ঢাকা, সোমবার,২৩ এপ্রিল ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্বাসঘাতকতা ভুলবে না মুসলমানরা: ইরান

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৭:২৭


প্রিন্ট
 বিশ্বাসঘাতকতা ভুলবে না মুসলমানরা: ইরান

বিশ্বাসঘাতকতা ভুলবে না মুসলমানরা: ইরান

সিরিয়ার ওপর সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সহযোগিতা দেয়ার জন্য কিছু মুসলিম দেশের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানি। এসব দেশের বিশ্বাসঘাতকতা কেউ ভুলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লারিজানি বলেন, সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের বর্বরোচিত হামলা আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। এ হামলার প্রতি ইসরাইলের পাশাপাশি কিছু মুসলিম দেশও সমর্থন দেয়ায় লারিজানি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, মুসলমানদের ঐক্যের দিন হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ (সা)'র পবিত্র নব্যুয়ত প্রাপ্তি দিবসে ইসলাম ধর্ম বিরোধী নেতা এবং ইসরাইলের পাশে দাঁড়ানো কী তাদের জন্য লজ্জা ও অপমানজনক নয়?

লারিজানি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম ঐক্য এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিদার দেশগুলো একদিকে সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে এবং অন্যদিকে মুসলিম জাতিগুলোর ওপর হামলায় ইসলাম বিরোধী নেতাদের কাছে নিজেদের সম্পদ বিলিয়ে দিচ্ছে।

ইরান বলেছে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা সেদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাও নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।

রোববার সৌদি আরবের জাহরান শহরে অনুষ্ঠিত আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়, কোনো কোনো আরব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরান হস্তক্ষেপ করছে।

এ অভিযোগের ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেন, অতীতের মতো এবারো আরব দেশগুলো ময়দানের বাস্তবতা উপেক্ষা করে ইরানের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে।

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত তিনটি দ্বীপ তুম্বে কুচেক, তুম্বে বোজোর্গ ও আবু মুসাকে ইরানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বাহরাম কাসেমি বলেন, এসব দ্বীপের নাম পরিবর্তন করার অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।

রোববার আরব লীগের ২৯তম শীর্ষ সম্মেলন থেকে প্রকাশিত ইশতেহারে ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করা হয়। সেইসঙ্গে ইরানের তিনটি দ্বীপ তুম্বে কুচাক, তুম্বে বোজোর্গ ও আবু মুসা দ্বীপের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মালিকানা দাবি করছে তার প্রতি সমর্থন জানানো হয়।

কাসেমি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান সহিংসতা ও যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এসব দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জাহরান সম্মেলন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু আরব লীগের এ শীর্ষ সম্মেলন থেকে প্রকাশিত ইশতেহারে সৌদি আরবের ধ্বংসাত্মক নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।

সিরিয়ায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের লক্ষ্য বর্ণনা করতে গিয়ে কাসেমি বলেন, সিরিয়ার সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিদের কাছ থেকে দেশের বিশাল এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। সরকারের এ বিজয় সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক পাশ্চাত্যের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন। কাজেই সে বিজয়ের ধারাবাহিকতায় ছেদ আনার লক্ষে সিরিয়ায় আগ্রাসন চালানো হয়েছে।

ইরানের এ মুখপাত্র বলেন, যখনই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সিরিয়ার সেনাবাহিনী বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে তখনই কোনো না কোনো বাহানায় দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে পাশ্চাত্য। সিরিয়ায় তৎপর বিদ্রোহীদের পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এ ধরনের হামলা চালানো হয়।

বাহরাম কাসেমি বলেন, সব আন্তর্জাতিক আইন ও ঘোষণার মানদণ্ডে এ হামলা বেআইনি ও অন্যায়। আমেরিকা এর আগেও জাতিসঙ্ঘকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও ইরাকে আগ্রাসন চালিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জাতিসঙ্ঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তার কার্যকারিতা হারাবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫