মাঝামাঝি কেন্দ্রীয় নিউজ নেটওয়ার্কগুলো হঠাৎ করেই সংবাদটি প্রচারে উঠেপড়ে লাগে।

প্রশ্ন ওঠে, ঘটনার চার মাস পর হঠাৎ কেন নড়েচড়ে বসলো দিল্লি মিডিয়া? হিন্দু ডানপন্থী দলগুলো তাদের কমিউনিটির এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানানোই কি তাদের নজর আকর্ষণের কারণ? এ বিষয়ে ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক শেখর গুপ্ত জানান, এ ধরনের আচরণ দিল্লির সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকৃত চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। সেখানে তারা জাতীয় সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে দ্বিধাবিভক্ত ও প্রভাবিত। বিশেষত সেনানিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের খবর প্রচারে তারা বরাবরই পক্ষপাতদুষ্ট। এর পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে হিন্দু কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো এমনকি ক্ষমতাসীন বিজেপির দুইজন মন্ত্রী গ্রেফতারকৃতদের প্রতি সমর্থন জানানোর পর এটি আলোচনায় ওঠে আসে। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন কম উঠেনি। তিনি তার টুইট বার্তায় সুবিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েই চুপ করে যান।

এ বিষয়ে সমাজবিশ্লেষক ডক্টর বিশ্বনাথান বলেন, দিল্লির সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিনিয়ত হত্যা, ধর্ষণ, সহিংসতা, নির্যাতন, লুটপাটের খবর প্রচার করতে করতে গা সওয়া হয়ে গেছে। প্রতিটি খবরেই তারা অতিরঞ্জন কিছু খুঁজতে চায়, যা তাদের নৈতিক বোধকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, মিডিয়া আর রাজনীতিবিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ধর্ম, গোত্র ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়ায় এখন আর মানবাধিকার বলে কিছু নেই। তার মতে, এখনকার মানুষের বিবেক অনেকটা রিপ ভ্যান উইঙ্কলের ঘুমের মতো।


ইস্তফা দেয়া মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় বিচার দাবি
এ দিকে জম্মু-কাশ্মিরে ইস্তফা দেয়া দুইজন বিজেপি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে বিচার করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে সিপিআইর (এম) পলিটব্যুরো।
(শনিবার) সিপিআই (এম) বলেছে, কেবলমাত্র পদত্যাগই যথেষ্ট নয়। ওই দুইজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অপরাধের বিচার হওয়া প্রয়োজন। রাজ্য সরকারকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। যে আইনজীবীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে বাধা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছে দলটি।

সিপিআইএমের পলিব্যুরো কঠুয়া ইস্যুতে বলেছে, ‘এটি হত্যা ও ধর্ষণের ভয়ঙ্কর ঘটনা। শিশুটিকে আটকে রেখে তাকে নিস্তেজ করে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। ধৃত অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে জম্মু ও কাশ্মিরের দুইজন মন্ত্রী জঘন্য অপরাধীদের আড়াল করতে ধর্মীয় মোড়ক দেয়ার চেষ্টা করেছেন। বিজেপির ওই দুই মন্ত্রীর ভূমিকা বিচারে বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার দাবি
হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, কাঠুয়া অঞ্চলের ৮ বছর বয়সী মেয়ে আসিফা বানুকে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতদের বিচারে বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। শনিবার জম্মু ও কাশ্মির উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতিকে ওই দ্রুত বিচার আদালত প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানিয়েছেন মেহবুবা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের এক সূত্র জানিয়েছে, এমন আদালত প্রতিষ্ঠা করা গেলে ৯০ দিনের মধ্যে আসিফা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। আসিফাকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক সরকারি কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করেছেন ভারতের আদালত। মধ্য জানুয়ারির ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার দিন অভিযোগপত্র জনসম্মুখে আনা হয়। জানুয়ারিতে এ নিয়ে তেমন উত্তেজনা না হলেও এ ঘটনায় অভিযোগপত্র দেয়ার পর সোচ্চার হয়ে উঠেছে বলিউডসহ সারা ভারত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫