ঢাকা, রবিবার,২২ এপ্রিল ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্য

'সিরিয়ায় সাম্রাজ্যবাদের কবর রচিত হবে'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ এপ্রিল ২০১৮,সোমবার, ১৬:৩৩


প্রিন্ট
'সিরিয়ায় সাম্রাজ্যবাদের কবর রচিত হবে'

'সিরিয়ায় সাম্রাজ্যবাদের কবর রচিত হবে'

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট জামাল আব্দুন নাসেরের ছেলে আব্দুল হাকিম নাসের বলেছেন, সিরিয়া হচ্ছে আরব বিশ্বের হৃদপিণ্ড এবং সিরিয়াতেই সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদীদের কবর রচিত হবে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

সিরিয়ায় গত শনিবারের ইঙ্গ-মার্কিন ও ফরাসি হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি ওই হামলাকে মিশরে ১৯৫৬ সালে ইসরাইল, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের আগ্রাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

আব্দুল হাকিম নাসের আরো বলেছেন, ১৯৫৬ সালে মিসর আগ্রাসীদের মোকাবেলা করেছিল এবং সিরিয়া মিসরের পক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেছিল।

তিনি আরো বলেছেন, নব্য উপনিবেশবাদীরা ভাবছে আরব দেশগুলোর বিশ্বাসঘাতকরা জনগণের ওপর সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদীদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য চাপিয়ে দিতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে তারা ব্যর্থ হবে।

জামাল আব্দুন নাসের ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মিসরের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে সবচেয়ে জনপ্রিয় আরব নেতাদের মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচনা করা হয়।

সিরিয়ায় নিহত সাড়ে ৩ লাখ, গৃহহীন এক কোটি ২০ লাখ

সিরিয়ায় সাত বছরের গৃহযুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। গৃহহীন হয়েছে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক।

এ সময়ের মধ্যে হয়েছে নানা সমঝোতা চেষ্টা। কিন্তু কিছুই কাজে আসেনি। ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের উদ্যোগও। বর্তমানে ভেঙে পড়েছে পুরো সিরিয়া। সংঘাতের শিগগিরই কোনো সমাধান হবে- এমন আশাও করা যাচ্ছে না।

আর এখনতো সেখানে চলছে যুদ্ধ। হতাহত হচ্ছে মানুষ। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে তুরস্ক, ইরান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো অনেক দেশ।

সিরিয়ান বাহিনীর ভয়ঙ্কর ধর্ষণ অস্ত্র

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সর্বশেষ রিপোর্টে বিদ্রোহীদের দমনে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ‘নারীরা দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছেন’ বলে ওই রিপোর্ট শেষ করা হয়। এ দিকে সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় শুক্রবার রাশিয়া ও সিরীয় বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন।


যৌন নিপীড়নের শিকার সাড়ে চার শ’র বেশি মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জাতিসঙ্ঘের এই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়, যেখানে যৌন নিপীড়নের লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, নারী ও শিশুদের পাশাপাশি পুরুষেরাও ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বয়োজ্যেষ্ঠ নারীরাও রেহাই পাননি।

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাড়িঘরে তল্লাশি চালানোর সময়, বিভিন্ন চেকপয়েন্টে এবং ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বাশার আল-আসাদ বাহিনী খুবই ভয়ঙ্কর ও পরিকল্পিতভাবে যৌন নিপীড়ন করে বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়।
এক নারী বলেন, ‘আমার বাড়িতে সেনারা তল্লাশি করতে আসে, তাদের একজন আমাকে আমার কক্ষে যেতে বলে এবং আমার পেছন পেছন সেখানে যায়। সে আমাকে নিপীড়ন শুরু করে এবং বলে, সে এমন কিছু করবে যা আমি কোনো দিন পরিষ্কার করতে পারব না। আমি চিৎকার করছিলাম; কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।’

সেনারা নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করত এবং নগ্ন অবস্থায় ট্যাঙ্কের সামনে দিয়ে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করত। এক নারী জানান, তাকে তার ভাইয়ের সামনে ধর্ষণ করা হয়। অন্য একজন বলেন, তাকে তার স্বামী ও তিন সন্তানের সামনেই ধর্ষণ করে সেনারা। যেসব নারী ধর্ষণে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তাদের হত্যা করা হয়। অনেক নারীকে ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তাদের পুরুষ স্বজনেরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জেনেভায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৭তম অধিবেশন শুরু হয়েছে, চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। ওই অধিবেশনে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।

এ দিকে সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় শুক্রবার রাশিয়া ও বাশার বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাটির একটি জনাকীর্ণ বাজারে বিমান হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস এ বিমান হামলা ও হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হেলমেটস জানিয়েছে, পূর্ব গৌতার কাফর বাতনা শহরে চালানো ওই হামলায় ৭৮ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।


ওয়াশিংটন পোস্ট ও গার্ডিয়ান

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫